মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:২১

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-৪৭

তরপুরচণ্ডী ইউনিয়নের উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ

-----চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইতিহাস গাজী

মোহাম্মদ আবদুর রহমান গাজী
তরপুরচণ্ডী ইউনিয়নের উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হওয়ার ঘোষণা

চাঁদপুর সদর উপজেলার তরপুরচণ্ডী ইউনিয়নের সুযোগ্য সন্তান এবং একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা ইতিহাস গাজী। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার উত্তরসূরি হিসেবে এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করার দৃঢ় ইচ্ছা নিয়ে তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হওয়ার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা এবং পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যর মিশেলে তিনি চান সাধারণ মানুষের সেবক হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত করতে। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের দোরগোড়ায় কাঙ্ক্ষিত সেবা পৌঁছে দেওয়াই তার মূল লক্ষ্য। এ ব্যাপারে তিনি চাঁদপুর কণ্ঠকে যে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, নিচে তা প্রশ্নোত্তর আকারে পত্রস্থ করা হলো--

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কেন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন? আপনার পরিচিতি সম্পর্কে কিছু বলুন।

ইতিহাস গাজী : আমি একজন প্রবাসী। দেশে আসার পর তৃণমূলের মানুষের সাথে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে সম্পৃক্ত হয়েছি। আমাদের পরিবারের অনেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও আমি দল-মত নির্বিশেষে সবসময় মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। এলাকাবাসী অতীতে তরপুরচণ্ডী ইউনিয়নে অনেক চেয়ারম্যান দেখেছেন, কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তারা প্রায়ই কাঙ্ক্ষিত সেবা পাননি। তাই সাধারণ জনগণের দাবির প্রেক্ষিতেই আমি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হয়েছি।

আমার বাবা হাজী মোহাম্মদ চুন্নু গাজী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনিও আমার মতো প্রবাসী ছিলেন। আজ বাবা বেঁচে থাকলে হয়তো এলাকার মানুষ তাঁর কাছ থেকে আরও বেশি সহযোগিতা পেতেন। আমি আমার বাবার একমাত্র ছেলে এবং আমার মা ও চার বোন রয়েছেন।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচিত হলে আপনার ইউনিয়নের জন্যে প্রথম তিনটি অগ্রাধিকারমূলক কাজ কী হবে?

ইতিহাস গাজী : আমার প্রধান লক্ষ্য হবে জনগণের চাওয়ার প্রতিফলন ঘটানো। প্রথমত, ইউনিয়নের সেবা ত্বরান্বিত করতে ইউনিয়ন ভবনটি মূল ইউনিয়ন এলাকায় স্থানান্তর করা। কারণ বর্তমানে এই ইউনিয়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম চাঁদপুর পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ড এলাকায় পরিচালিত হয়, যার ফলে দরিদ্র মানুষের সেবা পেতে চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। দ্বিতীয়ত, যেহেতু এই ইউনিয়নের মানুষের জীবন-জীবিকা মূলত কৃষির ওপর নির্ভরশীল, তাই ইউনিয়নটিকে কৃষিবান্ধব হিসেবেই টিকিয়ে রাখতে হবে। ইউনিয়নটি যদি পুরোপুরি পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, তবে ট্যাক্স বেড়ে যাবে এবং কৃষি কাজ ব্যাহত হবে। তৃতীয়ত, শিক্ষার মানোন্নয়নে পুরো ইউনিয়নে পর্যাপ্ত স্কুল ও মাদ্রাসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং বেকার যুবকদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় সমস্যা কী এবং তা সমাধানে আপনার পরিকল্পনা কী?

ইতিহাস গাজী : তরপুরচণ্ডী ইউনিয়নের মেঘনা নদীর ভাঙন একটি বড় সমস্যা। এই ভাঙন রোধে চাঁদপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শ অনুযায়ী একটি দীর্ঘস্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে আমার। এছাড়া জলাবদ্ধতা দূরীকরণে খাল খনন ও কালভার্ট নির্মাণ এবং দারিদ্র্য বিমোচনে এলাকাভিত্তিক গ্রুপ গঠন করে মানুষকে স্বাবলম্বী করার পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

চাঁদপুর কণ্ঠ : ভোটাররা কেন অন্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে আপনাকেই ভোট দেবেন বলে আপনি মনে করেন?

ইতিহাস গাজী : ভোট একটি পবিত্র আমানত। জনগণ দীর্ঘদিন ভোটবিহীন অবস্থায় থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে জনগণ আবারও ভোটের পরিবেশ ফিরে পাচ্ছেন। মানুষ এখন কোনো নির্দিষ্ট দলের লেজুড়বৃত্তি না করে একজন যোগ্য স্বতন্ত্র প্রার্থীকে জয়ী করতে চায়। জনগণই আমার মূল শক্তি। আমি ব্যক্তিগত কোনো পাওয়ার আশায় নয়, বরং জনগণের সেবক হয়ে তাদের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে চাই। মহান আল্লাহর রহমতে আমি নির্বাচিত হলে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করবো।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়