প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৩৪
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ)
সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নবাসী ভূমিপুত্র এম এ হান্নানকে দুহাত ভরে ভোট দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদ সর্বাধিক কেন্দ্রে এগিয়ে থেকেও বিজয়ী হতে না পারায় চলছে বিচার বিশ্লেষণ। চলছে ফলাফলের চুলচেরা বিশ্লেষণ। মাত্র ৫ হাজার ২০ ভোটের ব্যবধানে লায়ন হারুনুর রশিদকে হারিয়ে অধরা বিজয় অর্জন করেন স্বতন্ত্র তথা চিংড়িং প্রতীকের প্রার্থী এম এ হান্নান।
|আরো খবর
ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এম এ হান্নানের এই বিজয়ের পেছনে নিজের জন্মস্থান সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের বাসিন্দারা তাঁকে দুহাত ভরে ভোট দিয়েছেন। এর পাশাপাশি আঞ্চলিকতার টান হিসেবে আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নেও তিনি ভালো ভোট পেয়েছেন।
সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের মোট ২৩ হাজার ৭২৯ জন ভোটারের মধ্যে ৫৮.০৮ ভাগ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ইউনিয়নের মোট ৬টি কেন্দ্রে এম এ হান্নান সর্বাধিক ৯ হাজার ৩৪৭টি ভোট পেয়েছেন। যা প্রাপ্ত ভোটের ৩৯ ভাগ। এই ইউনিয়নে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জামায়াত প্রার্থী বিল্লাল হোসেন মিয়াজী (২৫১৪ ভোট) । ১৪০০ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন ধানের শীষের প্রার্থী।
অপরদিকে ধানের শীষ প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদের জন্মস্থান রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের মোট ভোটার সংখ্যা ২১হাজার ৩৭জন। এর মধ্যে ৫১.২৮ ভাগ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। প্রাপ্ত ভোটের ২৬ ভাগ (৫৮৪১) ভোটাররা তাদের ভূমিপুত্রকে ভোট প্রদান করেন। ৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭টি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রার্থী বিজয়ী হন। একটি কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী বিজয়ী হন। ৩৭৮৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন জামায়াত প্রার্থী। অপরদিকে নির্বাচনে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী চিংড়ি প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১০৩৬টি।
সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিজের ইউনিয়নে ভোটের হারে ভোট কম প্রাপ্তি, জামায়াত প্রার্থীর ভালো অবস্থান নেয়ার কারণে তুলনামূলক কম ভোট পেয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী। যার ফলে মোট ভোটে গিয়ে এগিয়ে যায় স্বতন্ত্র প্রার্থী। এতে ভূমিপুত্রের জয়ে একদিকে সুবিদপুর পশ্চিমে ছিলো উল্লাস। বিপরীতে রূপসা দক্ষিণে ছিলো বিমর্ষতা।
প্রতীক নিয়ে বিএনপি প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদ মোট ১১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫২টি কেন্দ্রে পাস করলেও সার্বিক ফলাফলে পিছিয়ে পড়ে জয় বঞ্চিত হন। বৃহস্পতিবার
(১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ১৫ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত আসনটিতে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনী এলাকায় মোট ভোটার সংখ্যা ছিলো ৩ লাখ ৯১ হাজার ২৬০ জন। মোট ১১৮টি ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ১৫ হাজার ৬৮৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদ ১১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫২টি কেন্দ্রের ঘোষিত ফলাফলে বিজয় অর্জন করেন। তবে অন্য কেন্দ্রগুলোর ফলাফলসহ মোট ভোটের হিসাব অনুযায়ী তাঁকে দ্বিতীয় অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। ভোট গণনায় তিনি মোট ৬৭ হাজার ৮৩৩ ভোট পান।
এছাড়া প্রবাসী ও দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত ভোটারদের অংশগ্রহণে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ৬ হাজার ৬০৪ ভোট পড়ে, যার মধ্যে ছিলো ধানের শীষ প্রতীকে ১ হাজার ৩২২ ভোট। সব মিলিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদ মোট ৬৯ হাজার ১৫৫ ভোট পেয়েছেন ।
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর নিজ ইউনিয়ন রূপসা দক্ষিণের ৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭টি কেন্দ্রে তিনি বিজয়ী হন। একটি কেন্দ্রে জামায়াত প্রার্থী বিজয়ী হন। প্রাপ্ত ভোটের ২৬ ভাগ ভোট অর্থাৎ ৫৪৮১টি ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ভোট পেয়েছেন। এই ৮টি কেন্দ্রে দ্বিতীয় স্থানে থাকা জামায়াত প্রার্থী পেয়েছেন ৩৭৮৫ ভোট ও বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছেন ১০৩৬ ভোট। এই ইউনিয়নে গড় ভোট পড়ে ৫১.২৮ ভাগ।
বিপরীতে বিএনপির সাবেক উপজেলা আহ্বায়ক বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী তাঁর নিজের ইউনিয়ন সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের ৬টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ভোটের ৩৯ ভাগ অর্থাৎ ৯৩৪৭টি ভোট পেয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জামায়াত প্রার্থী ২৪১৪ ভোট ও ধানেরশীষ প্রার্থী ১৪০০ ভোট পেয়েছেন। এই ইউনয়িনে গড় ভোট পড়ে ৫৮.০৮ ভাগ।
অর্থাৎ স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজের ইউনিয়নে শতকরা ১৩ ভাগ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়েছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সর্বোচ্চসংখ্যক কেন্দ্রে এগিয়ে থাকলেও সামগ্রিক ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর জয় নিশ্চিত হয়নি। নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে এলাকাজুড়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে, শুক্রবার ও শনিবার সারাদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে চলছিলো নানা তর্ক-বিতর্ক।








