প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০০:০০
এই কাজগুলোই ক'টি সংগঠন করে?

চাঁদপুর জেলার অন্যতম সামাজিক সংগঠন বদলাও ইয়ূথ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নারীদের আত্মকর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী ‘পারিবারিক হাঁস-মুরগী পালন’ প্রশিক্ষণ শেষে সনদ ও উন্নত জাতের মুরগী বাচ্চা বিতরণ করা হয়েছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর চাঁদপুর-এর সহযোগিতায় এই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়। সংগঠনটির সভাপতি মুহাম্মদ আবদুর রহমান রিজভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইয়াসির আরাফাত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, চাঁদপুর। তিনি তাঁর বক্তব্যে সংগঠনের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং আধুনিক বিশ্বের সাথে এগিয়ে যেতে কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দেশের বাইরে বাংলাদেশীদের অবস্থান নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ মনির হোসেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে প্রায় অর্ধশত বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। বদলাও ইয়ুথ ফাউন্ডেশন সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী কাজের পাশাপাশি যুবদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে, যা আত্মকর্মসংস্থানের জন্যে জরুরি বলে আমি মনে করি।
বদলাও ইয়ুথ ফাউন্ডেশন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহযোগিতা নিয়ে 'পারিবারিক হাঁস-মুরগী পালন' বিষয়ে সপ্তাহব্যাপী যে প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে, সেটা গতানুগতিকতার বাইরে কম-বেশি ভালো কাজ বললে অত্যুক্তি হবে না। কারণ, আমাদের সমাজে বিদ্যমান বহুবিধ সংগঠনের মধ্যে ক'টি এমন কাজ করে--সেটা বিবেচ্য বিষয়। সমাজে পিছিয়ে পড়াদের একটি বড়ো অংশ নারী, যারা নানা সুবিধা বঞ্চিত। এদেরকে সামান্য প্রশিক্ষণ দিলে এরা সেটিকে কাজে লাগিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজেদের কীভাবে বদলাতে পারে, উন্নয়ন সাংবাদিকতায় সংশ্লিষ্টদের জীবনধর্মী প্রতিবেদনগুলোর প্রতি লক্ষ্য করলেই সেটা সহজে অনুধাবন করা যায়। বদলাও ইয়ুথ ফাউন্ডেশন যে সকল নারীকে আত্মকর্মসংস্থানের জন্যে হাঁস-মুরগী পালনের প্রশিক্ষণ দিলো ও উন্নত জাতের মুরগির বাচ্চা প্রদান করলো, তারা যদি ফলোআপ অব্যাহত রাখে, দেখা যাবে প্রশিক্ষিত নারীদের কেউ কেউ পারিবারিক পরিবেশে হাঁস-মুরগি পালন করেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করে নিজেকে দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করবে। নারীদেরকে যদি সেলাই, শাক-সবজি চাষ ও গরু-ছাগল পালনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়, তাতেও তারা সাফল্য দেখিয়ে তাক লাগিয়ে দেয়। নারীর ক্ষমতায়নের প্রশ্নে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বিতার গুরুত্ব যারা উপলব্ধি করে, তারা বদলাও ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের মতোই কাজ করে, যে কাজে অর্থের চেয়ে সময় ও স্বেচ্ছাশ্রম দেয়ার আন্তরিকতাই বেশি থাকতে হয়। বদলাও ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের সেই আন্তরিকতা আছে বলে আমরা মনে করি। সেজন্যে তাদের জন্যে প্রণোদনাস্বরূপ ধন্যবাদ জানাতে আমাদের কার্পণ্য ত্যাগ করলাম। আমরা মনে করি, রাষ্ট্র আমাদের পুরোপুরি বদলাতে পারবে না, যদি না আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্রমশ নিজেদের বদলাতে ছোট ছোট উদ্যোগে চেষ্টা না করি।