শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫  |   ৩০ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৪, ০০:০০

মনে পড়ে গেলো কচুয়ার পুরানো দিনের কথা

অনলাইন ডেস্ক
মনে পড়ে গেলো কচুয়ার পুরানো দিনের কথা

‘এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ কচুয়ায় দুই কেন্দ্র সচিবসহ ৫ জন প্রত্যাহার ॥ দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার’ শিরোনামে গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদে ফরহাদ চৌধুরী লিখেছেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে কচুয়া উপজেলার পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজ ও নিন্দপুর মহীউদ্দীন খান আলমগীর স্কুল এন্ড কলেজের দুই কেন্দ্র সচিবসহ ৫ জনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এরা হচ্ছেন পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ আবুল খায়ের ও নিন্দপুর মহীউদ্দীন খান আলমগীর স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ হাবিবুর রহমান। ৮ জুলাই রোববার কচুয়া ইউএনওর চিঠির আলোকে এই ব্যবস্থা নেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। একই অভিযোগে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ওই দুই কেন্দ্রের অতিরিক্ত সুপারভাইজিং কর্মকর্তা কেএম সোহেল রানা, উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসার জয়নাল আবেদীন ও প্রভাষক আরিফুর রহমান চৌধুরীকেও প্রত্যাহার করা হয়। জানা গেছে, এবারের এইচএসসির বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার দিন কচুয়ার নিন্দপুর মহীউদ্দীন খান আলমগীর স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রের তৃতীয় তলার ১০৭ নম্বর কক্ষে পরীক্ষার্থীরা কেউ বই খুলে, কেউবা বাইরে থেকে উত্তরপত্র সংগ্রহ করে। আবার একজন অন্যজনের খাতা দেখে পরীক্ষা দিচ্ছিল। এ বিষয়টি ওই কেন্দ্রের কেউ একজন গোপনে ভিডিও করে বাইরে প্রচার করে। বিষয়টি তখন প্রশাসনের নজরে আসে। কিন্তু ওইদিন ওই কেন্দ্রে অতিরিক্ত সুপারভাইজিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন কচুয়া উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার কেএম সোহেল রানা। বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকার অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে এ ঘটনায় প্রশাসন দুই কেন্দ্রের অতিরিক্ত সুপারভাইজিং কর্মকর্তা পরিবর্তন করে সোমবার নতুন দুজনকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এরা হচ্ছেন পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক বিল্লাল হোসেন মোল্লা ও নিন্দপুর মহীউদ্দীন খান আলমগীর স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। ইউএনও এহসান মুরাদ বলেন, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকেও একটি তদন্ত টিম এসেছে। এদিকে নিন্দপুর মহীউদ্দীন খান আলমগীর স্কুল এন্ড কলেজে মঙ্গলবার আইসিটি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের রাকিব মোল্লা ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার মোঃ হৃদয় মিয়াকে অনিয়মের অভিযোগে বহিষ্কার করেছে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শন টিম।

বিংশ শতাব্দীর শেষ তিন দশকে কচুয়ায় এইচএসসি ও ডিগ্রি পরীক্ষার নামে একজন অধ্যক্ষের ‘ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতায়’ (!) যা হতো, তা গল্পকেও হার মানাতো। এই অধ্যক্ষ শিক্ষাবোর্ড ও ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে ননকলেজিয়েট/ডিসকলেজিয়েট শিক্ষার্থীকে টেস্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করা সত্ত্বেও, এমনকি টেস্ট পরীক্ষার পূর্বাপর অন্য কলেজের শিক্ষার্থীকে নিজ কলেজের শিক্ষার্থী বানিয়ে চুক্তিভিত্তিক ফরম ফিলআপ করাতেন এবং পরীক্ষা পাসের গ্যারান্টি দিতেন। পরীক্ষার সময় অবাধ নকল করা, বই দেখে লেখা, অন্যের খাতা দেখে লেখা, এমনকি কেন্দ্রের বাইরে থেকে উত্তরপত্র লিখে জমা দেয়াসহ হেন কোনো অনিয়ম নেই যে হতো না। এমনটি যে কেবল কচুয়ায় হতো, তা কিন্তু নয়। দেশের বিভিন্ন স্থানেই হতো। পরীক্ষার এই ভয়াবহ অনিয়মের বিরুদ্ধে নূতন শতাব্দীতে এসে সোচ্চার হয়ে উঠেন কচুয়ার কৃতী সন্তান আ. ন. ম. এহসানুল হক মিলন। তবে একক ক্ষমতাবলে নয়। তিনি ২০০১ সালে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হবার পর শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত হন এবং পাবলিক পরীক্ষাসহ অন্যান্য পরীক্ষার অনিয়মের বিরুদ্ধে রীতিমত জিহাদ ঘোষণা করেন। যেটির ধারাবাহিকতা তাঁর উত্তরসূরি শিক্ষামন্ত্রীগণ কম-বেশি রক্ষা করেন। ফলে ঢালাও/দেদার নকল করাসহ পরীক্ষার অন্যান্য অনিয়ম ব্যাপক হ্রাস পায়। যার সুফল এখনো বহাল আছে। এরই মধ্যে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় কচুয়ার দুটি প্রত্যন্ত এলাকার কেন্দ্রে যা ঘটার সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে জানা গেলো, তাতে কচুয়ার পুরানো দিনের কথা তথা গেল শতাব্দীর কথা মনে পড়ে গেলো। ধন্যবাদ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে, যারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করে দুটি কেন্দ্রে পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করেছেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়