শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৩

স্মরণকালের সবচে’ নির্বিঘ্ন দুর্গোৎসব হলো এবার, এমনটি হোক বারবার

অনলাইন ডেস্ক
স্মরণকালের সবচে’ নির্বিঘ্ন দুর্গোৎসব হলো এবার, এমনটি হোক বারবার

দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাঙালির ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনারও এক অনন্য প্রকাশ। শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে প্রতিবছরই মানুষের মধ্যে তৈরি হয় আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও মিলনের আবহ। তবে উৎসবের প্রকৃত সার্থকতা তখনই, যখন তা নির্বিঘ্নে, নিরাপদে ও সর্বজনীন অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হয়। এবারের দুর্গোৎসব সত্যিই স্মরণকালের অন্যতম নির্বিঘ্ন উৎসব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক এবং প্রশংসার দাবিদার।

একটি শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর দুর্গোৎসব আয়োজনের পেছনে থাকে এমপিসহ সকল জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্যাপন কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক, শাসক দলসহ সকল রাজনৈতিক দল ও সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। মণ্ডপে মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা, দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানো এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার মতো দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে পালিত হলে উৎসব হয়ে ওঠে সর্বোচ্চ প্রাণবন্ত। এবারের আয়োজন এসব ক্ষেত্রে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় সংশ্লিষ্ট সবার অবদান অবশ্যই স্বীকৃত হওয়া উচিত।

বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় ধর্মীয় উৎসবের নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ধর্ম যার যার, উৎসবের আনন্দ সবারÑএই চেতনা কেবল স্লোগানে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায় যেন ভয়, শঙ্কা কিংবা বৈষম্যের মধ্যে উৎসব পালন করতে বাধ্য না হয়, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজের পরিচয়। তবে একটি নির্বিঘ্ন উৎসবের সাফল্যকে কেবল তাৎক্ষণিক অর্জন হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং এবারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের উৎসবগুলোকে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলক করে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। নিরাপত্তাব্যবস্থার ধারাবাহিক উন্নয়ন, স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়, গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারণা প্রতিরোধ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চর্চা জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি উৎসব আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত সবার অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ মূল্যায়ন করে দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করতে হবে।

আমরা চাই, এবারের দুর্গোৎসবের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের জন্য একটি স্থায়ী দৃষ্টান্ত হয়ে থাকুক। প্রতি বছরই যেন মানুষ নির্ভয়ে মণ্ডপে যেতে পারে, আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারে এবং উৎসব শেষে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে; কোনো ধর্মীয় উৎসব যেন নিরাপত্তার উদ্বেগে ম্লান না হয়, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন সম্প্রীতির বন্ধনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে।

স্মরণকালের সবচেয়ে নির্বিঘ্ন দুর্গোৎসবের অভিজ্ঞতা যদি আমাদের মধ্যে নতুন আস্থা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের প্রত্যয় জাগিয়ে তোলে, তবে সেটিই হবে সবচেয়ে বড় অর্জন। উৎসবের এই শান্তি ও সৌহাদর্য ছড়িয়ে পড়ুক সমাজের প্রতিটি স্তরে। এবারের দুর্গোৎসবের সাফল্য হোক আগামী দিনের পথনির্দেশক। এমন নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও সম্প্রীতিময় দুর্গোৎসবই হোক বারবারÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়