প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৭
ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলোরে দুনিয়ায়
হুজুর (দঃ)-এঁর পিতা-মাতার বিবাহ
প্রসঙ্গ : বিবি আমেনার গর্ভে নূরে মোহাম্মদীর সরাসরি গমন

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
একজন সাধারণ মহিলা হয়েও উম্মে কিতাল নবী করিম (দঃ)-কে নূর হিসেবে প্রত্যক্ষ করতে সক্ষম হলো। কিন্তু হতভাগা ওহাবীরা তঁাকে প্রত্যক্ষ করল মাটির মানুষ হিসেবে। আব্দুল কাহ্হার সিদ্দিকী নামে আওর মোহাম্মদীয়া বাতিল তরিকার জনৈক পীর তার অসিয়ত ও নছিয়ত নামায় নবী করিম (দঃ)-কে সাধারণ মানুষ প্রমাণ করার জন্য লিখেছে “নবী পাক (দঃ) পিতার নাপাকী থেকে মায়ের নাপাকীর সাথে মিশে আবার নাপাক জায়গার ভিতর দিয়েই পৃথিবীতে এসেছেন।” নাউযুবিল্লাহ! আস্তাগফিরুল্লাহ!
এমন অশালীন ও অসভ্য উক্তি একজন অমুসলিমও কোনোদিন করে নি। আল্লাহ এসব দুষমনে রাসুলের সংশ্রব থেকে মুসলমানদের রক্ষা করুন। উক্ত অর্বাচীন পীর নবী করিম (দঃ) -কে মাটির মানুষ বলেও উল্লেখ করেছে। আমি ১৯৯৫ ইংরেজিতে দৈনিক ইনকিলাবে বিজ্ঞাপন দিয়ে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম, কিন্তু সে তাতে আসেনি।
পিতার ইন্তিকাল:
হযরত বিবি আমেনা (রাঃ) নূরনবীকে গর্ভে ধারণ করার দুই মাস পরেই হযরত আবদুল্লাহ (রাঃ) ব্যবসা উপলক্ষে সিরিয়া গমন করে সেখান হতে ফেরার পথে মদিনায় মাতুলালয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেখানেই ইনতিকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন! তঁাকে “দারুন নাবেগা” নামক মহল্লায় (বর্তমান মসজিদে নববীর ভিতরে) দাফন করা হয় (বেদায়া)। এভাবে শিশুনবী (দঃ) জন্মের পূর্বেই ইয়াতিমে পরিণত হন। গর্ভের প্রায় নয় মাস অতিক্রান্ত হবার পর রবিউল আউয়াল মাসের দ্বাদশ তারিখ সোমবার সোবহে সাদেকের সময় দিবা-রাত্রির সন্ধিক্ষণে জগতকে আলোকিত করে ধরাধামে শুভাগমন করেন আল্লাহর প্রিয় হাবীব শেষনবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।
বেলাদতের তারিখ ও দিনের সমাধান :
আজকাল এক শ্রেণীর লোক বলে বেড়ায় নবী করিম (দঃ)-এঁর জন্ম তারিখ সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে নাকি মতভেদ রয়েছে। সুতরাং ১২ই রবিউল আউয়াল তারিখটি যে ঠিক - তা কী করে বলা যাবে?
এর জবাবে আমরা বলবো - যদি সহীহ বর্ণনায় এই তারিখটি প্রমাণিত হয়, তাহলে কি তারা এই দিনটি মীলাদুন্নবী দিবস হিসেবে পালন করতে রাজী আছেন? না, তা কখনও আশা করা যায় না। আপনারা দিবস পালন করুন আর নাই করুন, নবী করিম (দঃ) যে এই তারিখেই জন্মগ্রহণ করেছেন - তার অকাট্য প্রমাণ নিন।
আপনাদেরই গুরু ইবনে কাছির তার বেদায়া ও নেহায়া গ্রন্থের ২য় খন্ডের ২৬০ পৃষ্ঠায় (পুরাতন) এবং হাফেয আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ (ওফাত ২৫৩ হি:) সহীহ সনদে হযরত জাবের ও হযরত ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আফফান ও সায়ীদ ইবনে মীনা’র সহীহ সনদ সূত্রে হুযুর আকরাম [ﷺ]-এঁর জন্মতারিখ ও ইনতিকাল তারিখ সম্পর্কে নিম্নে উল্লেখিত হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন-
অর্থঃ-”হযরত আফফান থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত সায়ীদ ইবনে মীনা থেকে, তিনি হযরত জাবের (রাঃ) ও হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। জাবের ও ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন- “নবী করিম (দঃ) হস্তীবাহিনী বর্ষে সোমবার দিনে ১২ রবিউল আউয়াল তারিখে জন্মগ্রহণ করেছেন, এই দিনেই তিনি নবুয়তের দায়িত্ব পেয়েছেন, এই দিনেই তিনি হিজরত করেছেন এবং এই দিনেই ওফাত পেয়েছেন।” ইবনে কাছির বলেন - “এটাই প্রসিদ্ধ ও মশহুর মত”(বেদায়া ও নেহায়া ২য় খন্ড ২৬০ পৃষ্ঠা)।
সুতরাং তাদের নেতার কথা মান্য করা তাদের জন্য অবশ্য কর্তব্য।








