প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪১
এ দুর্ঘটনা থেকে সতর্ক হবার শিক্ষাই নিতে হবে, অন্যথায়-

চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ বাইপাস সড়কে বৃহস্পতিবার যে দুর্ঘটনা ঘটতে ঘটতে ঘটেনি, সেটিকে নিছক একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্যে একটি বড় সতর্কবার্তা। একটি দ্রুতগামী কাভার্ড ভ্যান হেলে থাকা বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা দেওয়ার পর তারে শর্ট সার্কিট, অগ্নিস্ফুলিঙ্গ এবং বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে-সড়কটির বর্তমান পরিস্থিতি কতোটা বিপজ্জনক। সামান্য এদিক-সেদিক হলেই সেখানে ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটতে পারতো।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, বিপজ্জনকভাবে হেলে থাকা বিদ্যুতের খুঁটিগুলোর ব্যাপারে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন। গণমাধ্যমেও বিষয়টি উঠে এসেছে। এরপরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া দায়িত্বশীলতার ঘাটতিই নির্দেশ করে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটে গেলে তদন্ত কমিটি, দুঃখপ্রকাশ কিংবা ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়ে মানুষের জীবন ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে দুর্ঘটনার আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত ও নিরসন করতে হবে।
বর্তমানে সড়কটির সংস্কার কাজ চলায় এমনিতেই যান চলাচলের জায়গা সংকুচিত। এর সঙ্গে রাস্তার পাশে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা এবং নিয়ম না মেনে ভারী যানবাহন চলাচল পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। সংস্কারকাজ চলাকালে বড় ও ভারী যানবাহনের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ বা নিয়ন্ত্রিত করা তাই সময়ের দাবি। প্রয়োজনে বিকল্প পথ নির্ধারণ করে যানবাহন পরিচালনা করতে হবে, যাতে নির্মাণকাজও নির্বিঘ্নে চলে এবং মানুষের জীবনও নিরাপদ থাকে।
একই সঙ্গে হেলে পড়া বিদ্যুতের খুঁটিগুলো এখনই মেরামত বা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া জরুরি। সংস্কারকাজ চলমান থাকতেই এ কাজ সম্পন্ন করা হলে পরবর্তী সময়ে নতুন সড়ক কেটে পুনরায় কাজ করার প্রয়োজন হবে না। এতে অর্থের অপচয় যেমন কমবে, তেমনি সদ্য সংস্কার করা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে জনমনে যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে, সেটিও এড়ানো সম্ভব। রাস্তার ওপর ও সড়কের একেবারে গা ঘেঁষে রাখা নির্মাণসামগ্রীও দ্রুত সরিয়ে পথচারী ও হালকা যান চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে পৌরসভা ও বিদ্যুৎ বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের কোনো বিকল্প নেই। একটি সড়কের সংস্কারকাজ আর বিদ্যুৎ অবকাঠামোর নিরাপত্তা-দুটিকে আলাদা করে দেখলে চলবে না। কারণ জননিরাপত্তা একটি সমন্বিত বিষয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মাঠপর্যায়ে যৌথভাবে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে।
চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ বাইপাসে বৃহস্পতিবারের ঘটনা আমাদের একটি মূল্যবান শিক্ষা দিয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হলো-আমরা কি সেই শিক্ষা নেবো? নাকি আরও বড় দুর্ঘটনার অপেক্ষায় থাকবো? মানুষের প্রাণহানি ঘটার পর তৎপর হওয়ার চেয়ে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকা অবস্থাতেই ব্যবস্থা নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এ দুর্ঘটনা থেকে সতর্ক হওয়ার শিক্ষাই নিতে হবে; অন্যথায় কোনো একদিন ‘অল্পের জন্য রক্ষা’ কথাটি আর বলার সুযোগটি নাও থাকতে পারে।






