শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ২০:৪৯

নিজের কিডনি দিয়েও স্বামীকে বাঁচাতে পারলো না আকলিমা

এখন আকলিমাকে বাঁচাবে কে?

প্রবীর চক্রবর্তী।।
নিজের কিডনি দিয়েও স্বামীকে বাঁচাতে পারলো না আকলিমা

ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্র 'আগমন' ছবিতে বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী মান্না দের কণ্ঠে গাওয়া বিখ্যাত গান ‘ভালোবাসার এই কিরে খাজনা’--এই গানটিই বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে আকলিমা-দেলোয়ার দম্পতির জীবনে করুণ কাহিনীর কথা। প্রাণের চেয়ে প্রিয় স্বামীর জীবন বাঁচাতে স্ত্রী আকলিমা (২৬) নিজের একটি কিডনি দান করেন কিডনি জনিত রোগে আক্রান্ত হওয়া দেলোয়ার হোসেনকে। কিন্তু বিধির বিধান! কিডনি দিয়েও বাঁচাতে পারেননি দেলোয়ার হোসেনকে (৪২)। স্ত্রী যখন কিডনী দান করে আইসিইউতে, তখনই তিনি চলে যান পরপারে। এতো ত্যাগের পরও প্রাণপ্রিয় স্বামীকে বাঁচাতে না পেরে শোকে পাগল প্রায় দুই সন্তানের জননী আকলিমা এবং তার পরিবারের সদস্যরা। হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ রূপসা গ্রামের পাঠান বাড়িতে।

জানা গেছে, প্রবাসফেরত দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরেই কিডনির বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ভুগছিলেন। একপর্যায়ে কিডনির অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসকরা দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন। তখন তার স্ত্রী আকলিমা বেগম নিজের কিডনি দানের সিদ্ধান্ত নেন। এরপর গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) ঢাকার শ্যামলী সিকেডি হাসপাতালে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কিডনি দান করেন। কিডনি প্রতিস্থাপনের পর দু’দিন স্বাস্থ্যের উন্নতি হলেও তৃতীয় দিনে এসে ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয় দেলোয়ার হোসেনের। একপর্যায়ে গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই দম্পতির ৪ বছর বয়সী আশুরা জাহান ইভা ও ১১ বছরের আফরিন জান্নাত ইরা নামে দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, স্ত্রীর একমাত্র ইচ্ছা ছিলো স্বামীকে সুস্থ জীবন দেয়া। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তা সম্ভব হলো না। এলাকাবাসী ও আত্মীয়স্বজনরা এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং স্ত্রীর আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন।

দেলোয়ারের বড় ভাই আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার ভাইয়ের স্ত্রী আকলিমা বেগম তার স্বামীকে কিডনি দিয়ে দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন। আমার ভাইয়ের মৃত্যুর খবর প্রথমে আমরা তাকে জানাই নি। পরবর্তীতে সে জানতে পেরে এখন নিজেই পাগলপ্রায়। আমাদের অসুস্থ এ বোনটিকে বাঁচাতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। একই কথা বলে হাউমাউ করে কেঁদে দেলোয়ারের বৃদ্ধা মা শামছুন্নাহার বলেন, নিজের কিডনি দিয়েও আমার ছেলেকে বাঁচাতে পারেনি আকলিমা। এখন সে নিজেই মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। তার চিকিৎসা ও অবুঝ দু শিশুর পাশে দাঁড়ানোর জন্যে সবার সহযোগিতা চাই।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহির হোসেন বলেন, আকলিমা বেগমের স্বামীর প্রতি যে ভালোবাসা তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বিরল এ ঘটনার যেমনিভাবে আমরা সাক্ষী হয়েছি, একইভাবে তার স্বামীর মৃত্যুতে আমরা ব্যথিত হয়েছি এবং গভীর শোক প্রকাশ করছি। করুণ এ মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়