প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৬
রাস্তাটির এমন দুরবস্থা কি দ্রুত নিরসনযোগ্য নয়?

একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রসারে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার বিকল্প নেই। কিন্তু চমৎকার ভৌগোলিক অবস্থান ও গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও অবকাঠামোগত অবহেলার কারণে কীভাবে একটি অঞ্চল স্থবির হয়ে পড়তে পারে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজীকান্দি আলিয়া মাদ্রাসায় যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ফরাজীকান্দি দরবার শরীফ ও ‘নেদায়ে ইসলাম’ পরিচালিত এতিমখানা এবং সুবিশাল মাদ্রাসার হাজার হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের চলাচলের পথটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।
মেঘনা-ধনাগোদা বেড়িবঁাধ থেকে শুরু হওয়া রাস্তাটির সিংহভাগই কঁাচা এবং খানাখন্দে ভরা। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই এটি কাদা-পানির এক চরম মৃত্যুফঁাদে পরিণত হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থী ও এতিম শিশুদের জন্য যা শুধু ভোগান্তিরই নয়, বরং জীবনযাত্রার প্রতিদিনের নিরাপত্তা ঝুঁকি। রিকশা বা ভ্যানের মতো হালকা যানবাহন চলাচলেরও উপায় না থাকায় পায়ে হেঁটে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে ধর্মপ্রাণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের। কাদার ভয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে যাওয়া বন্ধ রাখতে হওয়ার ঘটনা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ কতটা বিঘ্নিত হচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপজেলা প্রকৌশলী থেকে শুরু করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-সকলের মুখেই সমাধানের আশ্বাস এবং রাস্তাটির গুরুত্বের স্বীকৃতি রয়েছে। অথচ বাস্তবচিত্রে দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এই ‘আশ্বাস’ প্রক্রিয়ার মধ্যেই জনদুর্ভোগ আটকা পড়ে আছে, যার কোনো দৃশ্যমান বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না।
আমরা মনে করি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মূল সড়ক সচল রাখা প্রশাসনের প্রাথমিক দায়িত্বের অংশ। ফরাজীকান্দি আলিয়া মাদ্রাসায় যাতায়াতের সড়কটির গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর পাকা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা জরুরি। কোনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সময় নষ্ট না করে স্থানীয় প্রশাসন ও সংসদ সদস্যের সমন্বিত পদক্ষেপে এ দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটুক-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।







