প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬, ২১:০৬
সাহিত্য একাডেমির প্রাণবন্ত মাসিক সাহিত্য সভা
প্রয়াত শিক্ষাবিদ সৈয়দ আবদুস সাত্তারের কর্মময় জীবন নিয়ে আলোচনা।। নিয়মিত সাহিত্য সভার ওপর গুরুত্বারোপ

কবি, সাহিত্যিক ও লেখকদের উপস্থাপনা, আড্ডা এবং আলোচনায় চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির বর্তমান কমিটির মাধ্যমে ১৩তম মাসিক সাহিত্য সভাটি বেশ উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। এই সভাটি শুক্রবার (২৬ জুন ২০২৬) বিকেল ৫টা থেকে রাত পৌনে নয়টা পর্যন্ত একাডেমির মোহাম্মদ নাছিরউদ্দীন মিলনায়তনে অনুষ্ঠত হয়। সভায় বক্তারা এই নিয়মিত সাহিত্য সভার গুরুত্ব তুলে ধরেন। চাঁদপুর সরকারি কলেজের কিংবদন্তীতুল্য শিক্ষক (১৯৫৭-৮২), বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদ সৈয়দ আবদুস সাত্তারের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর কর্মময় জীবন নিয়ে আলোচনা করেন সাহিত্য একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক ও চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক কাজী শাহাদাত।
|আরো খবর
একাডেমির বর্তমান মহাপরিচালক কাদের পলাশের সভাপ্রধানে সভাটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সদস্য আরিফুল ইসলাম শান্ত।
বরেণ্য কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর রচিত উপন্যাস (হাঙর নদী গ্রেনেড) নিয়ে আলোচনা করেন একাডেমির পরিচালক মাইনুল ইসলাম মানিক।
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্'র মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে
তাঁর রচিত কবিতার উদ্ধৃতিসহ কবির সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন কবি ও সংগঠক ম. নূরে আলম পাটোয়ারী।
অংশগ্রহণকারী লেখক ও সাহিত্যপ্রেমীরা তাঁদের স্বরচিত বর্ষার কবিতা ও আবৃত্তি, অণুগল্প ও ছোটকাগজ (লিটল ম্যাগ) নিয়ে আলোচনা ও সাহিত্যকর্ম পাঠ করেন।
পাশাপাশি বাংলা সাহিত্যের দিকপালদের
সাহিত্যকর্ম, দর্শন ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, মানবতাবাদ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং সৃজনশীল সাহিত্যকর্মের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সাহিত্য আড্ডা/সভা এখন সময়ের দাবি রাখে।
একাডেমির সহ-সভাপতি আবদুল্লাহিল কাফীর
স্বাগত বক্তব্য শেষে খ্যাতনামা (প্রয়াত) কবি ও সাহিত্যিকদের স্মরণে শোকবার্তা পাঠ করেন চাঁদপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী তামান্না আক্তার।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন একাডেমির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আ.ত.ম. আ. মতিন মোল্লা।
সাহিত্য পাঠ ও আলোচনায় অংশ নেন একাডেমির নির্বাহী সদস্য নুরুন্নাহার মুন্নি, কবির হোসেন মিজি, সুমন কুমার দত্ত, মোখলেছুর রহমান ভূঁইয়া, সাধারণ সদস্য জাহিদ নয়ন, রাজীব কুমার দাস, খোকন মজুমদার, মুহাম্মদ হানিফ, ইমরান শাকির ইমরু, সাদমান শরিফ, ইয়াছিন দেওয়ান, পীকলো সরকার, স্বপন ভঞ্জ, খাইরুল আলম, তানজিল কোতোয়াল, ইয়াছিন, আলম চৌধুরী, এএস পলাশ ও জাহাঙ্গীর আলম তপাদার।
পাঠাগারে নিয়মিত বই পাঠের জন্যে অগ্নিবীণা পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আশ্রাফুজ্জামান, কাজী রাসেল, উৎসব চন্দ্র দে, প্রণয় আইচ কাব্য ও তানিয়া ইসলাম বই প্রদান করেন।
সেরা আড্ডারুর পুরস্কার পান আলম চৌধুরী, তানজিল ও মাজেদা আক্তার। এছাড়া একাডেমির সাধারণ সদস্য আবদুল আউয়াল লিটনের শিক্ষালোকের সৌজন্যে উপস্থিত কবি ও লেখকদের কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী জুলফুর রহমান ও রাবেয়া আক্তারকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের বিশেষ আয়োজন 'পাঠক ফোরাম' বিভাগে নিয়মিত লেখার জন্যে ২০২৫ সালের 'বর্ষসেরা' লেখক পুরস্কার গ্রহণ করেন রাজিব কুমার দাস, ক্ষুদীরাম দাস এবং সাহেদ বিন তাহের।
বিষয়ভিত্তিক কুইজ বিজয়ী (সময়কাল জানুয়ারি ২০২৬) হিসেবে পুরস্কার গ্রহণ করেন রোকেয়া নাসরিন নাকিবা, রুজাত তাবাসসুম সুবাহ, নুহা, মো. ফজলুল হক, এসএম সামিন রহমান ও আবু সাঈদ।
সভাপতির বক্তব্যে কাদের পলাশ বলেন, সাহিত্য মানুষের মনন, মানবিকতা ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে। নিয়মিত সাহিত্য চর্চা এবং সাহিত্যিকদের পারস্পরিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে একটি সুস্থ সাংস্কৃতিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমি সে লক্ষ্যেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বক্তারা সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি নতুন লেখকদের উৎসাহিত করতে এমন আয়োজন আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভাশেষে অংশগ্রহণকারীরা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে একাডেমির ধারাবাহিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।








