শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫২

স্থলে অভিযানের পাশাপাশি লঞ্চে ভোক্তা অধিকারের অভিযান সময়োচিত

অনলাইন ডেস্ক
স্থলে অভিযানের পাশাপাশি লঞ্চে ভোক্তা অধিকারের অভিযান সময়োচিত

ভোক্তা অধিকার রক্ষা এবং বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তৎপরতা সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দেয়। বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) চঁাদপুরের কোর্ট স্টেশন এলাকা ও লঞ্চঘাটে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পরিচালিত অভিযানে দুটি প্রতিষ্ঠানকে অনিয়মের দায়ে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। খবরটি ছোট হলেও এর গুরুত্ব ও বার্তা বিশাল। বিশেষ করে কেবল স্থলভাগের রেস্তোরঁা বা দোকানেই নয়, নদীপথের জলযানে বা লঞ্চে গিয়ে এমন তদারকি চালানো নিঃসন্দেহে এক প্রশংসনীয় এবং সময়োচিত পদক্ষেপ।

চঁাদপুরের কোর্ট স্টেশন এলাকার ‘ঢাকা হোটেল’-এ বাসি গ্রিল, চাপ ও রান্না করা মাংস কঁাচা মাংসের সাথে মিশিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করার অপরাধে জরিমানা করা হয়েছে। হোটেলের খাবারে এ ধরনের অসাধু ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ কারসাজি আমাদের সমাজে এক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। পচা-বাসি খাবার পরিবেশন কেবল ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনই নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। খাবারের ক্ষেত্রে সামান্য অবহেলাও মানুষের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। সেদিক থেকে এ ধরনের রেস্তোরঁাগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা অত্যন্ত জরুরি।

তবে এই অভিযানের সবচেয়ে নজরকাড়া ও গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো ‘এম. ভি. আব এ জমজম-৭’ লঞ্চের ক্যান্টিনে মূল্য তালিকা না থাকা এবং বোতলজাত পানি ও চিপস নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির দায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ। আমাদের দেশে লঞ্চ ও দূরপাল্লার পরিবহনে যাত্রীরা এক প্রকার জিম্মি অবস্থায় থাকেন। নদীপথে যাত্রা শুরু হলে যাত্রীদের কাছে অন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় লঞ্চের ক্যান্টিনগুলো ইচ্ছেমতো দাম হঁাকায়। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে পানি বা স্ন্যাকস বিক্রি করা সেখানে যেন এক অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। নদীপথের এই নৈরাজ্য বন্ধে এতদিন নজরদারি ছিল সীমিত। চঁাদপুর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এই পদক্ষেপ স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, অনিয়মের কোনো নিরাপদ স্থান নেই-তা স্থলভাগেই হোক কিংবা জলে ভেসে চলা কোনো বাহনেই হোক।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সঠিক প্রয়োগ এবং তাৎক্ষণিক জরিমানার মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হচ্ছে, যা ইতিবাচক। তবে কেবল লিফলেট বিতরণ বা কয়েক হাজার টাকা জরিমানা দিয়েই কি এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব? অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, অভিযানের কয়েকদিন পর অসাধু ব্যবসায়ীরা আবার পুরোনো রূপে ফিরে আসে। তাই শুধু সাময়িক জরিমানাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে তদারকি ব্যবস্থাটিকে আরও ধারাবাহিক ও কঠোর করতে হবে। প্রয়োজনে পুনরাবৃত্ত অপরাধের ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল বা কঠোর আইনি ব্যবস্থার বিধান কার্যকর করা দরকার।

জলপথের যাত্রীদের অধিকার রক্ষায় এ ধরনের অভিযান কেবল চঁাদপুরেই নয়, দেশের প্রতিটি ছোট-বড় নৌবন্দর ও লঞ্চঘাটে নিয়মিত হওয়া উচিত। সাধারণ যাত্রীরা যেন জলযানে চলাচলের সময় কোনোভাবেই শোষণের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব।

আমরা আশা করি, জনস্বার্থে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এই প্রশংসনীয় ও সময়োচিত তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্য থামিয়ে ভোক্তা সাধারণকে স্বস্তি দিতে নিয়মিত ও কঠোর মনিটরিংয়ের কোনো বিকল্প নেই।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়