বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ২১:২৭

বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ৩২ বছরের গৌরবগাথা পেরিয়ে ৩৩ বছরে চাঁদপুর কণ্ঠ

নীতি ও সত্যের প্রশ্নে কখনো আপস নয়

: অ্যাড. ইকবাল বিন বাশার

অনলাইন ডেস্ক
নীতি ও সত্যের প্রশ্নে কখনো আপস নয়

আব্দুল্লাহ আল মামুন।।

‘বস্তুনিষ্ঠতাই আমাদের মূলনীতি, পাঠকপ্রিয়তাই আমাদের মূলধন’—এই অঙ্গীকারকে ধারণ করে দীর্ঘ ৩২ বছরের পথচলা অতিক্রম করে ৩৩ বছরে পদার্পণ করলো চাঁদপুরের গণমানুষের আস্থার মুখপাত্র 'চাঁদপুর কণ্ঠ'। সাপ্তাহিক থেকে দৈনিক হিসেবে নিরবচ্ছিন্ন প্রকাশনা অব্যাহত রেখে চলেছে এ পত্রিকাটি। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঝড়-ঝঞ্ঝা, প্রতিকূল পরিস্থিতি পত্রিকাটির অগ্রযাত্রার পথ রুদ্ধ করতে পারে নি।

বুধবার (১৭ জুন ২০২৬) পত্রিকাটির ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চাঁদপুর কণ্ঠ পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী আয়োজনটি ছিলো উৎসবমুখর। চাঁদপুর প্রেসক্লাব ভবনের দ্বিতীয় তলায় এলিট চাইনিজ রেস্তোরাঁয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

জেলার আটটি উপজেলার প্রতিনিধি, সংবাদদাতা, ব্যুরো ইনচার্জ, পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগ, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় সম্পাদক, সাংবাদিক ও লেখকগণ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন। সকাল থেকে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটি বিকেল পর্যন্ত এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়। আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, কেক কাটা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় চাঁদপুর কণ্ঠের গৌরবময় ৩২ বছরপূর্তি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাতা, সম্পাদক ও প্রকাশক আলহাজ্ব অ্যাড. ইকবাল-বিন-বাশার বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা ৩২ বছরের দীর্ঘ পথচলা সফলভাবে অতিক্রম করতে পেরেছি। এই যাত্রাপথ মোটেও সহজ ছিলো না। সত্য প্রকাশের কারণে নানা সময়ে নানা প্রতিকূলতা, চাপ ও ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু আমরা কখনো নীতির প্রশ্নে আপস করিনি।

তিনি বলেন, চাঁদপুর কণ্ঠ প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাঠকের আস্থা অর্জন করাই ছিলো প্রধান লক্ষ্য। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা রাজনৈতিক শক্তির প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার না করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে পত্রিকাটি আজ জেলার মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে বা অসৎ পথে সাময়িকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না। আমরা অনেক বড়ো বড়ো প্রলোভন ও সুযোগ প্রত্যাখ্যান করেছি শুধুমাত্র আমাদের নীতি ও আদর্শ অক্ষুণ্ণ রাখার কারণে। যদি আপস করতাম, তাহলে হয়তো অনেক আগেই বিশাল সম্পদের মালিক হতে পারতাম। কিন্তু আমরা মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসকে সবচেয়ে বড়ো সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করেছি।

চাঁদপুর কণ্ঠের শুরুর সময়কার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি কাজী শাহাদাত ও মির্জা জাকিরের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে পত্রিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল সহকর্মী, প্রতিনিধি ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এবং বিদেশেও চাঁদপুর কণ্ঠের অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছে। ভবিষ্যতে চাঁদপুর কণ্ঠ কমপ্লেক্স নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত করা হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক কাজী শাহাদাত সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে ফলোআপ রিপোর্টিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমরা অনেক সময় সংবাদ প্রকাশ করেই দায়িত্ব শেষ মনে করি। অথচ একটি সংবাদের সামাজিক প্রভাব, সংশ্লিষ্ট মানুষের অবস্থার পরিবর্তন কিংবা প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে অনুসন্ধান করে পরবর্তী সংবাদ প্রকাশ করাই প্রকৃত সাংবাদিকতার অন্যতম দায়িত্ব।

তিনি অতীতের কয়েকটি ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ফলোআপ রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে অসহায় মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।

কাজী শাহাদাত বলেন, সংবাদপত্রের শক্তি শুধু সংবাদ প্রকাশে নয়, বরং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়নে। তাই আমাদেরকে আরও মানবিক, দায়িত্বশীল ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চর্চা করতে হবে।

তিনি বলেন, চাঁদপুর কণ্ঠ কখনো কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর মুখপত্র ছিলো না এবং ভবিষ্যতেও হবে না। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধকে ধারণ করেই এর পথচলা অব্যাহত থাকবে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সবাই হয়তো প্রথম শ্রেণির সাংবাদিক হতে পারবে না, কিন্তু সবাই যেনো ভালো সংবাদ লিখতে পারে এবং মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারে, সেদিকে আমাদের মনোযোগ দিতে হবে। প্রযুক্তির এই যুগে নিজেকে দক্ষ করে তুলতে হবে এবং প্রিন্ট ও অনলাইন উভয় প্ল্যাটফর্মে সংবাদ প্রচারে আরও সক্রিয় হতে হবে।

আলোচনা সভায় চাঁদপুর কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক মির্জা জাকির, বার্তা সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্লাহ, উপদেষ্টা ডা. পীযূষ কান্তি বড়ুয়া, ফরিদগঞ্জ উপজেলা ব্যুরো ইনচার্জ প্রবীর চক্রবর্তী, শাহরাস্তি উপজেলা ব্যুরো ইনচার্জ মঈনুল ইসলাম কাজল, বিভাগীয় সম্পাদক মুহাম্মদ ফরিদ হাসান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাওলানা মোহাম্মদ আবদুর রহমান গাজী, অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর আবু সাঈদ কাউসার, সৌদি আরব ব্যুরো ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়, বিশেষ প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন, মতলব দক্ষিণের ব্যুরো ইনচার্জ রেদওয়ান আহমেদ জাকির, উপজেলা প্রতিনিধি মুহাম্মদ আরিফ বিল্লাহসহ চাঁদপুর কণ্ঠ পরিবারের অন্য সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা আবদুর রহমান গাজী ও গীতা পাঠ করেন প্রবীর চক্রবর্তী। এরপর বার্তা সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্লাহ মোনাজাত পরিচালনা করেন।

বক্তারা বলেন, চাঁদপুর কণ্ঠ শুধু একটি সংবাদপত্র নয়, এটি চাঁদপুরের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, সুখ-দুঃখ ও সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী সাংবাদিকতার মাধ্যমে পত্রিকাটি জেলার গণমানুষের আস্থা অর্জন করেছে।

বিকেল পৌনে ৩টায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক আলহাজ্ব অ্যাড. ইকবাল বিন বাশার, প্রধান সম্পাদক কাজী শাহাদাত, মাহমুদা খানমসহ চাঁদপুর কণ্ঠ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে পত্রিকার উন্নয়ন, প্রসার ও সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দেশে ও বিদেশে সাংবাদিকদের মূল্যায়নধর্মী সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সকলকে মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়িত করা হয়।

দিনব্যাপী এই আয়োজন চাঁদপুর কণ্ঠ পরিবারের আবেগ, ভালোবাসা ও স্মৃতির মিলনমেলায় পরিণত হয়। বক্তারা পত্রিকাটির দীর্ঘায়ু, উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ধারাবাহিকতা কামনা করেন।

সকলের প্রত্যাশা, সত্য, সাহস ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থেকে আগামী দিনেও চাঁদপুর কণ্ঠ গণমানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করবে এবং জেলার সাংবাদিকতার ইতিহাসে নতুন নতুন সাফল্যের অধ্যায় রচনা করবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়