প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩১
বিমাতাসুলভ আচরণের শিকার কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স?

কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে স্বাস্থ্য সেবা নিতে হচ্ছে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা জনগণকে। ভর্তিকৃত রোগীরাও থাকেন সীমাহীন ভোগান্তিতে।
এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে-বাইরে সবখানে দুর্গন্ধময় ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। টয়লেট ও পানি নিষ্কাশনের ড্রেনে ময়লা আবর্জনায় দুর্গন্ধময় পুরো হাসপাতাল এলাকা। টয়লেটগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধে পুরো ওয়ার্ডে অবস্থান করাই দুরূহ ব্যাপার। টয়লেটেগুলোর দরজা ভাঙ্গা। ফলে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে হলে বেকায়দায় পড়তে হয় রোগীদের। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটিতে যেসব ডাস্টবিন রয়েছে তার বেশিরভাগই ব্যবহারের অনুপোযোগী অবস্থায় বিভিন্ন স্থানে পড়ে আছে। যার ফলে
ময়লা-আবর্জনা চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে ময়লা পানি নিষ্কাশনের যে সমস্ত ড্রেন রয়েছে সেগুলো ময়লা আবর্জনায় ভর্তি। এ ড্রেন থেকে ময়লার দুর্গন্ধ পরিবেশ দূষিত করছে। ড্রেনে মশার বংশ বিস্তার ঘটছে। ড্রেন থেকে প্রতিনিয়ত মশা মাছি জন্ম হয়ে রোগ ছড়াচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেশিরভাগ টয়লেটের নেই দরজা এবং ভেতরটি অপরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধময়।
প্রতিটি ওয়ার্ডে যে সিলিং ফ্যানগুলো রয়েছে, সেগুলোর বিকট আওয়াজে রোগীদের স্বাভাবিক ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে বলে রোগীরা জানান। ভর্তিকৃত রোগীরা জানান, টয়লেটগুলোর ভাঙ্গা দরজা খুলে রাখা হয়েছে। ফলে দুর্গন্ধে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে আছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের স্টিলের দরজাটিও ভাঙ্গা অবস্থায় রয়েছে। ফলে রাতের আঁধারে অনাকাঙ্ক্ষিত লোকজন অনায়াসে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।
রোগীরা জানান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বহু ভোগান্তির মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে স্বাস্থ্যসেবা নিতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের নিকট এ সকল সমস্যা দূর করে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেবা প্রত্যাশা করছে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা জনগণ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. জাহিদ হোসাইন জানান, টয়লেটের দরজা ভাঙ্গা রয়েছে, যা আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছি। পরিছন্নতাকর্মী তথা সুইপারের চারটি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছে মাত্র একজন। জনবল সংকট থাকায় এ সমস্যা হয়েছে।কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপরে বর্ণিত দুর্দশার চিত্র পড়ে নিঃসন্দেহে অনেক পাঠক স্বগতোক্তি করবেন, এটি একটি অভিভাবকহীন হাসপাতাল, যেখানে রোগীদের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে চিকিৎসাসেবা তো নেই-ই, বাস্তবে নিরাপত্তাও নেই। পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে জনবল সঙ্কট ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কিছুটা হলেও দূর করতে পারতেন, আর পুরোপুরি দূর করার ক্ষেত্রে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ভূমিকা রাখতে পারতো। এ ব্যাপারে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার সময়টুকু মনেহয় হাসপাতালের ডিউটি আর প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার অতি ব্যস্ততায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা খুঁজে বের করতে পারেন নি বা পারছেন না। হাসপাতালটিতে ক্ষুদ্র মেরামতের কাজ করার সামর্থ্য স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কিংবা গণপূর্তের নেই, সেটা বললে বিশ্বাসযোগ্য হবে না। আমরা যদ্দুর বুঝি, হাসপাতাল থেকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে যোগাযোগের ঘাটতি ও তদবির-তাগিদের অভাবে টয়লেটের ভাঙ্গা দরজা মেরামতের মতো ক্ষুদ্র কাজসহ পরিচ্ছন্নতার কাজ পুরোপুরি দূরে থাক, অর্ধেকও হচ্ছে না। এর বাইরে ধরে নিতে হবে অন্য কিছু। যেমন--এ হাসপাতালের প্রতি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যে কোনো কারণে এতোটাই বিরূপ মনোভাবাপন্ন হয়ে আছে যে, হাসপাতালটি বিমাতাসুলভ আচরণের শিকার হয়ে চলছে। আমাদের পর্যবেক্ষণে কোনো যুক্তিতে এমনটি হতে পারে না। কারণ, কচুয়া উপজেলা চাঁদপুর-১ সংসদীয় এলাকার অন্তর্ভুক্ত, যেখান থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষামন্ত্রী হবার সুযোগ পেয়েছেন, যিনি কিনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর এলাকার সরকারি হাসপাতালের এতোটা করুণ দশা হতে পারে!?






