প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:০৩
ইব্রাহিমপুরে শত শত একর ফসলি জমিতে মাটিখেকোদের থাবা
প্রশাসনের অভিযানে ৫টি ভেকু বিকল, আটক ২

মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা চর যেন এখন কিছু মানুষের কাছে লুটের মাল। রাত নামলেই শুরু হয় মাটিখেকোদের তাণ্ডব। ফসলি জমি কেটে, টপসয়েল তুলে, কয়েক কিলোমিটার জুড়ে চর দখলের এই তৎপরতায় দিশেহারা চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের কৃষকরা। এলাকাবাসীর ভাষায়, এটি যেন পরিকল্পিত ভূমিদস্যুতা।
|আরো খবর
চাঁদপুর সদর উপজেলার ১১নং ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র নির্বিঘ্নে চর কেটে দখল করে আসছিলো। গত ক'দিন ধরে সন্ধ্যার পর থেকেই ভারী যন্ত্রপাতির শব্দে কেঁপে উঠছিলো বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। কৃষিকাজের জন্যে প্রস্তুত জমিতে ঝিল কেটে 'প্রজেক্ট' তৈরির নামে টপসয়েল বিক্রি করাই ছিলো মাটিখেকোদের মূল উদ্দেশ্য।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে সদর উপজেলা প্রশাসন একটি অভিযান চালায়। অভিযানে কৃষিজমি কাটার কাজে ব্যবহৃত ৫টি এক্সেভেটর (ভেকু) বিকল করা হয় এবং ভেকুর দু শ্রমিককে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাটি ও বালু ব্যবস্থাপনা আইনে তাদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায়পূর্বক ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি জানান, কৃষিজমি ও সরকারি চর দখলের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত রাখা ভেকুগুলো ঘটনাস্থলেই বিকল করা হয়েছে। আইন অমান্য করলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ আরও ভয়াবহ। তারা জানান, ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের চালিতাতলী মৌজার এসব চরে বহু বছর ধরে ফসলি জমিতে কৃষিকাজ হয়ে আসছে। প্রতি মৌসুমে তারা সরিষা, আলু, ধনিয়া, কালিজিরা, ধানসহ নানা ধরনের শাকসবজির চাষ করে থাকেন। এই চরাঞ্চলের কৃষিই হাজারো পরিবারের জীবিকার একমাত্র ভরসা। তাদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র ফসলি জমি নষ্ট করে এসব চর কেটে দখলের মাধ্যমে প্রজেক্ট তৈরি করছে। সংঘবদ্ধ চক্রটি বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিক এনে একসঙ্গে ৫ থেকে ১০টি ভেকু দিয়ে ফসলি জমির টপসয়েল কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে এবং কৃষকরা সর্বস্ব হারানোর মুখে পড়ছেন।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, এ বিষয়ে তারা জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার এবং সদর উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পর থেকেই চর দখলকারী চক্রটি বিভিন্নভাবে কৃষকদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, প্রশাসনের এই অভিযান কি সত্যিই স্থায়ী সমাধান আনবে, নাকি কিছুদিন থেমে আবারও শুরু হবে মাটিখেকো ভেকুর তাণ্ডব? ইব্রাহিমপুর চরের কৃষকরা এখন তাকিয়ে আছেন ধারাবাহিক ও কঠোর অভিযানের দিকে, যাতে তাদের ফসলি জমি ও জীবিকার শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষা করা যায়।
ডিসিকে/ এমজেডএইচ





