বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৩

তবুও বার্ষিক ক্রীড়া, তারপরও-

অনলাইন ডেস্ক
তবুও বার্ষিক ক্রীড়া, তারপরও-

আমাদের দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর যেগুলো শিক্ষার্থীবহুল ও যেগুলোর আয় ভালো আছে, সেগুলোতে বছরে একটি জঁাকজমকপূর্ণ ক্রীড়ানুষ্ঠান হয়ে থাকে। আবার কোনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির ধনাঢ্য সদস্য ও অভিভাবকদের অনুদানে-অর্থায়নে বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠান করে একটা মিলনমেলা ঘটিয়ে থাকে। সেজন্যে তাদের মাঠ থাকুক বা না থাকুক। এমন বার্ষিক ক্রীড়া ৫০ শতাংশ বিদ্যালয়ে যথার্থভাবে হয়-এ সংক্রান্ত কাগুজে তথ্য সরকারি অফিসে থাকলে থাকতে পারে, বাস্তবে কি আছে?

আন্তঃক্রীড়ার জন্যে মাঠের প্রয়োজনীয়তা না থাকলেও বহিঃক্রীড়ার জন্যে মাঠের আবশ্যকতা রয়েছে। সঁাতারের জন্যে পুকুরের দরকার আছে। চঁাদপুর শহরে মাঠ ও পুকুর সম্বলিত তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা এক নিঃশ্বাসে বলা যায় এবং সেগুলো হচ্ছে : চঁাদপুর সরকারি কলেজ, চঁাদপুর গভর্নমেন্ট টেকনিক্যাল হাই স্কুল এবং বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। সত্যি কথা বলতে কি, বাবুরহাট ছাড়া বাকি দুটিতে সারাবছরব্যাপী ক্রীড়া ও সঁাতার চর্চা খুব একটা হয় না বললেই চলে। চঁাদপুর সরকারি কলেজে হঁাটার জন্যে সুন্দর ওয়াক ওয়ে থাকায় সেটি হঁাটার কাজে উন্মুক্ত, তবে ফুটবল, ক্রিকেট, সঁাতারসহ অন্যান্য ক্রীড়ার জন্যে পূর্বের ন্যায় উন্মুক্ত নয়। এ কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া হলেও আন্তঃশ্রেণী ক্রীড়া হওয়ার খবর গণমাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে না। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সহ অন্যান্য কার্যক্রমের খবরও দেখা যাচ্ছে না। অথচ সরকারি মহিলা কলেজের সব খবরই নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে। টেকনিক্যাল হাই স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া নীরবে হলেও আন্তঃশ্রেণী ক্রীড়া ও সঁাতার কবে কখন হয়েছে, সেটা কেউ বলতে পারবে না। হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ থাকলেও ক্রীড়াচর্চাহীনতায় সেটি বহুবিধ দখলদারিত্বে আকীর্ণ। আর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কাজ এবং বহু রকমের হকার ও চটপটি বিক্রেতাদের সার্বক্ষণিক অবস্থানে মাঠটি খেলার জন্যে নেই উন্মুক্ত। এবার তো স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের বার্ষিক ক্রীড়ার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান মাঠে না করে স্কুল আঙ্গিনার ক্ষুদ্র পরিসরে করেছে। পুরাণবাজারে বিরাট মাঠ সম্বলিত মধুসূদন হরিসভা উচ্চ বিদ্যালয় বার্ষিক ক্রীড়া ছাড়া সারা বছর নিজস্ব মাঠের ব্যবহার করে না বললেই চলে।

চঁাদপুর শহরের ক’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ক্রীড়া ও সারাবছরের ক্রীড়াচর্চার কথা তুলে ধরলাম উদাহরণস্বরূপ। জেলার বাকি এমন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্রীড়াচর্চা কি কেবল বার্ষিক ক্রীড়ার আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ, না বছরব্যাপী চর্চায় ঋদ্ধ, সেটি হলফ করে বলার লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে হার্দিক অভ্যর্থনা, তোষামোদ ও উপহার পেয়েই সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের অধিকাংশই খুশিতে হয়ে যান গদগদ, তারা সারাবছরের ক্রীড়াচর্চা নিয়ে জিজ্ঞেস করার সময় পান না কিংবা কিছু জানতে চেয়ে অপ্রিয় হতে চান না। ফলে খেলার মাঠে ক্রীড়াচর্চা হয় না, দিনেরাতে হয় জুয়াখেলা, নয়তো হয় মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের নিরাপদ অবস্থান কিংবা চলে স্থায়ী/অস্থায়ী দখলদারিত্ব। মাঠের ব্যবহার এবং সারা বছরব্যাপী আন্তঃ ও বহিঃক্রীড়া চর্চা প্রসঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার বিষয়ে কম-বেশি মাথা ঘামানোর জন্যে আমরা জেলা শিক্ষা অফিস ও জেলা ক্রীড়া অফিসকে কাজে লাগানো যায় কিনা সেটি ভেবে দেখতে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়