প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:২৩
বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যকার উত্তাপের জের
পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঘেরা থাকবে ফরিদগঞ্জ

বিএনপি প্রার্থী ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভোটের মাঠে উত্তাপ ছড়ানোর শঙ্কার মধ্য দিয়ে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের ভোট গ্রহণের নির্বাচনী প্রস্তুতি চলছে।
|আরো খবর
নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশন ও সরকার পাঁচ স্তরের নিরাপত্তার চাদরে বেষ্টিত রাখবে ১১৮টি ভোটকেন্দ্র। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ থাকবে। সার্বিক নিরাপত্তায় থাকবে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা।
৩ লাখ ৯১ হাজার ২৬৪ জন ভোটার ১১৮টি ভোটকেন্দ্রের ৭শ’ ৭৩টি বুথে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ইতোমধ্যেই পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ৬৫১ জন নারীসহ মোট ৯ হাজার ৩শ’ ৬৭ জন প্রবাসী ও সরকারি চাকরিজীবী ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
তথ্যসূত্র অনুযায়ী, উপজেলার ৫১টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩৮টি কেন্দ্র অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, নির্বাচনে ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন এবং ভোটের আগে ও পরে সব ধরনের নির্বাচনী সহিংসতা প্রতিরোধে পুরো উপজেলায় নিরাপত্তার কাজে থাকবে ৩ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ২ প্লাটুন বিজিবি, ১ প্লাটুন র্যাব এবং ২৯৮ জন পুলিশ ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য। এছাড়াও ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৩ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকবেন। ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে কাজ করবেন ১২৪ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ৭শ’ ৩৭ জন এবং পোলিং অফিসার থাকবেন ১৪শ’ ৭৪ জন। তাছাড়া সরকারের বিভিন্ন সংস্থার গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের নজরদারিতে রাখবেন ভোটকেন্দ্রগুলো। নির্বাচন চলাকালে কোনো প্রকার সহিংসতা বা ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকবে না। এ বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে থাকবো।
এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুরো উপজেলায় উৎসব-উদ্দীপনার আমেজ থাকলেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে রয়েছে শঙ্কা। কারণ ভোটের প্রচারণার সময় ঘটে যাওয়া ক'টি সহিংসতার ঘটনা এবং নির্বাচনী বাকযুদ্ধ।
বিশেষ করে স্বতন্ত্রের আড়ালে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচনী বৈরী সম্পর্ক সাধারণ ভোটারদের ভাবিয়ে তুলেছে। এর প্রভাব ভোটকেন্দ্রগুলোতে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ। অপরদিকে দীর্ঘদিন পর স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে—এই প্রত্যাশা থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত ফরিদগঞ্জ উপজেলার নাগরিকদের বাড়ি ফেরার চিত্র প্রায় ঈদ উৎসবের মতো। এমনকি অনেক প্রবাসী এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার প্রবল ইচ্ছা নিয়ে বাড়িতে এসেছেন।
সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাশা—দীর্ঘদিন পর ভোট প্রদানের এই আকাঙ্ক্ষা যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর লালসার শিকার না হয়।








