প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৩২
প্রতিশ্রুতির রূপকথা ও ভোটের বাস্তবতা

নির্বাচনী মৌসুম এলেই প্রতিশ্রুতির ঝাঁপি খুলে বসেন আমাদের প্রার্থীগণ। সে এক আশ্চর্য ঝাঁপি—ভেতরে আছে সোনার হরিণ, রুপোর নদী, আর বিনামূল্যের স্বপ্নের প্যাকেট। কেউ বলেন, ক্ষমতায় এলেই বেকারত্ব পালাবে ভয়ে; কেউ বলেন, রাস্তা হবে এমন মসৃণ যে হাঁটলে জুতোর তলায় দুঃখ আটকে থাকবে না।
|আরো খবর
প্রতিশ্রুতি তখন রূপকথার রাজকন্যা—দূর থেকে অপূর্ব, কাছে এলে কুয়াশা। বক্তৃতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রার্থী বলছেন, “আমি জনগণের সেবক।” জনগণ মনে মনে ভাবছে, “সেবক তো ভালো, কিন্তু রান্নাঘরে ঢুকেই যদি উনি রাঁধুনির টুপি পরে বসেন?”
নির্বাচনের আগে প্রতিটি সমস্যা যেন আলাদিনের চেরাগ—ঘষা দিলেই সমাধান বেরিয়ে আসবে। শিক্ষায় বিপ্লব, স্বাস্থ্যে উন্নতি, কৃষিতে জোয়ার—সবই আগামী পাঁচ বছরে, মানে আগামী বক্তৃতা পর্যন্ত। ভোটাররা তখন ধৈর্যের ছাতা মেলে দাঁড়িয়ে থাকেন; বৃষ্টি নামে প্রতিশ্রুতির, ভিজে যায় বাস্তবতা।
তবু স্বীকার করতেই হয়, এই প্রতিশ্রুতিগুলো ছাড়া নির্বাচন বড়ো নিরস হতো। অন্তত কিছুদিন আমরা সবাই বিশ্বাস করতে পারি—আগামীকাল খুব সুন্দর। আর বিশ্বাসই তো গণতন্ত্রের সবচেয়ে রোমান্টিক প্রতিশ্রুতি।
ড. আব্দুস সাত্তার
ওয়াশিংটন ডি সি
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।





