প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৩২
আমিরাবাদ জি কে স্কুলের ১৯৯২ ব্যাচের বন্ধুদের সাথে চমৎকার একটি দিন

আমার সোনাবউ আমেরিকা থেকে চলে এসেছে তার বন্ধুবান্ধবদের সাথে দেখা করার জন্যে। সে ১৯৯২ ব্যাচের ছাত্রী। আগের কথা মতো ১৬ ডিসেম্বর সকালের দিকে আমাদের বাড়িতে চলে আসে। ৩৩ বছর পর দেখা হবে এই ভাবনা থেকে ঢাকা ও অন্যান্য শহর থেকে বন্ধুরা ছুটে আসে। এতো বছর পর একজন আরেকজনকে কোলাকুলি আর কতো যে কথা--তোর হাসিটা সেই আগের মতোই আছে? তুই সেই আগের মতোই আছিস্? তোকে একটু মোটা লাগে? কিরে তুই ঘোমটা দিসস্ কেন? তুই শুকিয়ে গেছিস্? আরে আমি নানী হয়ে গেছি, বয়স কি কম হইছে? আরও কতো না বলা কথা দিয়ে জমিয়ে আড্ডা । তারপর সবাই চলে যায় প্রাণপ্রিয় আমাদের সেই আমিরাবাদ জি কে স্কুলে। দিনটি ছিলো ১৬ ডিসেম্বর (বিজয় দিবস) । স্কুলে এসে দেখি, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেছে।
|আরো খবর
স্কুলের পরিবেশটা সেই আগের মতোই আছে। সেই মাঠ সেই কৃষ্ণচূড়া সেই চালতা গাছ। পাল্টিয়েছে শুধু ছোট স্কুলটা ৫ তলা বিল্ডিং হয়েছে। বুড়ো ছাত্র-ছাত্রীদেরকে মাঠে হাঁটাহাঁটি করতে দেখে স্যাররা ডেকে লাইব্রেরিতে নিলেন। ‘তোমরা আবার মনে করো না শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্যে ডেকেছে’। আসলে উনারা আপ্যায়নের জন্যে ডেকেছেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক জনাব আলাউদ্দিন সবাইকে চা খাওয়ালেন। তাঁর আতিথেয়তায় সবাই মুগ্ধ।
সেখান থেকে বের হয়ে স্কুলের চারিদিকে ঘুরে ঘুরে ছবি, সাথে সেই পুরানো স্মৃতি--এই তুই না এখানে বসে অমুকের সাথে আড্ডা দিতে, সে কেমন আছে রে? এই কথা বলেই হাসাহাসি । দুষ্টামি কাকে বলে সেই দিন সবাই করেছে। মনে হয়েছে ওরা সবাই এখনো ছাত্র-ছাত্রী! সেই আগের মতো স্কুল থেকে হাঁটতে হাঁটতে বড় মিয়া বাড়ির মুনালিসার বাসায় কিছুক্ষণ আড্ডা। সেখান থেকে আবার স্কুল হয়ে আমাদের বাড়িতে। বাড়িতে এসে দুপুরের খাবার খেয়ে আবার আড্ডা। জমিয়ে আড্ডা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এক ফাঁকে কামাল প্রধানিয়ার বাড়িতে যেয়েও কিছুক্ষণ আড্ডা হয়।
আমি আমিরাবাদ কি কে স্কুলের ছাত্র, তবে ১৯৯২ ব্যাচের না। আমার সোনা বউয়ের উছিলায় আড্ডা, গান, ছবি তোলা, খাওয়া দাওয়া , হাসি-ঠাট্টা দিয়ে মনে রাখার মতো তাদের সাথে চমৎকার একটি দিন কাটালাম। সবাইকে একত্রিত করার জন্যে লিজা ও ফেরদৌসিকে একরাশ ভালোবাসা দিতেই হয়। এই দুজনের জন্যেই আজকের আড্ডা জমে উঠাছিলো। আজকের আড্ডায় উপস্থিত ছিলো লিজা, ফেরদৌসি, মুনালিসা, বেবী, ডলি, কাকলি, লাকি, আঁখি, হেলেনা, সুমি, রীনা, মমিনা, কামাল, জামাল, মাহবুব, সবুর, জাকির, মফিজ, আলমগীর, কালাম, আবুবক্কর, খোরশেদ, মামুন, টিটু ও কাওসার।
যেতে নাহি দিব হায়।
তবু যেতে দিতে হয়,
তবু চলে যায়।
৩৩ বছর পর যে আড্ডাটি জমে উঠেছিলো সেই আড্ডাটি না চাইলেও কিছুক্ষণের মাঝেই ভেঙ্গে যাবে। এটাই দুনিয়ার নিয়ম। কিন্তু তাদের কথাই যেন শেষ হচ্ছে না, চলছে অবিরাম, কেউ আবার চোখের জলে বিদায় জানান দিচ্ছে।
আমার দেখা মতে, আমিরাবাদ জি কে স্কুলের ১৯৯২ ব্যাচের ছাত্র-ছাত্রীরা খুব সুন্দরভাবে তাদের বন্ধুত্ব অটুট রেখেছে। ওদের এই বন্ধন অটুট থাকুক আজীবন এবং বেঁচে থাকুক ভালোবাসায়।
-ড. আব্দুস সাত্তার, লেখক ও সাংবাদিক, ওয়াশিংটন ডি সি।







