প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:১৪
মতলব উত্তরে চলছে যেন অভয়াশ্রমকালীন কার্যক্রম!

মতলব উত্তর উপজেলায় জাটকা রক্ষা অভিযানে ৮শ’ ৫০ কেজি জাটকা মাছ আটক করা হয়েছে। বিশেষ কম্বিং অপারেশন ১৫টি রিংচাঁই জব্দ ও ২টি জাগ উচ্ছেদ করা হয়। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) ভোর ৫টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সহায়তায় যাত্রীবাহী একটি গাড়ি থেকে এসব জাটকা আটক করা হয়। একইদিন বিশেষ কম্বিং অপারেশনে ধনাগোদা নদীর শিবপুর, নন্দলালপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে রিংচাঁই জব্দ ও জাগ উচ্ছেদ করা হয়েছে। আটককৃত জাটকা মাছ স্থানীয় এতিমখানা ও দুঃস্থ মানুষের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে বিতরণ করা হয়। জব্দকৃত রিংচাঁই পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার বিজয় কুমার দাস, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মোহনপুর আউটপোস্টের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার এম. সানোয়ার হক, মতলব উত্তর মৎস্য দপ্তরের ক্ষেত্র সহকারী মোশাররফ হোসেন। বিশেষ কম্বিং অপারেশন অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার বিজয় কুমার দাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেলতলী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. হাকিম। বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মোহনপুর আউটপোস্টের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার এম. সানোয়ার হক জানান, জাটকা পাচার রোধে কোস্টগার্ড সবসময় মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে এবং এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার বিজয় কুমার দাস বলেন, জাটকা রক্ষা করা শুধু আইনি দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যৎ মৎস্য সম্পদ রক্ষার প্রশ্ন। জাটকা ধরা বন্ধ না হলে ইলিশ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে। এ সম্পাদকীয় নিবন্ধে মৎস্য সম্পদ রক্ষায় মতলব উত্তর উপজেলা মৎস্য বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে আমরা বারবার সপ্রশংস অভিব্যক্তিতে লিখছি। কারণ, মতলব উত্তরের সক্রিয়তার তুলনায় চাঁদপুর সদর উপজেলা মৎস্য বিভাগ মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীতে এবং হাইমচর উপজেলা মৎস্য বিভাগ মেঘনা ও শাখা নদীগুলোতে কম্বিং অপারেশন পরিচালনায় বলা যায় নিষ্ক্রিয় রয়েছে এবং আপত্তিকর কাজ করছে, যেটা স্থানীয় আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে তাদের পর্যবেক্ষণে প্রকাশ্যে মতামত ব্যক্ত করেছে। কিন্তু মৎস্য অধিদপ্তরের জেলা কর্তৃপক্ষ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া ও জাগৃতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তারা নির্বিকারভাবে নিস্পৃহ, যেটাকে ডেম কেয়ার বললে অত্যুক্তি হবে না। এর কুফলস্বরূপ মেঘনা-ডাকাতিয়ায় নির্বিচারে পোনা নিধন হচ্ছে, মেঘনা-পদ্মায় কিশোর ইলিশ জাটকার বারোটা বাজছে। এটা নিয়ে চাঁদপুর কণ্ঠে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া নেই, জাটকা ও পোনাসহ মৎস্য সম্পদ রক্ষায় চাঁদপুর সদর ও হাইমচরে কিছু ব্যানার টানানো ছাড়া মৎস্য বিভাগের জলে ও স্থলে কম্বিং অপারেশন (চিরুনি অভিযান)তো দূরের কথা, সাধারণ কার্যক্রমও নেই। এটা উদ্বেগজনক। জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স জাটকা রক্ষায় মার্চ-এপ্রিল দুমাস ও মা ইলিশ রক্ষায় অক্টোবরে ২০ দিনব্যাপী পদ্মা-মেঘনায় যে অভয়াশ্রম কার্যক্রম চালায়, মতলব উত্তরে যেন বর্তমানে সেরকমই চলছে। অথচ চাঁদপুর ও হাইমচরে সেটা নেই। কিন্তু কেন? কে দেবে তার জবাব?








