প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৪৮
এতো রাতে মোটরসাইকেল নিয়ে কেন ওরা সড়কে? কেন এই মৃত্যু?

‘হাজীগঞ্জে কাভার্ড ভ্যানে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেলে হতাহত ২ বন্ধু’-এটি চাঁদপুর কণ্ঠের একটি শীর্ষ সংবাদ হয়েছে গতকাল। এ সংবাদটি পড়ে পাঠকমাত্রই থমকে দাঁড়াবেন। কেননা ঘটনাটি এমন সময়ের, যখন দু বন্ধু ঘর ছেড়ে বাইরে থাকার কথা নয়। কিন্তু তাদের ওপর পরিবারের নিয়ন্ত্রণ না থাকাতে তারা মধ্যরাতে শখের মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়েছে এবং দুর্ঘটনাকে আলিঙ্গন করেছে, যে ঘটনায় শোকে মুহ্যমান হয়েছে দু বন্ধুর এলাকা। এ ঘটনা সম্পর্কে কামরুজ্জামান টুটুল লিখেছেন, হাজীগঞ্জে চলন্ত কাভার্ড ভ্যানের সাথে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সাগর সাহা (২০) নামের এক মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু ও অপর আরোহী মো. ইজাজ (২০) গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট ২০২৫) দিবাগত রাতে হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের হাজীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাগর সাহা হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ১নং ওয়ার্ড বলাখাল এলাকার ব্যবসায়ী সনজু সাহার ছেলে ও গুরুতর আহত মো. ইজাজ একই এলাকার ব্যবসায়ী মো. ইমরান হোসেনের ছেলে। আহত ইজাজ রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
|আরো খবর
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত এগারোটার দিকে মোটরসাইকেলযোগে সাগর সাহা ও মো. ইজাজ হোসেন রামগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় কাভার্ড ভ্যানটি রামগঞ্জ থেকে হাজীগঞ্জের দিকে আসছিলো। দুটি বাহন সামনাসামনি আসা মাত্র মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কার্ভাড ভ্যানের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক সাগর সাহাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আহত মো. ইজাজকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দুর্ঘটনা কবলিত মোটরসাইকেল ও কাভার্ড ভ্যান সড়ক থেকে সরিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করেন। পরে মোটরসাইকেল ও কাভার্ড ভ্যান এবং নিহত সাগর সাহার সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করে হাসপাতাল থেকে মরদেহ থানা হেফাজতে নিয়ে আসে। বিষয়টি নিশ্চিত করে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক চাঁদপুর কণ্ঠকে বলেন, দুর্ঘটনা কবলিত মোটরসাইকেল ও কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা হয়েছে এবং সাগর সাহার মরদেহ পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ২০ বছর বয়সী দুজন যুবক নিশ্চয়ই শিক্ষার্থী। তাদের একজনকে তার বাবা-মা কোন্ প্রয়োজনে মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিলেন? কোন্ প্রয়োজনে সে তার বন্ধুসহ প্রায় মধ্যরাতে রামগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন? নিশ্চয়ই প্লেজার ট্রিপে। এভাবে সন্তানের আবদার রক্ষা করতে গিয়ে সামর্থ্যবান অভিভাবকরা কিনে দেন শখের জিনিস মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোনসহ আরো কিছু। এভাবে শখের জিনিস পাওয়া সন্তানদের অধিকাংশ শখের জিনিসের অপব্যবহার করতে গিয়ে বিপথগামী হয়। এতে হয় জীবনহানি ঘটে কিংবা শিক্ষা জীবন ধ্বংস হয়, নয়তো বিপর্যয় ঘটে। কিন্তু অভিভাবকরা উদাসীন। তারা সমাজে অনেক খারাপ পরিণতি লক্ষ্য করেও সন্তানের আবদার পূরণ করে এবং বেপরোয়া হতে সাহায্য করে। এটা খ্বুই দুঃখজনক। আমরা হাজীগঞ্জের দু বন্ধুর করুণ পরিণতি থেকে অভিভাবকদের সতর্ক, সচেতন হবার অনুরোধ জানাচ্ছি।