শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫  |   ৩৩ °সে
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১১:৩৬

অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কঠোর ব্যবস্থা দরকার

অনলাইন ডেস্ক
অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কঠোর ব্যবস্থা দরকার

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেছেন, মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। নদীপথে চাঁদপুর ও মুন্সিগঞ্জের মধ্যে সীমানা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। এ জটিলতা নিরসনে মুন্সীগঞ্জের সাথে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বুধবার (২৭ আগস্ট ২০২৫) সকালে মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মাদক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং ও সামাজিক অপরাধ দমনে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত তথ্য সময়মতো জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়। ইউএনও’র সভাপতিত্বে এ সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রহমত উল্লাহ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস, উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল আনোয়ার, মতলব উত্তর থানার ওসি (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।

মতলব উত্তরে ইউএনও হিসেবে মাহমুদা কুলসুম মনি যোগদানের পর আয়োজিত এক সভায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন। কিন্তু ইতোমধ্যে অনেকদিন পার হয়ে গেছে, আমরা কিন্তু গণমাধ্যমে মতলব উত্তরের উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত কঠোর কোনো ব্যবস্থাগ্রহণের বিষয়টি জানতে পারিনি। ইউএনও’র প্রচারবিমুখতার কারণে সেটা জানা যায় নি, না এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, সেটা জানার বিষয়ে আমাদের কৌতূহল রয়েছে। এই কৌতূহল মিটুক আর না মিটুক, আমরা মতলব উত্তরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গৃহীত কঠোর ব্যবস্থাগ্রহণের দৃশ্যমান তৎপরতা দেখতে চাই এবং সেটার ধারাবাহিকতাও চাই। কেননা এই বালু উত্তোলনের কারণে মতলব উত্তরে নদী ভাঙ্গন ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে, যেটা মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প বেড়িবাঁধের বাইরের জনপদকে বিলীন করতে করতে এক পর্যায়ে বাঁধকেও বিলীন করে দেবে। এতে যে চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে বাঁধবাসীকে, সেটা কল্পনা করলেও শিহরিত হতে হবে, কেননা অতীতে বাঁধ ভাঙ্গার ক্ষয়ক্ষতির অভিজ্ঞতা অনেকেরই মনে আছে।

একটা খারাপ দিক হলো, মতলব উত্তরে নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে যারাই বেশি হুঙ্কার দিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই পরবর্তীতে নিষ্প্রভ হয়ে গেছেন। অতি সম্প্রতি কৃষক দল নেতা ব্যারিস্টার ওবায়দুর রহমান টিপু মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশের পাশাপাশি বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে যে আইনি প্রক্রিয়ায় সামনে এগুচ্ছেন বলে জানান দিয়েছেন, তাতে তিনি অনড়, অটল, অদম্য থাকেন কিনা সেটাই দেখার বিষয়। আর একই বিষয়ে ইউএনও কতোদূর অগ্রসর হন, দৃশ্যমান কী তৎপরতা দেখান সেটাও পর্যবেক্ষণের বিষয়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়