প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৫৭
হাজীগঞ্জে পারিবারিক বিরোধ ছড়িয়েছে গ্রাম জুড়ে !

হাজীগঞ্জে একটি পারিবারিক বিরোধ গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একটি পক্ষ নিজেদের ঘর-দরজা ভাংচুর করে পুরো এলাকাবাসীকে দায়ী করে একটি লাইভ ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয়রা শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে সুহিলপুর পশ্চিম পাড়া দোকানের সামনে একত্রিত হয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে সেই কথিত লাইভের বিস্তারিত জানিয়েছেন। ঘটনাটি হাজীগঞ্জের সুহিলপুর এলাকার। স্থানীয়দের পুরো অভিযোগ এ গ্রামের মজুমদার বাড়ির ফরহাদ মজুদারের বিরুদ্ধে।
|আরো খবর
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, প্রায় দেড় বছর পূর্বে অভিযুক্ত ফরহাদের ছোট ভাই বাছির মজুমদার প্রেম করে ওই এলাকার শাহপরান গাজীর ভাগ্নি ফাহিমাকে বিয়ে করেন। একই বাড়িতে শাহপরান গাজীর অপর এক বোন হালিমাকে বিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে প্রায় সময় ফাহিমা ও হালিমাকে হামলা ও মারধর করেন ফরহাদ। এ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ফের সে দু বোনকে মারধর করে ফরহাদ। এ কারণে ওই দিন সন্ধ্যায় সুহিলপুর পশ্চিমপাড়া দোকানের সামনে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ফরহাদ মজুমদারের কাছে মারধরের কারণ জানতে চান শাহপরান গাজী। বিষয়টি নিয়ে তাদের মাঝে তর্ক-বিতর্ক হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এর কিছু পরে ফরহাদের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক কিশোর-যুবক ওই এলাকায় এসে অতর্কিত হামলা ও শাহপরান গাজীসহ দোকানের সামনে যাকে পেয়েছে, তাকেই মারধর ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরের দিন শুক্রবার ফরহাদ মজুমদার ফের শাহপরান গাজীর এক আত্মীয়কে মারধর করেন এবং রাতেই তাদের নিজেদের বসতঘর ভাংচুরের অভিযোগ এনে ফেসবুকে বিএনপি নেতা শামছুল হক গাজী, যুবনেতা সাখাওয়াত হোসেন, মামুন গাজী, মাহবুব আলম খোকন সহ এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে লাইভ করেন। মূলত ফরহাদের ভাংচুরের লাইভটি তার নিজের পরিকল্পিত, মানে সে নিজে ভাংচুর চালিয়ে অন্যদের ফাঁসানোর জন্যে করে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
শনিবার এলাকার শত শত মানুষের উপস্থিতিতে শামছুল হক গাজী, দ্বীন ইসলাম গাজী, হেলাল খাঁন, হোসেন গাজী, আব্দুর রহমান, মান্নান হাজী সহ স্থানীয় বয়োবৃদ্ধরা জানান, ফরহাদ মজুমদার ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত। গত ৫ আগস্টের পর সে বেপরোয়া হয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ে। পারিবারিক ঘটনার জের ধরে ফরহাদ ফেসবুকে লাইভ এসে এলাকার মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেন। আমরা মাননীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জি. মমিনুল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তিনি যেন প্রশাসনিকভাবে ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তদন্তপূর্বক ফরহাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করেন।
স্থানীয় ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামছুল হক গাজী অভিযোগ করে বলেন, ফরহাদের বয়সের চেয়ে আমাদের রাজনীতির বয়স অনেক বেশি। অথচ আমি ও সিনিয়র রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ এলাকার মানুষকে সে জিম্মি করতে চায়।
উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমার মাধ্যমে ফরহাদ ছাত্র রাজনীতিতে এসেছে। সে আমার স্নেহের ছোট ভাই। সে মিথ্যা ও সাজানো ঘটনায় আমার বিরুদ্ধে পর্যন্ত মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে, অথচ ঘটনার সময় আমি এলাকাতে ছিলাম না।
সকল অভিযোগ অস্বীকার করে ফরহাদ মজুমদার বলেন, আমি বক্তব্য দিতে নারাজ। যেহেতু আমি একটি সংগঠনের সাথে জড়িত, সেহেতু বিষয়টি এমপি মহোদয়সহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ দেখছেন।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার জানান, অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








