শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৫৪

ওরা আওয়ামী লীগ, না বিএনপি করে?

মেঘনার চরে কৃষি জমি নষ্ট করে থেমে নেই মাছের ঝিল তৈরি!

৮টি মাটি কাটার ভেকু অকেজো করলো প্রশাসন

চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট
মেঘনার চরে কৃষি জমি নষ্ট করে থেমে নেই মাছের ঝিল তৈরি!

চাঁদপুর সদর উপজেলার মেঘনার পশ্চিম পাড়ে ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে চরের উর্বর কৃষি জমি। ইদানীং এসব জমির মাটি কেটে মাছের ঝিল তৈরির হিড়িক পড়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় এই চরের জমিগুলো দখল, বেদখল, ভাগ-বাঁটোয়ারা ও জোরপূর্বক ভোগদখলের অভিযোগ রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও থেমে নেই ঈদগাহ ফেরিঘাট নৌ চ্যানেলের ইব্রাহিমপুর চরের মাটি কাটা ও মাছের ঝিল বানানো। স্থানীয়ভাবে অভিযোগের প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সচিত্র সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে। উপজেলা প্রশাসনও একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করে মাটি খননের যন্ত্র জব্দ করেছে।

চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের নির্দেশে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের চর ইব্রাহিমপুর, খানেপুর এবং চালিতাতলিতে কৃষিজ এবং সরকারি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট জমি অবৈধভাবে জবরদখল করে ঝিল কাটার বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে। সদর উপজেলা এসি ল্যান্ড সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ৮টি মাটি খনন যন্ত্র (ভেকু) অকেজো করে দেয়া হয়। আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৬ থেকে ২০ লাখ টাকা। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে অপরাধীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে গ্রেফতার করা যায় নি।

এ সময় ১০টি যন্ত্রের ব্যাটারি (৭০-৮০পিস), কারিগরি যন্ত্রপাতি এবং ৯০ লিটার ডিজেল জব্দ করে নিয়ে আসে প্রশাসন। এখন জনমনে প্রশ্ন : এই অপকর্মের সাথে কারা জড়িত? ওরা আওয়ামী লীগ করে, না বিএনপি করে? পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত : এখন তো আওয়ামী লীগের প্রভাব নেই, বিএনপি ক্ষমতায়। কারা এই দুঃসাহস দেখাচ্ছে? তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী?

এদিকে দুর্গম এলাকা হওয়ায় প্রশাসনের ঘটনাস্থলে যেতে অনেক বিলম্ব হয়। বারবার প্রশাসন চরের মাটি কাটা বন্ধ করে দিয়ে আসলেও কিছুদিন না যেতেই আবার শুরু হয় সেখানে মাটি কেটে ঝিল বানানোর কাজ। একই প্রক্রিয়ায় নদীতে ড্রেজার ভাসিয়ে চর এলাকার আশেপাশে রাতের অন্ধকারে চুরি করে মেঘনা নদী হতে বালু উত্তোলন এবং বিক্রির অভিযোগতো আছেই। প্রাকৃতিক এই সম্পদের দিকে বালু ও মাটিখেকোদের নজর আড়াল করা যাচ্ছে না। বিপুল পরিমাণ অবৈধ টাকা ইনকামের ধান্ধায় শক্তিশালী চক্র এর সাথে জড়িত এবং টাকার ভাগ হয় বলে অবৈধ বালুকাটা ও মাটিকাটা বন্ধ হচ্ছে না। এ অপতৎপরতার দায় সরকার, প্রশাসন, এমপি, মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কেউ এড়াতে পারে না বলে মনে করছে চাঁদপুরের সচেতন মহল।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়