মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৪৩

ফরিদগঞ্জে সম্পত্তি ক্রয় করে প্রবাসী প্রতারিত

আদালতের উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব পরিবার

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো।।
ফরিদগঞ্জে সম্পত্তি ক্রয় করে প্রবাসী প্রতারিত

সারা জীবনের সঞ্চিত সকল পুঁজি দিয়ে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের স্বার্থে মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের জন্যে সম্পত্তি ক্রয় করতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হলেন এক প্রবাসী। আদালতের রায়ে উচ্ছেদ হয়ে এখন নিঃস্ব তিনি। ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে ওই প্রবাসীর অবুঝ ৩ সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাটি ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব কাওনিয়া গ্রামের।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) উচ্ছেদের এ ঘটনাটি ঘটে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ওই গ্রামের মো. শহীদুল্লাহর ছেলে সৌদি প্রবাসী মো. ওয়াসিম ওই এলাকার মোবারকের ছেলে মো. গিয়াস উদ্দিন, শাহাবুদ্দিন ও আলাউদ্দিন আল মুন্না গং থেকে ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর ১০০৭৬/২৩নং দলিল মূলে ১৭ শতক সম্পত্তি ক্রয় করেন। বাংলাদেশ সরকারের সকল আইন-কানুনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ভুক্তভোগী পরিবারটি খাজনা খারিজসহ সকল কাগজপত্র সম্পাদন করে টিনের ঘর নির্মাণ করে অবুঝ ৩ সন্তান, বৃদ্ধা মা ও স্ত্রী নিয়ে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু তারা জানতেন না, এ সম্পত্তি বিক্রেতারা আদালতে চলমান মামলার নালিশি সম্পত্তির তথ্য গোপন করে সহজ-সরল প্রবাসী এই রেমিট্যান্স যোদ্ধার কাছে বিক্রয় করে প্রতারণা করেছেন।

প্রকৃতপক্ষে এ সম্পত্তি একই গ্রামের প্রতিবেশী মো. বাবলু গং পৈত্রিক হওয়ায় তারা দীর্ঘদিন মামলা পরিচালনা করে আসছিলেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটির বাদীর আর্জি অনুসারে সকল সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে রায় প্রদান করেন। তারই ভিত্তিতে রায়ের আলোকে বাদীর সম্পত্তির দখল বুঝিয়ে দিতে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) আদালতের আদেশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ.আর.এম. জাহিদ হাসান এবং আদালত কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে বিরোধকৃত সম্পত্তি উদ্ধারে অভিযান পরিচালিত হয়। যার মধ্যে অসহায় ওই প্রবাসীর পরিবারটির বসতঘরসহ খরিদকৃত ১৭ শতক সম্পত্তি ছিলো।

ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী রেহানা আক্তার জানান, আমার স্বামী গত ৪ বছর পূর্বে প্রবাসে কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে এ সম্পত্তি ক্রয় করেন। কিন্তু বিক্রেতাদের প্রতারণার শিকার হয়ে আজ আমরা আদালতের উচ্ছেদ অভিযানের কারণে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হলাম। আমাদের এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করা ছাড়া আর কোথাও মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। মামলা ও উচ্ছেদের বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না, এমনকি আমরা আদালতের কোনো নোটিসও পাইনি। স্বামী প্রবাসে থাকায় বৃদ্ধা শাশুড়ি ও অবুঝ ৩টি সন্তান নিয়ে আমি এখন দিশেহারা। এ সময় ভুক্তভোগী প্রবাসী মো. ওয়াসিমের বৃদ্ধা মা ফাতেমা বেগমকেও হতাশ হয়ে হাউমাউ করে কান্না করতে দেখা যায়।

ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবেশীরা প্রতারক ওই পরিবারটির বিচার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট বিচার বিভাগের কাছে।

আদালতে মামলাটির বাদী মো. বাবলু বলেন, প্রবাসীর এ পরিবারটির জন্যে আমাদের দুঃখ হলেও কিছুই করার নেই। আদালত আমাদের সম্পত্তি বুঝিয়ে দিয়েছে, আমরা উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে দখল বুঝে নিয়েছি। আদালতের নিয়ম অনুযায়ী বিবাদীদের বিরুদ্ধে সমন জারিসহ সকল কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত করা হয়েছে।

এদিকে নালিশি ওই সম্পত্তি প্রবাসী পরিবারের কাছে বিক্রয়কারী মো. গিয়াস উদ্দিন, শাহাবুদ্দিন ও আলাউদ্দিন আল মুন্নাদের বক্তব্যের জন্যে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মুঠোফোনে চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়