প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৩
গাজীপুরে বিএনপি নেতা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা দাবি।। থানায় অভিযোগ
শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করতে চাইলে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে, নয়তো আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে চাঁদা না দিতে পারলে দোকান ভাংচুর এবং তালা দেওয়া সহ দোকান মালিককে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দেওয়া হবে বলে হুমকি প্রদানের প্রেক্ষিতে অভিযোগকারী নিরাপত্তা চেয়ে থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন।
|আরো খবর
এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৮নং পাইকপাড়া ইউনিয়নের গাজীপুর বাজারে। অভিযোগের আলোকে জানা যায়, ৮নং পাইকপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব গাজীপুর মিজি বাড়ির মো. মিলন তপদার গাজীপুর বাজারে ব্যবসা করে আসছিলেন। কিন্তু হঠাৎ গত ৩ এপ্রিল রাত ৮ টার সময় অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাজারের পশ্চিম মাথায় মিলন তপদারের দোকানে প্রবেশ করে এবং মিলন তপদারের নিকট ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। কী কারণে চাঁদা দিতে হবে এমন প্রশ্নের জবাবে অভিযুক্তরা গলার কাছে ছুরি নিয়ে বলে, আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৫ লাখ টাকা না দিলে মিলন তপদারের ক্ষতি করবে এবং দোকান গুঁড়িয়ে দিবে ও দোকানে তালা মেরে দিবে বলে হুমকি দেয়। তাই মিলন তপদার নিরাপত্তা চেয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় উপরোল্লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগ দাখিলের পরেও ২৪ ঘন্টা পার হওয়ার আগেই অভিযুক্তরা পরের দিন শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) রাত ৮ টার আগেই মিলন তপদারের দোকানে তালা মেরে দেয়।
এ বিষয়ে মিলন তপদারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সরকারি একটি পরিত্যক্ত জায়গার ওপর তিনি চা দোকানের ব্যবসা করে আসছেন এবং এই জায়গাটুকু ভোগদখল করে ব্যবসা করার জন্যে ডিসি বরাবর দরখাস্ত করে বিভিন্ন কাগজপত্রের আলোকে এ স্থানে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। কিন্তু এলাকার আলম ভূঁইয়া, আবুল খায়ের, সবুজ হোসেন ও মিলন পাঠান নামের কয়েকজন তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা চায়। তিনি বলেন, এ টাকা না দিতে পারলে আমার গলায় চুরি ধরে ভয়-ভীতি দেখায় এবং আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে টাকা না দিতে পারলে আমার ক্ষতি করবে এবং দোকান গুঁড়িয়ে দেবে ও তালা মেরে দেবে বলে হুমকি প্রদান করে। তাই আমি নিরাপত্তা চেয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করি। কিন্তু অভিযুক্তরা ২৪ ঘন্টা পার হওয়ার আগেই পরের দিন রাত ৮ টার আগেই দোকান থেকে আমাকে বের করে দিয়ে তালা মেরে দেয়। বর্তমানে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
উল্লেখ্য, মো. মিলন তপদার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাবেক সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি, ইউনিয়ন বিএনপি'র ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক, ইউনিয়ন তাঁতী দলের সাবেক সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সাবেক সদস্য, ওয়ার্ড বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি রাজনৈতিক মামলায় কারা নির্যাতিত ও ইতিপূর্বে তিনি রাজনৈতিক ১০ টি মামলার আসামি ছিলেন।








