প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৮
হাইমচরে নব্য মাফিয়া যুবদলের জহির মাঝি

হাইমচরে নব্য মাফিয়া হয়ে উঠেছে যুবদলের জহির মাঝি। যার অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ, আত্মীয় ও তার প্রতিবেশীরা। যেখানেই অন্যায়, অপরাধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি আর ভূমি দখল সেখানেই সর্বসাকুল্যে নাম পাওয়া যায় জহির মাঝির নাম। তার সন্ত্রাসী কার্যক্রমে রয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের বিরাট একটা অংশ, যাদেরকে কাজে লাগিয়ে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে যাচ্ছেন তিনি। একদল সন্ত্রাসী চরিত্রের যুবকের মাধ্যমে কয়েকটি পরিবারকে কোণঠাসা করে রেখেছে, একইসাথে গোপন কারসাজিতে নিকটাত্মীয়দের ওপর চালাচ্ছেন অমানুষিক নির্যাতন।
|আরো খবর
গত মাসের ২৯ তারিখ তারই বড় ভাই খোরশেদ মাঝির মাধ্যমে পূর্ব চরকৃষ্ণপুর মৌজায় এক অসহায় নারীর জমি দখলের অভিযোগ উঠে। সে অভিযোগে পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন হাইমচর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জহির মাঝি। তারই ইন্ধনে বড় ভাই খোরশেদ মাঝি নিজের শ্যালক মৃত শাহ জাহান শাহ ওরফে বাচ্চুর জমি দখলের চেষ্টা করে। সেখান থেকে মাটি কাটা শুরু করলে শ্যালকের মেয়ে জান্নাত শাহ নূপুর বাদী হয়ে হাইমচর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সে অভিযোগেও থানায় বিবাদী পক্ষ অর্থাৎ বড় ভাইয়ের পক্ষ নিয়ে জমি দখলের সর্বোচ্চ চেষ্টায় জোড়ালো তদবির করে। এমনিভাবে যেখানেই জমি দখল সক্রান্ত অভিযোগ আসে তখনই সামনে আসে নব্য মাফিয়া যুবদলের জহির মাঝির নাম।
এদিকে খোরশেদ মাঝির মাধ্যমে জমি সংক্রান্ত বিরোধে দীর্ঘদিন ধরে নূপুরের পরিবারকে জিম্মি করে রেখেছে জহির মাঝি। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে নূপুরের পরিবারের সদস্য বিল্লাল শাহ বাড়ি থেকে বের হলে জহির মাঝির নির্দেশে সাবেক পল্লী বিদ্যুৎ মোড়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর সহধর্মিণী বাদী হয়ে হাইমচর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিল্লাল শাহ বাড়ি থেকে বাজারের উদ্দেশ্যে পল্লী বিদ্যুৎ মোড় আসলে খোরশেদ মাঝি, তার ছেলে ও নাতিসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমরা জানতে পারি পূর্ব শত্রুতা জেরে আজকের এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে অপর এক ঘটনার বিষয়ে জানা যায়, হাইমচর উপজেলায় পূর্ব বিরোধের জেরে এক ব্যক্তির ওপর প্রকাশ্যে হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে হাইমচর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আলগী বাজার এলাকার বাসিন্দা আয়েশা আক্তার (৩৯), স্বামী মো. বিলাল হোসেন শাহ গত ২০১৬ সালের ২ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুরাতন পল্লী বিদ্যুৎ মোড় এলাকায় সংঘটিত একটি হামলার ঘটনার বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তার স্বামীর মনোমালিন্য চলছিল।
ঘটনার দিন আয়েশার স্বামী মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্তরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার পথরোধ করে। এ সময় মো. খোরশেদ মাঝি (৬০), মো. রিয়াদ হোসেন (১৫), মো. জাহিদ হোসেন ওরফে জিয়া (২০), মোহাম্মদ আলী ওরফে মিটার (৩৫)সহ আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র লোহার রড, বাঁশের লাঠি, কাঠ ও ধারালো দা নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা তাকে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দিয়ে বেধড়ক মারধর করে এবং মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে নেয়। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা তাকে প্রাণে হত্যার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে আয়েশা আক্তার ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামীকে উদ্ধার করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয় এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যাওয়ার সময় তারা ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে বলে, ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিলে ভুক্তভোগীকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যা করা হবে। এমনকি মোটরসাইকেলের সঙ্গে বেঁধে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়।
ভুক্তভোগী আয়েশা আক্তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে তোয়াক্কা করে না এবং পূর্বেও এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি করেছে। তাদের এমন আচরণে এলাকায় যেকোনো সময় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এ অবস্থায় নিরূপায় হয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান আয়েশা আক্তার। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অনেকেই বলছেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জহির মাঝির রাজত্ব শক্তিশালী করতে তার ইন্ধনে এলাকায় এমন ঘটনা ঘটছে। এমনকি এ বিষয়ে রিপোর্ট না করতে স্থানীয় সাংবাদিক নেতা দিয়ে চাপ প্রয়োগ করেন তিনি। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জহির মাঝি বলেন, আমি যে এসব ঘটনার সাথে জড়িত তার কী প্রমাণ আছে? এমন তো কোন প্রমাণ নেই, কে বলেছে আমার কথা সে লোকটা দেখান। আর কে ই বা এমন আহত হয়েছে। তিনি বলেন, আমি কখনোই এমন ঘটনার সাথে পরোক্ষভাবেও জড়িত ছিলাম না। ভবিষ্যতেও থাকবো না।
অভিযোগের বিষয়ে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। যেন সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হয়।








