প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৪, ০০:০০
মিজানুর রহমান রানার মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিক উপন্যাস
এই জনমে

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
নয়.
সময়ের পরিক্রমা মানুষকে কখনও সুখ দেয়, আবার কখনও দুঃখের যাঁতাকলে পিষ্ট করে মারে। এটাই হয়তো স্রষ্টার একটা পরীক্ষা। এই পরীক্ষা যে পাস করতে পারবে তার জন্যে নিঃশেষ সময়ের শান্তি। তবে মানুষ সময়ের কঠিন আবর্তে পড়ে অনেক সময় এই পরীক্ষায় বিমূঢ় হয়ে যায়, বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। কোন্ পথে সে যাবে তার হদিস পায় না। কেউ ভুল করে, আর কেউ ভুলে যায় তার জীবনের লক্ষ্য নিশানা। কষ্টের সাথে যে স্বস্তি আছে, এটা বেশিরভাগই মানুষ জানে না।
বেশিরভাগ মানুষ তার জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য-উদ্দেশ্য জানে না বলেই তারা অন্ধকারে হাঁটে। কোথায় যাবে, কোন্ পথে যাবে, কোন্ পথে গেলে তার জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্যের সন্ধান পাবে সে তা’ ভাবে না। পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষই সাময়িক আনন্দে নিজকে ভাসিয়ে দেয়। মানুষ মনে করে এটাই তার জীবনের পরম চাওয়া পাওয়া। এর বাইরেও যে অনেক অদেখা অজানা কিছু থাকতে পারে এটা সে বুঝতে পারে না।
সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে জীবনের প্রতিটা পদক্ষেপে পরীক্ষা করেন। চব্বিশ ঘণ্টাই এই পরীক্ষা চলে। এতে কারো অসুখ-বিসুখ, কারো কারো দুর্ঘটনা, চাওয়া-পাওয়ার অপূর্ণতা, অপ্রাপ্তিবোধ থাকে। কেউ কেউ স্রষ্টার এই পরীক্ষা বুঝতে পারে আর কেউ তা’ পারে না।
এই জীবনের ছোট্ট একটা বিন্দুতেই মানুষ বসবাস করে। একই বৃত্তে বার বার হেঁটে চলে। বৃত্তবন্দি মানুষ যখন বৃত্তের বাইরে যেতে পারে তখন সে অবাক হয়ে যায়। হায়, বৃত্তের বাইরে যে এতো সুখ কে জানতো আগে?
সুজানা আজ ক’দিন যাবৎই খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। মা শিখা বেদী অত্যন্ত চেষ্টা করে চলেছেন মেয়েকে আমিরের কথা ভুলিয়ে রাখতে। কিন্তু সুজানা সব সময়ই আমিরের ধ্যানে-স্বপ্নে ডুবে আছে। খাওয়া দাওয়ার প্রতিও ভ্রূক্ষেপ করছে না।
তার বার বার মনে হতে থাকে তার স্বামী আমিরকে পাক-বাহিনী মেরে ফেলবে। ভয়ে কুঁকড়ে থাকে সে। কারো সাথে কথা বলতেই তার মনে চায় না।
একদিন মনে হলো তার, এ জীবন আর রেখে লাভ কি? এভাবে ঘরের চার দেয়ালের মাঝে বন্দি জীবন কী কাজে লাগতে পারে? তার চেয়ে সে বাইরে বেরিয়ে পড়বে। হয়তো তাকে পাক-বাহিনীর নির্মম নির্যাতন সইতে হতে পারে, তবুও সে তার স্বামীর খোঁজে বেরিয়ে পড়বে। মারা গেলে যুদ্ধের ময়দানে মারা যাবে সে।
তার ভাবনা তাকে ধীরে ধীরে কঠিন করে তোলে। একদিন রাতে সে সবার অগোচরে বেরিয়ে পড়ে। ভীষণ অন্ধকার রাত। এই অন্ধকারে পথ চলছে সুজানা। সে জানে অন্ধকার ভেদ করে সকালের আলো ফুটবেই। সেই সকালের আলোতে সে তার প্রিয়জনকে খুঁজে নেবে।
সারারাত এলোমেলো পথ চলতে চলতে এক সময় সকাল হয়। সে আবিষ্কার করে জায়গাটা একটা উপত্যকার মতো। সূর্যটা মাত্র পাহাড়ের ওপাশে উঁকি দিয়েছে, বনেজঙ্গলে পাখিরা উড়ছে খাদ্যের সন্ধানে।
সুজানা পাহাড়ি পথ ধরে আরো সামনে এগিয়ে যায়। এমন সময় খুব কাছেই একটি ক্যাম্প দেখতে পায়। সে বুঝতে পারে এটা মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প। তাই সে আশার আলো যেনো খুঁজে পায়।
কিছুক্ষণ আরো এগোতেই একজন লোক রাইফেল হাতে তার দিকে এগিয়ে আসে। তারপর প্রশ্ন করে, ‘এই আপনি কে? কোথা থেকে এসেছেন?’
সুজানা ভয় পায় না, সে বলে, ‘আমার নাম সুজানা। আমার স্বামীর নাম আমির হোসেন। সে একজন মুক্তিযোদ্ধা।’
লোকটা সুজানার আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করে তারপর তাকে ক্যাম্পের ভেতর নিয়ে যায়।
ক্যাম্পের ভেতর বসে আছেন জহিরুল হক খান। তিনি সুজানাকে দেখেই চমকে উঠেন। তারপর প্রশ্ন করেন, ‘আপনাকে কোথায়ও দেখেছি মনে হচ্ছে?’
সুজানা তার পরিচয় দিতেই একগাল হেসে আরো সামনে এগিয়ে আসেন জহিরুল। তারপর বলেন, ‘আপনাকে চিনতে পেরেছি। আমির ভাই আমার প্রিয় একজন নায়ক। আপনাকেও আমি ওনার সাথে একবার কোনো একটা অনুষ্ঠানে দেখেছিলাম। আচ্ছা, আমির ভাই এখন কোথায় আপনি কি জানেন?’
সুজানা নিরুত্তর থাকে। তার চোখ গড়িয়ে পড়ছে অশ্রুবিন্দু। জহিরুল বলতে থাকেন, ‘আচ্ছা বলতে হবে না, শুনেছি তাকে পাক আর্মিরা নিয়ে গেছে। এরপর তিনি সেখান থেকে বের হয়ে কলকাতায় প্রশিক্ষণ নিয়ে কিছু দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধাকে সংগঠিত করে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। নদীটার ওই পাড়েই ওনাদের ক্যাম্প। ঠিক আছে, আপনি আমাদের কাছেই থাকেন। আমরা ওনাকে খুঁজে বের করবো। চিন্তার কিছুই নেই।’
সুজানা ভাবে জীবনে ঝুঁকি না নিলে জয়লাভ করা যায় না। আজ সে জীবনের ঝুঁকি নিয়েছে তার স্বামীকে খুঁজে বের করার জন্যে, পরিণামে আল্লাহতায়ালা তাকে সহজ পথে পরিচালিত করেছেন। এই জহিরুল হক খান সম্পর্কে সে আগে থেকেই কিছুটা জানতো। তার স্বামীই তার সম্পর্কে বলেছিলো। একজন ন্যায়নিষ্ঠাবান মানুষ।
‘কী ভাবছেন?’ সুজানার অন্যমনস্কতা দেখে জিজ্ঞাসা করেন জহিরুল হক খান।
সুজানা প্রশ্ন করে, ‘আমার স্বামীকে ফিরে পাবো তো?’
‘আপনি কি জানেন? এই দেশটা আমাদের মায়ের মতো। মা যেমন সন্তানকে নানা বিপদের হাত থেকে আগলে রাখেন ঠিক তেমনি এই দেশ, দেশের আলো-বাতাস, মাটি আমাদেরকে মায়ের মতোই আগলে রাখে। এই মাটি থেকে আমরা যে ফসল পাই তা দিয়ে দেশের মানুষের পেটের খোরাক হয়। আজ সেই দেশের মা, মাটি ও মানুষরা পাক বাহিনীর নির্মমতায় পিষ্ট। ওরা বাঙালিকে মানুষ মনে করে না। বাঙালিকে দাবিয়ে রেখে তাদের হক নষ্ট করে নিজেদের উদরপূর্তি করছে। আমরা এমন একটি সময়ের মধ্যে অবস্থান করছি যে সময়টাকে মূল্য দিতে হবে। মূল্য দিতে হবে আমাদের দেশমাতার ভালোবাসার। পাক শকুনগুলো খুবলে খুবলে খাচ্ছে আমাদের মায়ের রক্ত-মাংস। এই সময়ে আমাদের ভাবনা কী হওয়া উচিত?’
সুজানা কাঁদছে। আবার বলা শুরু করলেন জহিরুল হক খান, ‘আমাদের শক্ত মনের অধিকারী হতে হবে। আমাদের প্রতিজ্ঞা থাকতে হবে দেশ-মাতাকে বাঁচাবার জন্যে। দেশ ও দেশের মানুষ যদি পাকবাহিনীর নির্মমতা থেকে মুক্ত না হয় তাহলে আমাদের বেঁচে থাকার কোনো অর্থ হয় না। বলুন, দেশটা যদি ওদের দখলেই চলে যায় তাহলে আপনি কি আপনার স্বামীকে ফিরে পেতে পারেন?’
প্রশ্নটা ঠিক সুজানার বুকে বিদ্ধ হলো একটা তীরের মতো। সে তার চোখের পানি মুছলো, তারপর বললো, ‘ভাইজান, আমি সত্যিই একটা ভুলের মধ্যে ছিলাম। আপনার মতো করে দেশের কথা ভাবিনি। আমার হৃদয় জুড়ে ছিলো শুধুই আমার স্বামী। এছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারিনি। আমি দুঃখিত, ক্ষমা চাইছি আমার দেশমাতার কাছে, ক্ষমা চাইছি মহান আল্লাহর কাছে, যিনি আমাকে জীবন দান করেছেন এবং সত্যিকার ধর্ম আঁকড়ে ধরে তাঁর কাছে সিজদা করার তৌফিক দিয়েছেন। আসলেই আমি ভুল ছিলাম, এখন বলুন আমাকে কী করতে হবে?’
ক্যাম্পের সবাই হাততালি দিলো। এবার সবাই মিলে সুজানার কাছে এলো। তারপর জহিরুল হকের ইশারায় একজন যোদ্ধা সুজানার হাতে একটা রাইফেল তুলে দিলো। তারপর বললো, ‘আপনার প্রশিক্ষণ আজ থেকেই শুরু হবে। যতোটা শত্রুকে ঘায়েল করতে পারবেন, আমার স্বামীকে পাবার পথ ততোটাই নিকটবর্তী হবে।’
রাইফেল হাতে নিয়ে সুজানার মনে হলো, সে আর এখন কোনো পরাজিত নারী নয়। সে একজন যোদ্ধা, জীবনের বাকি পরিচয়টা যোদ্ধা হিসেবেই কাটিয়ে দিতে চায়। সে মনে করে, দেশপ্রেমিক একজন যোদ্ধা মরলেও জয়ী, আর জিতলেও বিজয়ী। তার লক্ষ্যটাই আসল। ফলাফল তো সৃষ্টিকর্তার হাতে, এর মধ্যে মানুষের কোনো হাত নেই।
সুজানার প্রশিক্ষণ শেষ হলো এক সময়। সে কাজে যথেষ্ট পারদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে। তার সাফল্যে বেশি খুশি জহিরুল হক খান।
সুজানাসহ সবাইকে বললো, ‘শোনো তোমরা, আগামীকাল আমরা এই নদীটা পাড়ি দিয়ে ওপারে শত্রুদের ক্যাম্পে আক্রমণ করবো। এতোদিন আমরা যেমন মনোবল হারাইনি, আগামীকালও যেনো আমাদের তেমন শক্তি ও মনোবল অটুট থাকে। ওপাড়ে পাকবাহিনীর যে ঘাঁটি আছে, তাদের সাথে আছে কিছু রাজাকার বাহিনী, আমরা যেভাবেই পারি তাদেরকে নির্মূল করবো। হয় জিতবো, না হয় মরবো। এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা। তবে মৃত্যুর আগে একজন যেনো কমপক্ষে তিনজনকে খতম করে যেতে পারি সেই প্রচেষ্টাই থাকবে। কি বলো সবাই?’
সবাই রাইফেল উঁচু করে অভিবাদন করলো কমান্ডারকে। তারপর একসাথে বললো, ‘হয় জিতবো, না হয় মরবো। তবে মরার আগে শত্রুদের খতম করবো।’
সেই রাতেই নৌকায় করে অন্ধকারে নদীটার ওই পাড়ে পৌঁছে যায় জহিরুল হক খানের দল। ঘুম থেকে ওঠার আগেই শুরু করে আক্রমণ।
এই যুদ্ধে জহিরুল হক খানের দল বীরের মতো তীর সমান মনোবল নিয়ে সামনে এগিয়ে যায়। কিছু বুঝার আগেই পাকবাহিনীর প্রায় সতেরোজন সৈনিক খতম হয়। রাজাকার বাহিনীসহ অন্যরা পালিয়ে যায়, তবে যাবার আগে এক রাজাকারের এলোমেলো ছোঁড়া গুলিতে সুজানার বাম পায়ের পাতা ভেদ করে একটি গুলি চলে যায়। সুজানা তারপরও তাদের পিছু ধাওয়া করে সেই রাজাকারটাকে খতম করে। মুহূর্তেই অন্যরা পালিয়ে যায় জঙ্গলের মাঝে।
রক্তে ভেসে যায় সুজানার দাঁড়িয়ে থাকা আশপাশ। এ সময় জহিরুল হক খানের দল এগিয়ে আসে, তারপর তাকে উদ্ধার করে নদীর এই পাড়ের ক্যাম্পে নিয়ে আসে।
ক্যাম্পে একজন মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসক আছেন। তার নাম ডাঃ প্রলয় কুমার মজুমদার। সুজানাকে দেখেই বললেন, ‘ভয় পাবেন না দিদি, জীবনটা এমনই। দেশের জন্যে রক্তে রঙ্গিন হতে হতে জীবনকে উপভোগ করতে হয়। দেশের জন্যে রক্ত বের হলে ব্যথা হয় না; শুধু হৃদয়ে ক্ষরণ হয় সারাদশের মানুষের জন্যে, তাঁদের দুর্দশার জন্যে, প্রতিশোধের জন্যে। আপনি যখন সারাদেশের মানুষের কষ্টের কথা ভাববেন, তখন আর নিজের শরীরের কষ্টের কথা মনে থাকবে না, ভুলে যাবেন, এই তো?’
ডাক্তারের কথায় হ্যাঁ সূচক মাথা দোলায় সুজানা। তাই তো! তার যে গুলিতে পায়ের রক্তের ধারায় কোনো ব্যথা লাগছে না, একি? একটা মানুষ গুলি খেলো, পায়ের পাতা ভেদ করে গুলি বেরিয়ে গেলো ওপাশ দিয়ে, তারপরও ব্যথা হচ্ছে না কেন? সে নিজে নিজেই ভাবে। তাহলে কি ডাক্তারের কথাই সঠিক?
প্রায় এক সপ্তাহের চিকিৎসায় পুরোপুরি সেরে উঠে সুজানা। এরপর সে ভাবে, সে-তো জীবন নিতে চায় না, কিন্তু কেন জীবন নিতে হয়? জীবন তো অত্যন্ত দামী একটা বিষয়, যা একবার চলে গেলে আর পাওয়া যায় না। এই জীবনে মানুষ একটাই তো দেহ ও আত্মা পায়, এই দেহ ও আত্মার বিনাশ হলে সেটা আর ফিরে আসে না। তাহলে কেনো এই জীবন দেওয়া নেওয়ার খেলা? মানুষ তো চাইলেই তাদের সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করে নিতে পারে। তাতে হাজার হাজার জীবন বেঁচে যায়। কিন্তু মানুষ তার স্বীয় স্বার্থ বজায় রাখার জন্যে তা করবে না, যুদ্ধ করবে, জীবন নেবে ও জীবন দেবে। এটাই কি আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সামান্য দু’দিনের এই পৃথিবীতে? কেউ কে চিরকাল বেঁচে থাকবে? এই যে ইয়াহিয়া, ভুট্টো- এরাও কি তাদের শাসন, শোষণ ও ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে পারবে? পারবে না। তাহলে কিসের এতো হিংসা, হানাহানি, নির্যাতন, জুলুম? হাজার হাজার নিরাপরাধ মানুষের জীবন নিয়ে নিচ্ছে, নারীদের সম্ভ্রম কেড়ে নিচ্ছে কুকুরের মতো। রাস্তায় রাস্তায়, পথে-প্রান্তরে, নদ-নদীতে গুলিবিদ্ধ বেওয়ারিশ লাশ ভাসছে।
এ সময় সুজানার সামনে এলো জহিরুল হক খান। সুজানাকে বিছানায় শুয়ে শুয়ে ভাবতে দেখে হেসে হেসে বললেন, ‘একজন যোদ্ধা শুয়ে থাকবে। তা তো হয় না। আগামীকাল কিন্তু অপারেশন আছে। যেতে হবে যুদ্ধে, পারবে তো?’
তড়াক করে বিছানা থেকে উঠে বসলো সুজানা। তারপর বললো, ‘হ্যাঁ, আমি রেডি। যেতে প্রস্তুত।’
খুশি হলেন জহিরুল হক খান। তারপর বললেন, ‘এবারের অপারেশন একটু ভিন্ন। হয়তো সেই অপারেশনের পর তোমার স্বামীকে পেয়েও যেতে পার।’
‘না। দেশকে শত্রুর হাত থেকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত আমি আমার স্বামীর কাছে যেতে চাই না। গত সপ্তাহের যুদ্ধ আমাকে পথ দেখিয়ে দিয়েছে। আমার স্বামী যেমন একা অন্যদের নিয়ে যুদ্ধ করছে, তেমনি আমিও আপনাদের সাথে একা যুদ্ধ করতে চাই। যুদ্ধ করে জীবনে জয়ী হতে চাই। এই যুদ্ধ চলবে...।’
অবাক হলেন ক্যাপ্টেন জহিরুল হক খান। তিনি মনে হয় এমন নারী জীবনে এই প্রথম দেখলেন।
ডাঃ প্রলয় কুমার মজুমদারও নিকটেই ছিলেন, ধীরে ধীরে এগিয়ে এলেন। তারপর সুজানার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, ‘তোমাদের মতো নারীরা আছে বলেই আমরা এই দেশকে দেশ-মাতা বলি। তোমরাই বীর প্রসব করো। তোমাদের গর্ভেই বীরের জন্ম হয়। সে কারণেই একদিন বাংলা হয়ে ওঠবে বাংলাদেশ। আমরা সেদিনটারই অপেক্ষায়ই আছি।’
ঠিক এ সময় ক্যাম্পের যোদ্ধারা সমস্বরে বলে উঠলো, ‘জয় বাংলা’। বাতাসে বাতাসে জয়বাংলা উচ্চারণটা ভেসে বেড়াতে লাগলো। ডাঃ প্রলয় কুমার মজুমদার ভাবছেন এই শ্লোগান যোদ্ধাদের সাহস ও মনোবল বাড়িয়ে দিচ্ছে। রক্ত কণিকা যেনো হাইপ্রেসার হয়ে জানান দিচ্ছে- বর্বর পাকবাহিনীতে খতম করো, ওদের দেশ থেকে বিতাড়িত করো। ওরা আমার বাংলাকে ধর্ষণ করছে, ওদের কোনো ক্ষমা নেই। (চলবে)