প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৪, ০০:০০
দেবদাস কর্মকারের কবিতা
কাছের মানুষ
কাছের মানুষ কেনো যেনো দামি নয় মানুষের কাছে
যেমন কাছের বৃক্ষ নদী ভাঙা কুলো, নরোম ঘাসের ডগা
উপেক্ষার স্বর খুব কাছ থেকে ঠেলে দেয় দূরে
পাশাপাশি থেকে তাকে কোনোদিনও চেনে না যেনো
যখোন থাকে সে একান্ত নিজের জগতে।
ঝরে পাতা চুপে চুপে রাতভর জোনাকির ভিড়ে
কুমারী পাতারা শোনে না তাদের বেদনার স্বর
নিরব ঘুমের ঘোরে তবু বেজে ওঠে কিশোরীর শাখা
শিয়রে আকাশ নিরুজ্জ্বল নক্ষত্রের আলো
ফুরায় কাছের মানুষ কী জানি, কী কথার ফাঁকে!
আধো জ্যোৎস্নায় উড়ে যায় নিশীথ রঙের পাখি
ভাট ফুলের গন্ধে ভাসে চারদিক, মানবী এক
পাংশুটে মুখে গাঢ় রূপ ঢেকে তার একা একা
শেষ রাত মিশে যায় বুঝি বা আঁধারের পিছে
নির্জন পথ নদী ঘাট গৃহবাস বন অস্ফুট বোধ স্মৃতি শৈশব।
কাছের মানুষ সরে যায় হৃদয়ে কুয়াশা নিয়ে কনকনে শীতে
একবার দুটি হাত ধরে চোখ দিয়ে দেখে না একটি মুখের ছবি
কী যেনো কী এক বিষাদের ছায়া কোন যুগে জমে ছিলো বুকে
মানুষের ইতিহাসে ফুরায় কাছের মানুষ নিরুজ্জ্বল নক্ষত্রের দেশে।
২৯ মার্চ ২০২৪, ঢাকা, ১৫ চৈত্র, ১৪৩০, বসন্তকাল।
***
শত কোলাহলে
চারপাশ শান্ত হলে আমার মতোই আমি,
সন্ধ্যার আঁধার ভেঙে প্রাণহীন আলো
বহুরূপি মানুষ চোর-বাটপার উসখুস প্রেমিক
নেশাখোর গাড়ির চালক, খুব কাছের ভিজে গন্ধ
ময়লার ভাগাড়, জীবন মৃত্যুর চোখ অথবা
জন্ম থেকে বুকে নেয়া অলীক স্বপ্ন হৃদয়।
এ শহরে রটে কতো ভৌতিক শব্দ অন্তসারশূন্য
কোনো এক অশ্রুত দ্বন্দ্ব মস্তিষ্কের কোষের ভিতর
সত্য-মিথ্যার সাগর বেলার চোরাবালি।
প্রশস্ততর রাস্তার পাশে বটবৃক্ষের আবৃত আঁধার
পাশে কানা গলি, সুউচ্চ ভবনে সব অনাত্মীয়জন
সেখানে মানুষের জন্ম হয় প্রেম হয় মৃত্যু হয়
জন্ম হয় আবার জন্ম হতে হতে হতে হতে।
ভ্রষ্টের রাজনীতি আছে ধর্ম আছে, পাপ নেই
আছে তাড়িত শ্রেষ্ঠত্বের অহঙ্কার,
কেবা শোনে দূরাগত পতনের ধ্বনি, না মানুষ
না ঈশ্বর।
জীবনজুড়ে যখোন সমর্পণ, গড় হয়ে দেখি আলো
ফুটপাথ ঘেঁষে বৃক্ষ, ভেরেণ্ডার ফুল
আকাশ তাকিয়ে যেনো কতো দূরে
তবু স্বপ্নে ডুবে যেতে যেতে শত কোলাহল
পৃথিবীর ধূলো মেখে
নগ্ন করুণ ধূসর পুষ্প কুঁড়ির মতো নেই অবসর।
৫ এপ্রিল ২০২৪, ঢাকা, ২২ চৈত্র ১৪৩০, বসন্তকাল।