শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫  |   ২৭ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৪, ০০:০০

পড়াশোনা

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি : বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত

অনলাইন ডেস্ক
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি : বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত

একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির জন্য : বায়োমেট্রিক্স (ইরড়সবঃৎরপং)

প্রথম অধ্যায়

বায়োমেট্রিক্স (ইরড়সবঃৎরপং)

গ্রীক শব্দ “নরড়” (যার অর্থ খরভব বা জীবন) ও “সবঃৎরপ” (যার অর্থ পরিমাপ করা) থেকে উৎপত্তি হয়েছে বায়োমেট্রিক্স (ইরড়সবঃৎরপং)। বায়োমেট্রিক্স হলো বায়োলজিক্যাল ডেটা মাপা এবং বিশ্লেষণ করার প্রযুক্তি। অর্থাৎ বায়োমেট্রিক্স হলো এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে কোন ব্যক্তির শারীরবৃত্তীয় অথবা আচরণগত বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে চিহ্নিত বা সনাক্ত করা হয়।

বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি যিশুখ্রিস্টের জন্মের প্রায় ২৯০০ বছর পূর্ব থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ১৪শ শতকে চীনে ব্যবসায়ীরা শিশুদের শনাক্ত করার জন্য তাদের হাতের তালু ও পায়ের ছাপ ব্যবহার করত। ১৯শ শতকের শেষের দিকে আঙুলের ছাপ ব্যবহার শুরু হয়। মূলত শত্রুদের শনাক্ত করতে বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তি ব্যবহৃত হতো। বিশেষ করে ফ্রান্স, ব্রিটেন এবং আমেরিকাতে এর প্রচলন শুরু হয়। ১৯৮০-এর দশকে বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করতে বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।

কম্পিউটার বিজ্ঞানে বায়োমেট্রিক্সকে ব্যক্তি সনাক্তকরণ এবং কোন সিস্টেমে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতির মাধ্যমে বায়োমেট্রিক্স ডিভাইসগুলো ব্যবহারকারীদের কোন প্রোগ্রাম, সিস্টেম বা কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে থাকে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তালিকা হতে কাউকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করার কাজেও বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

বায়োমেট্রিক্সের প্রকারভেদ (ঈষধংংরভরপধঃরড়হ ড়ভ ইরড়সবঃৎরপং)

দেহের গঠন ও আচরণগত বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। যেমন-

ক. দেহের গঠন ও শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যর বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি :

১. মুখ (ঋধপব) : মুখ বা চেহারার বৈশিষ্ট্য (ঋধপরধষ পযধৎধপঃবৎরংঃরপং) বিশ্লেষণ করা।

২. ফিঙ্গারপ্রিন্ট (ঋরহমবৎঢ়ৎরহঃ) : প্রত্যেকের আলাদা একক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ হাতের ছাপ বিশ্লেষণ করা।

৩. হ্যান্ড জিওমেট্রি (ঐধহফ এবড়সবঃৎু) : হাতের গঠন (ঝযধঢ়ব) এবং আঙ্গুলের দৈর্ঘ্যরে মাপ বিশ্লেষণ করা।

৪. আইরিস (ওৎরং) : চোখের মণির চারিপার্শ্বে বেষ্টিত রঙিন বলয় (ঈড়ষড়ৎবফ ৎরহম) বিশ্লেষণ করা।

৫. রেটিনা (জবঃরহধ) : চোখের পেছনের অক্ষিপটের (রেটিনার) মাপ বিশ্লেষণ করা।

৬. শিরা (ঠবরহ) : হাত এবং কব্জির শিরার প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করা।

৭. ডিএনএ (উঘঅ) : কোষের মধ্যে অবস্থিত ডিএনএ বিশ্লেষণ করে ডিএনএ প্রোফাইলিং তৈরি করা।

খ. আচরণগত বৈশিষ্ট্যের বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি :

১. কণ্ঠস্বর (ঠড়রপব) : প্রত্যেকের কণ্ঠের ধ্বনির বৈশিষ্ট্য, সুরের উচ্চতা, সুরের মূর্ছনা, স্পন্দনের দ্রুততা ইত্যাদি বিশ্লেষণ করা।

২. সিগনেচার (ঝরমহধঃঁৎব) : হাতের স্বাক্ষর বিশ্লেষণ করা।

৩. টাইপিং কি স্ট্রোক (ঞুঢ়রহম কবুংঃৎড়শব) : নির্দিষ্ট কোনো পাসওয়ার্ড, যা টাইপ করে এন্ট্রি করা হয় এবং বিশ্লেষণ করা।

বায়োমেট্রিক্স-এর ব্যবহার (অঢ়ঢ়ষরপধঃরড়হ ড়ভ ইরড়সবঃৎরপং):

বর্তমানে নিরাপত্তার কাজে বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ প্রযুক্তি সাধারণত দু ধরনের কাজে ব্যবহৃত হয়। যথা-

১. কোনো ব্যক্তি শনাক্তকরণ (ওফবহঃরভরপধঃরড়হ) কাজে

২. সত্যতা যাচাই (ঠবৎরভরপধঃরড়হ) কাজে

৩. প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ (ঊহঃৎু পড়হঃৎড়ষ)

ক. ব্যক্তি শনাক্তকরণ (ওফবহঃরভরপধঃরড়হ) কাজ :

ব্যক্তি শনাক্তকরণ কাজে প্রচলিত সনাতনী পদ্ধতিতে ভোটার আইডি, পাসপোর্ট অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদি টোকেননির্ভর এবং ইউজার নেইম, পাসওয়ার্ড বা পিন নম্বর ইত্যাদি জ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এতে জালিয়াতির সুযোগ থাকে। তাই বর্তমানে মানুষের নিজস্ব একক কোনো বৈশিষ্ট্যের আলোকে অর্থাৎ বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতিতে শনাক্তকরণের কাজ করা হয়। এটি অনেক বেশি নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য।

খ. সত্যতা যাচাই (ঠবৎরভরপধঃরড়হ) কাজ :

এ পদ্ধতিতে কম্পিউটারে রক্ষিত বায়োলজিক্যাল ডেটার তুলনা করে ভেরিফিকেশন করা হয়।

গ. প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ (ঊহঃৎু পড়হঃৎড়ষ) :

বায়োমেট্রিক্সের মাধ্যমে কোন অফিস, কারখানা, গবেষণাগার, স্কুল-কলেজ বা যেকোন প্রতিষ্ঠানে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

বায়োমেট্রিক্স কিভাবে কাজ করে?

একটি বায়োমেট্রিক ডিভাইস কোন ব্যক্তির ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যগুলোকে ডিজিটাল কোডে রূপান্তর করে এবং এই কোডকে কম্পিউটারে সংরক্ষিত কোডের সাথে তুলনা বা মিল করে। যদি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত কোড কম্পিউটারে সংরক্ষিত কোডের সাথে মিলে যায় তবে তাকে ডিভাইস ব্যবহারের অনুমতি দেয় বা তাকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

ইহা বাস্তবায়নের জন্য যা প্রয়োজন-

১। কম্পিউটার/ মোবাইল। ২। ইন্টারনেট সংযোগ। ৩। ওয়েব ক্যামেরা। ৪। স্ক্যানার। ৫। বায়োসেন্সর নির্ণয়ের ডিভাইস ইত্যাদি।

বায়োমেট্রিক্সের সুবিধা :

১. যন্ত্রনির্ভর স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা হওয়ায় এতে পক্ষপাতিত্ব ঘটার কোনো সুযোগ থাকে না। ফলে এর নিখুঁত নিরাপত্তা পাওয়া সম্ভব।

২. প্রাথমিক খরচ বেশি হলেও সার্বিকভাবে খরচ কম।

৩. বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতির নিরাপত্তাজনিত কীগুলো ব্যক্তির শারীরবৃত্তীয় অংশ হওয়ায় তা স্থানান্তরযোগ্য নয় এবং এ কারণে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলে যে কোনো ক্ষেত্রে উচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

৪. একে জাল বা নকল করা প্রায় অসম্ভব।

বায়োমেট্রিক্সের অসুবিধা

১. শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভরশীল বিধায় এতে ব্যবহৃত শারীরিক বৈশিষ্ট্যগুলো অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক কোনো সাময়িক বা স্থায়ী পরিবর্তন শনাক্তরণের কাজটি ধীর বা অসফল করে তুলতে পারে।

২. ইন্সটলেশন খরচ বেশি।

৩. এটি পরিচালনার জন্য দক্ষ লোকের প্রয়োজন হয়।

ক. দেহের গঠন ও শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যর বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি :

ফিঙ্গার প্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ (ঋরহমবৎ ঢ়ৎরহঃ) :

এটি ব্যক্তি সনাক্তকরণের জন্য সর্বাধিক পরিচিত এবং ব্যবহৃত বায়োমেট্রিক (ইরড়সবঃৎরপং) পদ্ধতি। মানুষের আঙ্গুলের ছাপ ইনপুট হিসেবে গ্রহণ করার পর তা পূর্বে সংরক্ষিত আঙ্গুলের ছাপের টেম্পলেটের সাথে ম্যাচ করে ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে সনাক্ত করার কার্যকর পদ্ধতি হলো আঙ্গুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি। আর, যে বায়োমেট্রিক্স (ইরড়সবঃৎরপং) ডিভাইসে মানুষের আঙ্গুলের ছাপ ইনপুট হিসেবে গ্রহণ করার পর তা পূর্বে সংরক্ষিত আঙ্গুলের ছাপের টেম্পলেটের সাথে ম্যাচ করে ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে সনাক্ত করা হয় তাকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার বলে।

ফিঙ্গারপ্রিন্ট বায়োমেট্রিক্সের সুবিধা

১. সঠিকতা (অ্যাকিউরিসি) অভ্যন্ত উচ্চমানের।

২. সবচেয়ে সস্তা, উন্নত ও সহজলভ্য বায়োমেট্রিক্স (ইরড়সবঃৎরপং) ডিভাইস।

৩. সহজে ব্যবহারযোগ্য এবং এর ডেটাবেজ মেইনটেইনে অল্প মেমোরির প্রয়োজন হয়ে থাকে।

ফিঙ্গারপ্রিন্ট বায়োমেট্রিক্সের অসুবিধা

১. হাতের আঙুলে ময়লা বা দাগ প্রভৃতি লাগার কারণে বায়োমেট্রিক্স ডিভাইসে সঠিক ফলাফল পেতে দেরি হতে পারে বা অকৃতকার্য হতে পারে। যেমন- শ্রমিকরা যেহেতু সবসময় হাতের কাজ করে তাই তাদের জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট বায়োমেট্রিক্স (ইরড়সবঃৎরপং) সমস্যার সৃষ্টি করে।

২. বয়স বৃদ্ধি পেলে হাতের আঙুলের ছাপ পরিবর্তিত হয় বিধায় বিশেষ করে শিশুদের জন্য এই প্রযুক্তি কার্যকর নয়।

ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডারের ব্যবহার

১. বিভিন্ন অফিস আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা প্রভৃতি স্থানে উপস্থিতি নির্ণয়ে সর্বাধিকভাবে ব্যবহৃত হয়।

২. মোবাইল, ল্যাপটপ প্রভৃতি ডিভাইসে প্রবেশের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৩. ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের ক্ষেত্রে।

৪. বর্ডার নিয়ন্ত্রণে পাসপোর্ট যাচাইয়ের ক্ষেত্রে।

৫. আদমশুমারির রিপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে।

ফেইস রিকগনিশন সিস্টেম (ঋধপরধষ জবপড়মহরঃরড়হ ঝুংঃবস)

যে বায়োমেট্রিক্স (ইরড়সবঃৎরপং) পদ্ধতিতে মানুষের মুখের জ্যামিতিক আকার ও গঠনকে পরীক্ষা করে উক্ত ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে সনাক্ত করা হয় তাকে ফেইস রিকগনিশন সিস্টেম বলে। এক্ষেত্রে কোন ব্যক্তির সরাসরি মুখের ছবিকে কম্পিউটারে সংরক্ষিত ছবির সাথে তুলনা করা হয়। এ পদ্ধতিতে দুই চোখের মধ্যবর্তী দূরত্ব, নাকের দৈর্ঘ্য ও ব্যাস, চোয়ালের কৌণিক পরিমাণ ইত্যাদি পরিমাপের মাধ্যমে ব্যক্তিকে সনাক্ত করা হয়।

ফেইস রিকগনিশন সিস্টেম যেভাবে কাজ করে

ফেইস রিকগনিশন পদ্ধতিতে একটি সাধারণ ডিজিটাল ক্যামেরার সামনে মাত্র কয়েক সেকেন্ড দাঁড়ালে এটি ঐ ব্যক্তির মুখের একটি ইমেজ নিয়ে তা সংযুক্ত কম্পিউটারে প্রেরণ করে। কম্পিউটার কেবল ঐ মুখের কিছু নির্দিষ্ট বিষয় যেমন- চোখ, মুখ ও নাকের দূরত্ব, এদের অবস্থান ইত্যাদি ডেটা নিয়ে একটি নিউমেরিক কোড তৈরি করে। অতঃপর প্রাপ্ত নিউমেরিক ডেটাকে পূর্বে ঐ ব্যক্তির ফেইস থেকে জেনারেট করা নিউমেরিক কোডের সাথে মিলিয়ে ব্যক্তিটিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করে।

ফেইস রিকগনিশন বায়োমেটিক্সেও সুবিধা

১. অনধিকার প্রবেশমূলক নয়।

২. তুলনামূলক সস্তা প্রযুক্তি।

৩. সহজে ব্যবহারযোগ্য।

৪. সঠিক ফলাফল পাওয়া যায়।

ফেইস রিকগনিশন বায়োমেট্রিক্সেও অসুবিধা

১. মুখে আলোর প্রতিফলন ঘটলে অনেক সময় এ সিস্টেমটি মুখমণ্ডল চিনতে পারে না।

২. চোখে সানগ্লাস পরা, এছাড়া টুপি, দাড়ি, লম্বা চুল, স্কার্ফ, মেকআপ ইত্যাদি থাকলে মুখমন্ডল চিনতে অসুবিধা দেখা দেয়।

৩. অভিন্ন যমজদের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি তেমন কার্যকর নয়।

৪. সময়ের সাথে সাথে মানুষের মুখের বৈশিষ্ট্যসমূহ পরিবর্তন হয় ফলে সনাক্ত করতে সমস্যা হয়।

ফেইস রিকগনিশনের ব্যবহার

১. অধিকাংশ পার্সোনাল ডিভাইসে (যেমন : স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ট্যাব প্রভৃতি) এখন বিল্ট ইন ফেইস ক্যামেরা থাকায় এই সমস্ত ডিভাইস অ্যাক্সেস বা অথেনটিকেশনে এখন ফেইস রিকগনিশন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

২. স্মার্ট অ্যাডভার্টাইজিং বয়স অনুযায়ী অ্যাড মার্কেটিং গ্রুপ নির্ধারণে ফেইস রিকগনিশন সিস্টেম ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

৩. ডিজিটাল ডেটার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ফেইস রিকগনিশন সিস্টেম ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

৪. কোন বিল্ডিং বা কক্ষেও প্রবেশদ্বাওে পাহারা দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়।

হ্যান্ড জিওমেট্রি বায়োমেট্রিক্স (ঐধহফ এবড়সবঃৎু) :

মানুষের হাতের আকৃতি ও জ্যামিতিক গঠনে ভিন্নতা রয়েছে। যে বায়োমেট্রিক্স (ইরড়সবঃৎরপং) পদ্ধতিতে মানুষের হাতের জ্যামিতিক আকার ও গঠন বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করা হয় তাকে হ্যান্ড জিওমেট্রি সিস্টেম বলে।

হ্যান্ড জিওমেট্রি বায়োমেট্রিক্সের সুবিধা

১. বিশেষ হার্ডওয়্যার ব্যবহৃত হয় বিধায় একে যে কোনো সিস্টেম বা ডিভাইসের সাথে সমন্বয় করা সম্ভব।

২. ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করতে এখানে যে ডেটাকে প্রসেস করা হয় তার পরিমাণ কম হওয়ায় এটি সহজেই স্মার্টকার্ডে ব্যবহৃত হতে পারে।

৩. হ্যান্ড জিওমেট্রিও ব্যবহার অনেক সহজ।

হ্যান্ড জিওমেট্রি বায়োমেট্রিক্সেও অসুবিধা

১. ইনস্টলেশন খরচ বেশি

২. ডিভাইসের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি

৩. বাত আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য এই পদ্ধতি কার্যকর নয়

৪. ফিংগার প্রিন্ট এর চেয়ে ফলাফলের সূক্ষ্মতা কম।

হ্যান্ড জিওমেট্রির ব্যবহার

১. বিভিন্ন পার্সোনাল আইডেন্টিফিকেশন কার্ড বা পার্সোনাল নম্বর জেনারেশনে যেখানে একাধিক বায়োমেট্রিক সিস্টেম সমন্বিত হয় সেসব ক্ষেত্রে হ্যান্ড জিওমেট্রি সিস্টেম ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

২. বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশন সিস্টেমে অথেনটিকেশনে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

৩.বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পরিচয়পত্রে।

আইরিস ও রেটিনা স্ক্যান (ওৎরং ্ জবঃরহধ ঝপধহ):

মানুষের চোখের অক্ষিগোলকের সামনের উপরে অবস্থিত রঙিন পর্দাকে আইরিশ বলে। আইরিশ অবস্থান করে চোখের মণির চারপাশে যা দেখতে অনেকটা আংটির মতো। চোখের চারপার্শ্বে বেষ্টিত এই রঙিন বলয় বিশ্লেষণ ও পরীক্ষা করে ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে সনাক্তকরন পদ্ধতিকে আইরিস স্ক্যান বলে।

আর, রেটিনা হলো চোখের মণির পিছনে অবস্থিত একটি আস্তরণ স্তর। মানুষের চোখের পেছনের অক্ষিপটের মাপ ও রক্তের লেয়ারের পরিমাণ বিশ্লেষণ ও পরিমাপ করে কোন ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে সনাক্তকরন পদ্ধতিকে রেটিনা স্ক্যান বলে।

আইরিস ও রেটিনা স্ক্যান যেভাবে কাজ করে

আইরিস স্ক্যান বায়োমেট্রিক্স (ইরড়সবঃৎরপং) পদ্ধতিতে কোনো ব্যক্তিকে তার মাথা ও চোখকে স্থির অবস্থায় ক্যামেরাসংযুক্ত একটি ডিভাইসের সম্মুখে স্থাপন করতে হয়। উক্ত ক্যামেরাটি চোখের দুটো ফটোগ্রাফ গ্রহণ করে যার মধ্যে একটি সাধারণ আলোতেও অদৃশ্য আলো তথা ইনফ্রারেড আলোতে গ্রহণ করা হয়। সাধারণ আলোর ফটোগ্রাফটি চোখের তারার দৃশ্যমান রঙিন অংশকে পরীক্ষা করতে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে ইনফ্রারেড আলোয় নেয়া ফটোগ্রাফটি চোখের তারার গাঢ় কালো অংশটি পরীক্ষা করতে ব্যবহৃত হয়। এই দুই ফটোগ্রাফকে কম্পিউটারে নেয়ার পর এর অপ্রয়োজনীয় অংশগুলো সরিয়ে ফেলা হয় এবং এখান থেকে প্রায় ২৪০টি অদ্বিতীয় বিন্দুকে শনাক্ত করা হয়। এগুলোকে একটি নিউমেরিক কোডে রূপান্তর করে তা আইরিস কোড হিসেবে এক্সট্যাক্ট করা হয়। অতঃপর পূর্বে সংরক্ষণ করা আইরিস কোডের সাথে তা ম্যাচিং করে কোনো অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করা হয়।

রেটিনা স্ক্যান পদ্ধতিটি এখন বাতিল প্রায়। এক্ষেত্রে চোখের মণির পশ্চাতে থাকা রেটিনাকে নির্দিষ্ট ক্যামেরা ও সেন্সর ব্যবহার করে স্ক্যান করা হয়। মানুষের চোখের রেটিনাতে থাকা ক্যাপিলারি ও স্নায়ুবিক কোষগুলোর জটিল গঠনকে এক্ষেত্রে বিশ্লেষণ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন লেয়ারের ক্যাপিলারিতে থাকা রঙের পরিমাণও এক্ষেত্রে বিবেচিত হয়ে থাকে। এ দুই উপাদান থেকে অদ্বিতীয় অংশগুলো চিহ্নিত ও ম্যাচিং করে রেটিনা স্ক্যান অদ্বিতীয়ভাবে যে কোনো ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারে।

আইরিস ও রেটিনা স্ক্যান বায়োমেট্রিক্সের সুবিধা

১. অত্যন্ত হাই অ্যাকিউরিস পাওয়া সম্ভব।

২. এই প্রত্যঙ্গগুলোকে সহজে নকল করা সম্ভব নয়।

৩. মৃত ব্যক্তির রেটিনা দ্রুত পচন ধরে বিধায় একে বায়োমেট্রিক্স (ইরড়সবঃৎরপং) পদ্ধতিতে ব্যবহার করে অপরাধমূলক কাজ করা সম্ভব নয়।

৪. এটি মাত্র ৫ মিনিটেই ব্যক্তি শনাক্তকরণের কাজটি সম্পন্ন করতে পারে।

আইরিস ও রেটিনা স্ক্যান বায়োমেট্রিস্কের অসুবিধা

১. অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রযুক্তি।

২. প্রচুর মেমোরি প্রয়োজন হয়।

৩. অনধিকার প্রবেশমূলক প্রযুক্তি।

৪. চোখের জন্য কিছুটা ক্ষতিকর।

মো. ফয়সাল আহম্মেদ ফরাজী : সহকারী উপাধ্যক্ষ ও আইসিটি প্রভাষক,

ড্যাফোডিল ইন্টার‌্যাশনাল কলেজ, চাঁদপুর

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়