প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৪, ০০:০০
বিতর্কের স্ক্রিপ্ট পয়েন্ট আকারে লেখা ও তার প্রস্তুতি

‘বিতর্ক করা’ আর ‘বিতর্ক পড়া’ এক কথা নয়। মঞ্চে এসে অনর্গল স্ক্রিপ্ট দেখে রিডিং পড়ার নাম বিতর্ক নয়, তা মূলত বিতর্ক পাঠ। এই পাঠ অনেকেই করতে পারে। ক্লাস থেকে কোনো শিক্ষার্থীকে ধরে এনে হাতে স্ক্রিপ্ট ধরিয়ে দিলে সেও দেখে দেখে পাঠ করে ৪/৫ মিনিট পার করে দিবে। কিন্তু একজন বিতার্কিক তার বক্তব্যে স্ক্রিপ্ট অনুসরণ করবে বটে, কিন্তু সে স্ক্রিপ্ট নির্ভর হবে না।
অনেকেই বাসা থেকে সস্পূর্ণ পৃষ্ঠা লিখে এনে তা মুখের সামনে ধরে মন্ত্রিসভার শপথ বাক্য পাঠের মত পাঠ করতে থাকেন, যা বিতর্ক মঞ্চে অগ্রহণযোগ্য। একজন বিতার্কিকের চিন্তা-চেতনায়, মননে-মগজে সর্বদাই একটি কথা থাকতে হবে। তা হলো ‘আমি বিতর্ক পড়বো না, বিতর্ক করবো’। এখন প্রশ্ন হলো : বিতর্ক না পড়ে কীভাবে বিতর্ক করে? সে আলোচনায় আসা যাক।
ধরুন একটি বিতর্কের বিষয়, ‘বৃদ্ধ পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব পালনে অবহেলার মূল কারণ সন্তানের মানসিকতা।’ এ বিষয়ের বিপক্ষ দল যদি বিরোধিতার স্ট্যান্ড নেন 'সুশিক্ষা'। তবে বিপক্ষ দলের দ্বিতীয় বক্তা বক্তব্যের ১ম অংশে বলতে পারেন :
স্ক্রিপ্টের প্রথম অংশ :
“বাবা আদর ভালোবাসা নিও, অনেক দিন হলো দেখি না তোমায়, আমার খুব কষ্ট হয় এ চার দেয়ালে বন্দী থাকতে, আমাকে মা বলে পরিচয় দিতে লজ্জা হতো তোমার, আর তাইতো আজ আমার জায়গা হলো বৃদ্ধাশ্রমে। তোমার প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। আমার শেষ একটাই ইচ্ছে রেখো, আমার মৃত্যুর খবর পেলে আমাকে তোমার বাবার কবরের পাশে কবর দিও।” মাননীয় মডারেটর পড়ছিলাম ১০ই মে ২০১৯ বিশ্ব মা দিবসে দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত ৮০ বছর বয়সী সাহারা খাতুন নামের এক বৃদ্ধা মায়ের চিঠি। ৬ বছর কেটেছে যার বৃদ্ধাশ্রমে। মাননীয় মডারেটর/সভাপ্রধান! সাহারা খাতুনের মত এমন অসংখ্য পিতা-মাতা নিজের সন্তানদের অবহেলার শিকার হয়ে চলে যেতে হলো বৃদ্ধাশ্রমে। যার মূল কারণ সন্তানদের মানসিকতা নয় বরং সুশিক্ষার অভাব। কেননা সন্তানের ভালো মানসিকতা তৈরি হবে কি হবে না তা নির্ভর করে সন্তানের সুশিক্ষার উপর। এ জন্যেই আমরা বলছি, ‘বৃদ্ধ পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব পালনে অবহেলার মূল কারণ সন্তানের মানসিকতা নয় বরং সুশিক্ষার অভাব’।
উপরের লেখাগুলো স্ক্রিপ্টের ১ম অংশ বিবেচনা করে তা হুবহু কাগজে না লিখে তা মনে রাখার জন্যে পয়েন্ট আকারে ছোট্ট একটি কাগজে লেখা যায়, ‘পয়েন্ট-১ : কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ’, ‘পয়েন্ট-২ : বিরোধিতার জায়গা পরিষ্কার করা।’--বিতার্কিক প্রাক-প্রস্তুতি নেয়ার সময় ১নং পয়েন্টটি দেখে কালের কণ্ঠ পত্রিকায় ১৯ মে ২০১৯ তারিখে কী লেখা হয়েছিলো তা উপলব্ধিতে এনে মুখস্থ করতে পারেন। লেখাগুলোর অর্থ উপলব্ধি করতে পারলে উপস্থাপনে ভাবাবেগ প্রকাশ পাবে। যেহেতু এটি একজন বৃদ্ধ মায়ের করুণ চিঠি, তাই তা বলার সময় বক্তার মুখের ভঙ্গি ও কণ্ঠস্বরে আবেগ অনায়াসে প্রকাশ পাবে। আবার পয়েন্ট-১ শেষ হলে পয়েন্ট-২ যেহেতু বিরোধিতার জায়গা পরিষ্কার করা, তাই বিতার্কিক নিজের মত করে বলতে পারবেন কেন মানসিকতার চাইতে সুশিক্ষার অভাবকে তারা সামনে আনলেন।
এই দুটি পয়েন্ট শেষে বিতার্কিক সংক্ষিপ্ত ভূমিকা শেষ করে তার কাজ হবে 'কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা।' অর্থাৎ প্রতিপক্ষকে কিঞ্চিৎ খোঁচা মেরে তাদের সাথে সাময়িক একমত পোষণ করে বুঝিয়ে দেয়া 'কেন আজকের বিষয়টিতে মানসিকতার চাইতে সুশিক্ষার অভাব অধিক যুক্তিযুক্ত?' কেননা বিতর্কের একটি চমৎকার সূত্র আছে। 'আগে মত, পরে দ্বিমত।'
স্ক্রিপ্টের ২য় অংশ :
"ধন্যবাদ মাননীয় মডারেটর/সভাপ্রধান! আমাকে বিতর্কের মঞ্চে কিছু বলার সুযোগ দেওয়ার জন্যে। আমাদের আজকের বিতর্কের বিষয় নির্ধারিত হয়েছে 'বৃদ্ধ পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব পালনে অবহেলার মূল কারণ সন্তানের মানসিকতা।' বিপক্ষে বলছি। মাননীয় মডারেটর/সভাপ্রধান! প্রতিপক্ষ দলের প্রথম ও দ্বিতীয় বক্তার ১০ মিনিটের বক্তব্য শুনে আমার মনে হলো, বৃদ্ধ পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব পালনে অবহেলার মূল কারণ হিসেবে সন্তানের মানসিকতাকে প্রমাণ করতে গিয়ে তারা নিজেরাই মানসিক চাপে ভুগছেন। যে কারণে তারা সঠিক কারণ অনুসন্ধান না করে তাদের দলীয় অবস্থানকে সম্পূর্ণ দুর্বল প্রতীয়মান করেছেন।
প্রতিপক্ষ দলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, প্রতিপক্ষ বন্ধুগণ! ধরুণ, আমি কিছুক্ষণের জন্যে আপনাদের দলের একজন নিরন্তক সমর্থক এবং আমিও পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের অবহেলার কারণ হিসেবে মানসিকতাকেই দায়ী করছি। কিন্তু মাননীয় মডারেটর/সভাপ্রধান! প্রতিটি বিতর্ক ম্যাচের ফলাফল সুনির্দিষ্ট একটি সমাধানের পথ বলে দেয় এবং আজকেও আমরা সুনির্দিষ্ট একটি ফলাফলের পথে এগিয়ে যেতে চাই। ঠিক তখনই প্রশ্ন উঠে আজকে পিতা-মাতার প্রতি অবহেলার জায়গাটি থেকে সন্তানদের বের করে আনার জন্যে কোন অভাব পূরণ করা অতীব প্রয়োজন আছে। তখনই সমর্থনের জায়গা থেকে যদি আমরা মানসিকতার অভাব পূরণ করতে চাই, তবে সকলেই সুশিক্ষার অভাবকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরবেন। মাননীয় মডারেটর/সভাপ্রধান! যখন পিতা- মাতার প্রতি দায়িত্ব পালনে অবহেলার সমস্যা সমাধানে আমাদের দেখিয়ে দেওয়া সুশিক্ষায় হয় এর মূল উপকরণ, তখন এ কথা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত হয় যে, মানসিকতা নয় বরং সুশিক্ষার অভাব এই বৃদ্ধ পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব পালনে অবহেলার মূল কারণ। যেহেতু সন্তানের সুশিক্ষাই তার মধ্যে উত্তম মানসিকতার জন্ম দেয়। তাই মূল কারণ মানসিকতা নয়, সুশিক্ষা।’
স্ক্রিপ্টের ২য় অংশকে পয়েন্ট আকারে লেখা যায়, ‘পয়েন্ট-৩ : ভূমিকা’, ‘পয়েন্ট-৪ : প্রতিপক্ষের ২ বক্তার বক্তব্যের সমালোচনা’, ‘পয়েন্ট-৫ : প্রতিপক্ষের সাথে একমত পোষণ করে কোন্টি মূল কারণ তা চিহ্নিত করা’। তাহলে পয়েন্টগুলোর দিকে তাকালেই বিতার্কিক বুঝে নিবেন তাকে এখন কী বলতে হবে, আর কী করতে হবে।
স্ক্রিপ্টের ৩য় অংশে ২য় বক্তাকে অবশ্যই তথ্যের দিকে নজর দিতে হবে। বিখ্যাত কোনো মনীষীর উক্তি বা প্রকাশিত কোনো প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে প্রমাণ করতে হবে যে, তার বিরোধিতার জায়গাটিই সঠিক।
স্ক্রিপ্টের ৩য় অংশ :
‘মাননীয় মডারেটর/সভাপ্রধান! বিখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী কিংসলে ডেবিটের মতে, ‘সামাজিকীকরণ এমন একটি মাধ্যম, যার মাধ্যমে মানব শিশু ক্রমশ ব্যক্তিত্বপূর্ণ মানুষে পরিণত হয় এবং এ প্রক্রিয়া ছাড়া ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্ব লাভে ব্যর্থ হয়। সমাজের একজন যোগ্য উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে না।’ অথচ মাননীয় মডারেটর/সভাপ্রধান! আমাদের সামাজিকীকরণের চিত্রে এখন দেখতে পাওয়া যায় ভিন্ন চিত্র। দুরন্তপনা শিশু-কিশোরদের ছুটে চলা মাঠের পর মাঠ, ডাংগুলি লাটিম কিংবা দাঁড় বেয়ে নৌকা চালানো, স্কুলের সময় হলে স্কুলে যাওয়ার চিত্রের পরিবর্তে সেখানে এখন দেখা যায় নগরায়নের আধুনিকতায় কিশোর গ্যাং কালচার, মাদকাসক্তি, ইভটিজিং-এর চিত্র। সামাজিকতার এমন চিত্রে সুশিক্ষা প্রত্যাশা করাটাও বোকামি। মাননীয় মডারেটর তথ্যচিত্র তুলে ধরছি : ২০১৮ সালের ৪ঠা অক্টোবর মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৩৬ লক্ষ। এর মধ্যে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৩৫ লক্ষ ৩৫ হাজার ৩০০। তথ্যসূত্র : মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
মাননীয় মডারেটর/সভাপ্রধান! যখন দেশের প্রায় সাড়ে ৩৫ লাখ মানুষ প্রতিনিয়ত মাদকাসক্তের ফলে নিজের জীবনটা নষ্ট করে ফেলে, তবে সে কিভাবে তার বৃদ্ধ পিতা-মাতার ভরণ পোষণের দায়িত্ব নিবে? মাননীয় মডারেটর/সভাপ্রধান! ডিজিএফপি ডট গভ ডট বিডি-এর তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ৭১ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবারের সন্তানের সাথে দূরত্ব বাড়ছে তার পিতা-মাতার। কেননা বেশিরভাগ পরিবারে বাবা ব্যস্ত ল্যাপটপে, মা সিরিয়ালে, সন্তান মোবাইল ফোনে। যার ফলে আমরা গ্রহণ করছি যান্ত্রিকতা। যান্ত্রিকতা যত বাড়ছে ততই আমরা সুশিক্ষা থেকে দূরে সরে আসছি। যেখানে ল্যাপটপ ছাড়া পিতা আশা করা যায় না, সিরিয়াল ছাড়া মা আশা করা যায় না, সেখানে কীভাবে সন্তানেরা তাদের বৃদ্ধ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিবে? সে প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আমি জানি না কীভাবে পক্ষদল শুধুমাত্র সন্তানের মানসিকতাকে বৃদ্ধ পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব পালনে অবহেলার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। এ বিষয়ে সুস্পষ্ট যুক্তি প্রতিপক্ষ দলের থেকে আশা করছি। মাননীয় মডারেটর/সভাপ্রধান! ঠিক এই জন্যেই আমরা বলছি, বৃদ্ধ পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব পালনে অবহেলার মূল
কারণ সন্তানের মানসিকতা নয়, সুশিক্ষার অভাব।’
স্ক্রিপ্টের ৩য় অংশকে পয়েন্ট আকারে সাজালে পয়েন্ট হবে, ‘পয়েন্ট-৬ : সমাজবিজ্ঞানী কিংসলে ডেবিটের মতে’, ‘পয়েন্ট-৭ : বর্তমান সামাজিকীকরণ’, ‘পয়েন্ট-৮ : মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য’, ‘পয়েন্ট-৯ : বর্তমান পরিবারে বাবা-মা ও সন্তানের দূরত্ব’।
৪ মিনিটের বক্তব্যে ৯ পয়েন্টেই সাধারণত ৩ থেকে সাড়ে ৩ মিনিট শেষ হয়ে যায়। এবারে সমাপনীর পালা। তবে সতর্ক সংকেত বেজে উঠলে তথ্য থেকে ১টি পয়েন্ট কম উপস্থাপন করে সমাপনী বক্তব্যে চলে আসতে হবে। স্ক্রিপ্টের শেষ অংশে সমাপনীতে কিছুটা আবেগীয় ভাষা ব্যবহার করা যেতে পারে। বক্তব্য শেষ হতে পারে কবিতার কিছু লাইন দিয়েও। এতে সমাপ্তিটা আকর্ষণীয় হয়।
স্ক্রিপ্টের শেষ অংশ :
প্রতিপক্ষ বন্ধু! যে সন্তানের মধ্যে সুশিক্ষা নেই সে সন্তান তার বিলাসিতায় সবচেয়ে বড় বাধা মনে করেন বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে। যে সন্তানের মধ্যে সুশিক্ষা নেই, তিনি মনে করেন, তার ঘরে সবচেয়ে কম দামী হয়ে যায় তার সেকেলে বাবা-মা। তাইতো ভারতীয় শিল্পী নচিকেতা কোনো এক অবাধ্য সন্তানকে উদ্দেশ্য করে পিতৃ বেশে বলেছিলেন, ‘নানান রকম জিনিস আর আসবাব দামী দামী/ সবচেয়ে কম দামী ছিলাম একমাত্র আমি/ ছেলের আবার আমার প্রতি অগাধ সম্ভ্রম/আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম।’
মাননীয় মডারেটর/সভাপ্রধান! মানবতার প্রাচীর ভেঙ্গে যখন বিলাসিতার মজবুত দেয়ালে আটকে যায় সন্তানের সামাজিক এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সামাজিক সুশিক্ষার অভাব অভাবনীয়ভাবে অবক্ষয়ের কারণ এই বৃদ্ধ বয়সে পিতা-মাতা অবহেলিত অর্থাৎ এক্ষেত্রে সামাজিকভাবে সন্তানকে সুশিক্ষা প্রদান এবং শিক্ষা গ্রহণের অভাবই মূল কারণ।
শেষ করছি। তবে শেষ করার আগে বলছি,
যদি বৃদ্ধ বাবা-মা ও সন্তানের সুখী পরিবার চাও
তবে দেশের প্রতিটি সন্তানকে সুশিক্ষা দাও।
যদি বৃদ্ধ পিতা-মাতার চোখে অশ্রু না দেখতে চাও
তবে দেশের প্রতিটি সন্তানকে সুশিক্ষা দাও।
কেননা, বৃদ্ধ পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব পালনে অবহেলার মূল কারণ সন্তানের মানসিকতা নয়, সুশিক্ষার অভাব।
ধন্যবাদ মাননীয় মডারেটর/সভাপ্রধান! ধন্যবাদ উপস্থিত সবাইকে।
স্ক্রিপ্টের শেষাংশ নিয়ে পয়েন্ট হতে পারে ২টি। ‘পয়েন্ট-১০ : নচিকেতার গান’, ‘পয়েন্ট-১১ : সুশিক্ষার কবিতা ও সমাপ্তি’। পয়েন্ট-১০ বলার সময় ভ্রু কুঁচকে আবেগ প্রকাশ করলে বাচনভঙ্গি যথোপযুক্ত হবে। একইভাবে পয়েন্ট-১১ বলার সময় কণ্ঠে বিনয়ী প্রতিবাদ থাকলে তা শ্রোতার কাছে শ্রুতিমধুর হবে। এভাবে পয়েন্টভিত্তিক বিতর্কের প্রাক-প্রস্তুতি একজন ভালো বিতার্কিক হয়ে উঠতে সহায়তা করবে।
তবে প্রতিটি পয়েন্ট উপস্থাপনের সময় মুখের ভাষা উপস্থাপনের পাশাপাশি শারীরিক ভাষা উপস্থাপনের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। নবাগত বিতার্কিকদের মনে রাখতে হবে, প্রকৃত বিতার্কিকদের শুধু মুখই কথা বলে না, শরীরও কথা বলে। শারীরিক ভাষা বিতর্কের জন্যে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। মুখের কথা অর্থাৎ ‘বাচ্য’-কে যথাযথ উপস্থাপনের ভঙ্গিই ‘বাচনভঙ্গি’। এই ভঙ্গি করার জন্যে পঞ্চেন্দ্রিয়ের পাশাপাশি হাতের, কাঁধের, কপালের ভাঁজের, ভ্রু কুঁচকানোর, ঠোঁটের বহুরূপী আকৃতির যে সমন্বয় তা করতে পারার মধ্য দিয়ে বক্তার বক্তব্য হয়ে ওঠে শ্রোতার কাছে আকর্ষণীয়।
রাসেল হাসান : উপাধ্যক্ষ, চাঁদপুর বিতর্ক একাডেমি; পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্কে কলেজ পর্যায়ে হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন দলের দলপ্রধান এবং অসংখ্যবার শ্রেষ্ঠ বক্তা হিসেবে পুরস্কারপ্রাপ্ত।