বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৫  |   ২৬ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০০:০০

বিতর্কে তথ্যের প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ

রাসেল হাসান
বিতর্কে তথ্যের প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ

‘তথ্য’ বক্তব্যের অলংকার। যে বক্তব্যে যত বেশি তথ্য থাকে সে বক্তব্য তত বেশি সমৃদ্ধ। তথ্যহীন বক্তব্য শ্রোতার কাছে সাদামাটা বা মনগড়া মনে হয়। অনেকে স্ক্রিপ্ট তৈরির সময় তথ্য রেখে যুক্তির পেছনে দৌড়ান। কিন্তু যথাযথভাবে তথ্য উপস্থাপন করতে পারলে তথ্যই ভালো যুক্তিতে পরিণত হয়। বিতর্কে তথ্য দেয়া ভালো, ভুল তথ্য না দেয়া আরো ভালো। ভুল তথ্য দেয়ার চেয়ে কোনো তথ্য না দেয়াই উত্তম। কারণ ভুল তথ্য বিতর্ককে বিতর্কিত করে। বক্তার একটি 'ভুল তথ্য' পুরো বক্তব্যকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। যেন তিনি পরবর্তীতে যা বলছেন বা যা বলবেন তার সবই ভুল। বিতর্কের বিষয়ের সপক্ষে সঠিক তথ্য নির্বাচন করতে পারাটা একজন বিতার্কিকের বড় গুণ। যে তথ্যের ভিত্তি নেই, যে তথ্য অপ্রকাশিত, সে তথ্য 'তথ্য' নয়। তাই তথ্য হতে হবে রেফারেন্স ভিত্তিক, বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, আকারে ছোট, যৌক্তিক ও বাস্তবিক।

বিতর্কে নিজের যুক্তিকে প্রতিষ্ঠা করার জন্যে কোনো পত্রিকা বা অনলাইনের রেফারেন্স টেনে ভুল তথ্য কোনোক্রমেই দেয়া যাবে না। বিতার্কিকদের জানা উচিত, সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে যথেষ্ট জ্ঞান নিয়েই বিচারকগণ বিচারকার্য করতে বসেন। কোনো বিচারক কোনো তথ্য সন্দেহজনক হলে সাথে সাথে তা গুগলে সার্চ করে সত্যতা যাচাই করে নেন। আর তথ্যের সত্যতা না মিললেই পেনাল্টি মার্ক। যা যে কোনো শক্তিশালী বিতর্ক দলকে হারিয়ে দিতে পারে। একটি ভুল তথ্য সুন্দর বক্তব্যকে অসুন্দর করে দেয়। অলংকৃত বক্তব্যের কলঙ্ক হলো 'ভুল তথ্য' দেয়া। তাই তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে অবশ্যই তা যাচাই করে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, 'হাওয়া থেকে পাওয়া' তথ্য কখনোই বিতর্কে প্রয়োগ করা উচিত নয়। ‘হাওয়া থেকে পাওয়া’ বলতে সোস্যাল মিডিয়ায় ভাসমান তথ্য। কেউ কেউ ফেসবুকে কিছু স্ট্যাটাসের তথ্য স্ক্রিপ্টে সংযোজন করেন, যার কোনো তথ্যসূত্র বা ভিত্তি নেই। তাই তথ্য দিতে হবে জেনে, শুনে, বুঝে। শুধু তথ্য দিলেই হবে না, তথ্যটি বিষয়ের বিরোধিতার স্ট্যান্ডের সাথে কতোটা সংগতিপূর্ণ তাও বিবেচনায় রাখতে হবে।

দুর্বল তথ্য দিয়ে অহেতুক সময় নষ্ট করা যাবে না। আবার এমন তথ্য দেয়াও উচিত নয় যা বলতে গিয়ে ১ মিনিটের বেশি সময় ব্যয় হয়। তথ্য হবে সত্য, সংক্ষিপ্ত ও বিষয় সম্পৃক্ত। যেমন : ‘মাননীয় মডারেটর, আমাদের স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানে পৌর মেয়র প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছিলেন, দেশপ্রেম ছাড়া একটি দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। প্রতিপক্ষ বন্ধু পৌর মেয়র যেখানে বলেছেন দেশপ্রেমের কথা সেখানে আপনারা কী করে বলছেন যে তথ্য-প্রযুক্তি ছাড়া একটি দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়?- প্রশ্ন রইলো।’ এই যুক্তিটি যুক্তির অপপ্রয়োগ, যা দুর্বল, ভিত্তিহীন ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। যা শুধুই সময়ক্ষেপণ। প্রথমত পৌর মেয়র বলেছেন বলেই তা দলিল নয়। দ্বিতীয়ত পৌর মেয়র আদৌ সে কথা বলেছেন কি-না তার কোনো ভিত্তি নেই। তৃতীয়ত একটি দেশের অগ্রগতির জন্যে তথ্য প্রযুক্তি একটি চলক, দেশপ্রেম ভিন্ন আরেকটি চলক। চলকের মুখোমুখি চলক দাঁড় করালে চলকদ্বয় সমান্তরাল ও সমভাবে কার্যকর হলে কোন্ চলকটি অধিক কার্যকর তা প্রমাণ করতে হবে। এখানে একটি দেশের অগ্রগতির জন্যে তথ্য-প্রযুক্তির চাইতে দেশপ্রেম কেন প্রয়োজন? তার জন্যে তুলনার্থক তথ্য খুঁজতে হবে। যেমন : ‘১৯৭১ সালে আমরা তথ্য-প্রযুক্তিতে উন্নত ছিলাম না। ছিলো না যুদ্ধ করার মত অস্ত্র বা ক্ষেপণাস্ত্র, তবুও আমরা সে যুদ্ধে জয়ী হয়েছি শুধুমাত্র দেশপ্রেমের চেতনায়। তাই দেশপ্রেম ছাড়া একটি দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়।' মাননীয় মডারেটর! অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ইনফ্রাস্টাকচারাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড অর্থাৎ (বিএইডিএফ)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, বাংলাদেশের অগ্রগতির ম্যাজিক হচ্ছে দেশপ্রেম। তথ্যসূত্র : দৈনিক ইত্তেফাক, ১৫ মার্চ ২০২৩। প্রতিপক্ষ বন্ধু তথ্য-প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়ে দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত করার রূপকার যিনি তিনিই যখন বলছেন, দেশের অগ্রগতির ম্যাজিক হচ্ছে দেশপ্রেম, সেখানে আপনারা কী করে তথ্য-প্রযুক্তির কথা বলছেন?--প্রশ্ন রইলো।

আবার কেউ কেউ বিতর্কে ব্যক্তিগত তথ্য প্রয়োগ করেন, যার কোনো তথ্যসূত্র নেই। যেমন : ‘মাননীয় মডারেটর! আমাদের পাশের বাড়িতে গত বছর একটি মেয়ে ঝঝঈ-তে অ+ পেয়েছিলো। তবুও তার মা খুশি হতে পারেননি। কারণ তার মেয়ে গোল্ডেন অ+ পায়নি। এ থেকে প্রমাণিত হয়, অভিভাবকদের উদ্দেশ্য সন্তানের মেধা বিকাশ নয়, লোক দেখানো ফলাফল’--এ ধরনের তথ্য বিতর্কে ব্যবহার করা সময়ক্ষেপণ মাত্র। বিতার্কিকের পাশের বাড়িতে আদৌ এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিলো কি-না তার কোনো তথ্যসূত্র নেই। তাই যে তথ্য সার্বজনীন নয়, যে তথ্য প্রকাশিত নয়, সে তথ্য প্রয়োগ করাটা অযৌক্তিক। ব্যক্তিগত বা মনগড়া তথ্য অবশ্যই বর্জন করতে হবে।

কোনো কোনো বিতার্কিক সঠিক তথ্যও সঠিকভাবে উপস্থাপন করেন না বা করতে জানেন না। যেমন : 'মাননীয় সভাপ্রধান! প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে ১২তম স্থান থেকে ১০ম স্থানে উঠে এসেছে। এই তথ্য থেকে প্রমাণিত হয় দুদক দুর্নীতি কমাতে ব্যর্থ হচ্ছে।’--এখানে তথ্যটি প্রথম আলো পত্রিকায় কত তারিখে প্রকাশিত হয়েছে বা আদৌ প্রকাশিত হয়েছিলো কি-না তা নিয়ে সংশয় থেকে যায়। সুতরাং তথ্যটি সঠিক হলেও দুর্বল। বরং তথ্যটি বলা যেতো, ‘মাননীয় সভাপ্রধান! দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে এতো শত অভিযান চালিয়েও দুদক দুর্নীতি কমাতে পারেনি বরং তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে বাংলাদেশের দুর্নীতি বেড়ে ২ ধাপ সামনে এগিয়েছে। ১২তম থেকে ১০ম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। তথ্যসূত্র : দৈনিক প্রথম আলো, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৪। প্রতিপক্ষ বন্ধু! তাহলে কোন্ তথ্যের ভিত্তিতে আপনারা বলছেন যে, দুদক দুর্নীতি দমন করছে?--প্রশ্ন রইলো।’

কিছু কিছু বিতর্কে বিষয় তথ্যকেন্দ্রিক। দু'পক্ষের লড়াইটা তথ্য বিশ্লেষণের মধ্য দিয়েই হয়ে থাকে। বিচারকগণ প্রত্যাশা করেন অনেক বেশি তথ্য এই বিতর্কে পাওয়া যাবে। যেমন : ‘যুক্তরাষ্ট্রই মানবাধিকারের মুখ্য হন্তারক’-- বিতর্কটিতে যুক্তরাষ্ট্র কবে কোথায় কিভাবে মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ করেছে বা হস্তক্ষেপ করেছে সেই তথ্য তুলে ধরাটা আবশ্যক। আবার ‘জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকার সনদে পরিবর্তন আনা উচিত’--বিষয়ের বিতর্কে মানবাধিকার সনদের সব ধারা জেনে, শুনে, বিশ্লেষণ করে বিতর্ক মঞ্চে আসা উচিত। কেন না প্রতিপক্ষ সনদের যে কোনো ধারার ফাঁক ফোকর নিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে কুপোকাত করতে পারেন। এ ধরনের বিতর্ককে রসালো না করে তথ্যভিত্তিক করাটাই বুদ্ধিদীপ্ত কাজ।

কিছু কিছু বিতর্কের তথ্য পরোক্ষভাবে প্রয়োগ করতে হয়। প্রত্যক্ষ তথ্য দিয়ে বিতর্ক করতে গেলে বিতর্ক শুরুর আগেই হার নিশ্চিত। যেমন : ‘বর্তমান প্রজন্ম রবীন্দ্রনাথের নয়, বিল গেটসের’--এই বিষয়ে বিতর্কটা মূলত রবীন্দ্রনাথ ও বিল গেটসের মধ্যে নয়। কাজেই প্রজন্ম রবীন্দ্রনাথকে বেশি ভালোবাসে না-কি বিলগেটসকে বেশি ভালোবাসে এমন ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিতর্ক করাটা নিরর্থক। উল্লেখিত বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ বলতে সাহিত্য-সংস্কৃতি জগৎকে এবং বিলগেটস বলতে অর্থ-বাণিজ্যকে বোঝানো হয়েছে। কাজেই বিতর্কটা হবে সাহিত্য-সংস্কৃতি বনাম অর্থ-বাণিজ্যের মধ্যে। তথ্য হবে সে কেন্দ্রিক। একই ভাবে 'সময় এখন নজরুলের নয়, জাকারবার্গের' বিষয়টি দ্বারা পরোক্ষভাবে সাহিত্য চর্চা বনাম তথ্য-প্রযুক্তিকে বোঝানো হয়েছে। 'ফিরিয়ে দাও অরণ্য, লও এ নগর' বিষয়টিও প্রতীকী অর্থে আধুনিক সভ্যতার পরিবর্তে আদিম গ্রামীণ যুগের প্রবর্তনের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ বিতর্কটি হবে সেকাল-একালের মধ্যে।

তথ্য যেহেতু লাগবেই তাই তথ্য সংগ্রহ করতে হলে বছরজুড়ে সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে পড়ালেখা করতে হবে। পত্রিকার খবরাখবর, কলাম পড়ায় গুরুত্ব দিতে হবে। পড়ালেখা না করে শুধু উপস্থাপনের মাধ্যমে মানুষের হাত তালি বা মনোযোগ পাওয়ার চেষ্টা করে দু-একটি ম্যাচে হয়তো জয় পাওয়া যায়, তবে তাতে চূড়ান্ত জয় অর্জন করা যায় না। কারণ, সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে পড়ালেখা না থাকলে বিষয়ের গভীরতা থাকে না বরং ঘুরেফিরে সব বিতর্কে একই কথা চলে আসে। যেমন এই সময়ে যদি বিতর্কের বিষয় হয় ‘বিজ্ঞানের এই যুগে দর্শন অপ্রাসঙ্গিক’, তাহলে দেখা যাবে বিজ্ঞান বা দর্শন কোনো দিকে না গিয়ে বিতার্কিকেরা হয়তো আমেরিকা, সাম্রাজ্যবাদ, ইরাক-ইরান, আফগানিস্তান-পাকিস্তান ইস্যু অথবা চীন, ভারত ও বাংলাদেশের বাণিজ্যনীতি নিয়ে আলোচনা করছে। ঘুরেফিরে কিছু সস্তা বাক্য ব্যবহার করে রঙ্গরসে সময় পার করবেন কেউ কেউ। অথচ এই বিষয়ের উপর বিতর্ক করতে গেলে বিজ্ঞান কী, কেন প্রয়োজন, দর্শনকে কীভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, শিক্ষানীতিতে কীভাবে একীভূত করা হয়েছে, বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান থাকা আবশ্যক।

কেউ কেউ মূল পর্বে তথ্য না দিয়ে যুক্তিখণ্ডন পর্বে তথ্য দিয়ে বিষয় প্রমাণ করার চেষ্টা করেন। যা মোটেই সমীচীন নয়। যুক্তিখণ্ডন পর্বটি শুধুই প্রতিপক্ষের যুক্তি খণ্ডন করার জন্যে। নতুন কোনো যুক্তি উপস্থাপন বা তথ্য প্রদানের জন্যে নয়। যদি কেউ তা করে থাকেন তবে তা হবে তথ্যের অপপ্রয়োগ। যুক্তিখণ্ডন পর্বে তথ্য প্রদানের জন্যে নম্বর প্রদানের কোনো সুযোগ নেই। তবে প্রতিপক্ষের যুক্তিখণ্ডন করতে গিয়ে যদি প্রাসঙ্গিকভাবে কোনো তথ্য টেনে আনেন তবে তা যুক্তিযুক্ত।

সবশেষ বলবো, সত্য তথ্যে অলংকৃত হোক প্রতিটি বক্তব্য। সংক্ষিপ্তভাবে যথাস্থানে, যথাযথভাবে তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে যুক্তিকে শাণিত করে বিষয়কে প্রমাণ করুক প্রতিজন বিতার্কিক--এমনটাই প্রত্যাশা। তথ্যের প্রয়োগের ক্ষেত্রে অপপ্রয়োগ হচ্ছে কি-না সেদিকে নজর রাখতে হবে সব সময়। বিতর্ক হোক জ্ঞান-যুক্তি নির্ভর, নিছক চিত্তাকর্ষক নয়।

রাসেল হাসান : উপাধ্যক্ষ, চাঁদপুর বিতর্ক একাডেমি; পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্কে কলেজ পর্যায়ে হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন দলের দলপ্রধান এবং অসংখ্যবার শ্রেষ্ঠ বক্তা হিসেবে পুরস্কারপ্রাপ্ত।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়