বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫০

বাসার বারান্দায় মাহমুদা খানমের বাহারি ক্যাকটাস ও ঔষধি গাছের সমাহার

কৃষিকণ্ঠ প্রতিবেদক
বাসার বারান্দায় মাহমুদা খানমের বাহারি ক্যাকটাস ও ঔষধি গাছের সমাহার

শখ থেকে শুরু; এরপর নিয়মিত পরিচর্যায় গড়ে উঠেছে সবুজের ছোট্ট এক মনোমুগ্ধকর জগৎ। চাঁদপুর শহরের মহিলা কলেজ রোডস্থ ‘কাদের ভিলা’র ভাড়া-বাসার বারান্দায় বাহারি রকমের ক্যাকটাস, শোভাবর্ধক ও ঔষধি গাছের সমাহার গড়ে তুলেছেন স্কুলশিক্ষক ও নারী সংগঠক মাহমুদা খানম। ছোট্ট বারান্দায়/বেলকনিতে প্রায় ৩০টি গাছ এখন সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে। শুধু নিজের বাসাতেই নয়, তিনি তাঁর কর্মস্থল রেলওয়ে কিন্ডারগার্টেনেও গড়ে তুলেছেন এক মনোরম সবুজ পরিবেশ। প্রতিবেশী, ঘনিষ্ঠজন ও শুভাকাক্সক্ষীদেরকেও সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে নানাভাবে সহযোগিতা করছেন।

২০২১ সালে শখের বশে বারান্দায় গাছ লাগানো শুরু করেন মাহমুদা খানম। সময়ের সঙ্গে সেই শখ পরিণত হয়েছে নিয়মিত বাগান পরিচর্যার অভ্যাসে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পছন্দের গাছ সংগ্রহ করে তিনি নিজের বারান্দায় সাজিয়েছেন। পিরোজপুরের নিজ গ্রাম থেকে শুরু করে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, কুমিল্লা, ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে নানা জাতের গাছ সংগ্রহ করেছেন তিনি।

ক্যাকটাস ও শোভাবর্ধক গাছ

মাহমুদা খানমের বারান্দায় রয়েছে বাহারি ক্যাকটাস ও শোভাবর্ধক গাছ। এর মধ্যে রয়েছেÑলাল জবা, মানিপ্ল্যান্ট, ড্রাসিনা, স্নেক প্ল্যান্ট, ক্রোটন, ইউফোরবিয়া, কোরাল ক্যাকটাস, অ্যাগলোনেমা, স্পাইডার প্ল্যান্ট, সাকুলেন্ট ও পাতাবাহারসহ নানা জাতের উদ্ভিদ।

বারান্দার গ্রিলে ঝুলছে লতানো মানিপ্ল্যান্ট। কোথাও রয়েছে লাল জবা, আবার কোনো টবে দেখা যায় হলুদ-সবুজ-লাল রঙের পাতার ক্রোটন। নীল টবে ঝুলছে লম্বা সরু পাতার ড্রাসিনা; স্নেক প্ল্যান্টের তলোয়ার আকৃতির পাতাও নজর কাড়ে। ছোট ছোট টবে রয়েছে কোরাল ক্যাকটাস ও বিভিন্ন ধরনের সাকুলেন্ট। সাদা টবে সবুজ-লালচে পাতার অ্যাগলোনেমা এবং সাদা-সবুজ ডোরাকাটা পাতার স্পাইডার প্ল্যান্ট বারান্দাটিকে করে তুলেছে আরও আকর্ষণীয়।

ঔষধি ও উপকারী গাছের প্রতি আগ্রহ

ক্যাকটাস ও শোভাবর্ধক গাছের পাশাপাশি ঔষধি ও মানবকল্যাণে আসে এমন গাছ সংগ্রহ ও পরিচর্যার প্রতিও মাহমুদা খানমের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। গাছের পরিচর্যায় বাজারের রাসায়নিক উপকরণের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে ঘরে থাকা বিভিন্ন জৈব উপাদান ব্যবহার করেন তিনি। তিনি জানান, চাল ধোয়া পানি, ডিমের খোসা এবং তরিতরকারির পচনশীল অবশিষ্টাংশ ব্যবহার করে তিনি গাছের জন্যে জৈব সার ও খাবার তৈরি করেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে মাটি সংগ্রহ করে প্রয়োজন অনুযায়ী টবে ব্যবহার করেছেন। এতে একদিকে যেমন গাছের যথাযথ পরিচর্যা হচ্ছে, অন্যদিকে বাসাবাড়ির পচনশীল বর্জ্যেরও সঠিক পুনর্ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে।

মাহমুদা খানম বলেন, “আমি এই বাগানটি ২০২১ সাল থেকে শুরু করেছি। নিয়মিত পরিচর্যায় আজ বাগানটি সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে। শুধু আমার বাসায় নয়, আমি আমার কর্মস্থল রেলওয়ে কিন্ডারগার্টেনেও বাগান করেছি। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গাছ সংগ্রহ করে এনে বারান্দায় ও স্কুলের আঙ্গিনায় লাগিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “বাসাবাড়িতে যারা বসবাস করেন, তারাও চাইলে অল্প জায়গায় বিভিন্ন ধরনের ফুল, ক্যাকটাস, ঔষধি ও উপকারী গাছ লাগাতে পারেন। এতে বাড়ির পরিবেশ সুন্দর হওয়ার পাশাপাশি মনও ভালো থাকে।”

মাহমুদা খানম মূলত রেলওয়ে কিন্ডারগার্টেনের অধ্যক্ষ। পাশাপাশি তিনি ডেলটা লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের গণ-গ্রামীণ বীমার চাঁদপুর জোন অপারেশন সেন্টারের আওতাধীন ইলশেগুঁড়ি ইউনিটের ম্যানেজার। তিনি বহু সামাজিক কর্মের সাথে জড়িত। যেমন-বাংলাদেশ মানবাধিকার সংস্থা চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি, চাঁদপুর সেন্ট্রাল ইনার হুইল ক্লাবের পাঁচবারের সাবেক প্রেসিডেন্ট, সম্প্রতি ইনার হুইল জেলা-৩২৮, বাংলাদেশ কর্তৃক মর্যাদাপূর্ণ ‘ব্রেকিং দ্যা বেরিয়ার্স অ্যাওয়ার্ড’প্রাপ্ত এবং সূর্যমুখী শিশু-কিশোর সংগঠন ও নবরূপ মানবিক উন্নয়ন সংস্থার সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া আরো কিছু সংগঠনের সাথে বিভিন্ন পদে জড়িত।

ছোট্ট একটি বারান্দাকে কেন্দ্র করে মাহমুদা খানমের এই সবুজ আয়োজন এখন কেবল সৌন্দর্যের অনুষঙ্গ নয়, বরং নগরজীবনের সীমিত পরিসরে কীভাবে প্রকৃতি চর্চা করা যায়Ñতার এক অনন্য ও অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়