বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪২

১৮ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলায় ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বেশি বিক্রি

কৃষিকণ্ঠ প্রতিবেদক
১৮ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলায় ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বেশি বিক্রি

চাঁদপুরে ১৮ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা শেষ হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬)। এবারের মেলায় এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার গাছের চারা বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা। জেলা বন বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

চাঁদপুর শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গত ২ আগস্ট এ বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে প্রধান অতিথি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, বৃক্ষরোপণের যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবে রূপ দিতে আমাদের সবারই গাছের চারা রোপণ করতে হবে। সবাই মিলে গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করলে ২০৩৫ সালের আগেই দেশকে ২৭ শতাংশ বৃক্ষ আচ্ছাদনের আওতায় নেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বৃক্ষমেলায় প্রায় ২০ হাজার গাছের চারা বিক্রি হয়েছিলো। সে তুলনায় এবার ১৫ হাজার বেশি চারা বিক্রি হয়েছে।

মেলায় ফলদ, বনজ, অর্নামেন্টাল, অর্কিড, বনসাই ও ঔষধি গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির চারা বিক্রি হয়েছে। নার্সারি মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার ক্রেতাদের মধ্যে ঔষধি গাছের চারার প্রতি আগ্রহ ছিলো সবচেয়ে বেশি।

জরিনা নার্সারির স্বত্বাধিকারী মো. মুখলেছুর রহমান বলেন, এবারের বৃক্ষমেলায় ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে ছিলো ঔষধি গাছের চারা। এর মধ্যে ‘ইনস্যুলিন প্ল্যান্ট’ সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া হরিতকি, বহেড়া, তুলসী, নিম, নিশিন্দা, ওরেগ্যানো, করোসেল ও পাথরকুচির মতো ঔষধি গাছের চারাও বিক্রি হয়েছে।

গ্রীন চাঁদপুর নার্সারির স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ নাসির মোল্লা বলেন, মানুষ এখন আগের তুলনায় স্বাস্থ্য সম্পর্কে বেশি সচেতন হচ্ছে। এ কারণে ভেষজ ও ঔষধি গাছের চারার চাহিদাও বাড়ছে।

নার্সারি মালিকরা জানান, এবারের বৃক্ষমেলা হাসান আলী হাই স্কুল মাঠে না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা কেনার আগ্রহ কিছুটা কম দেখা গেছে। গত বছর হাসান আলী হাই স্কুল মাঠে মেলা হওয়ায় মহিলা কলেজ, মাতৃপীঠ, হাসান আলী হাই স্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মেলায় এসে চারা কিনেছে। এবার সে তুলনায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও চারা কেনার হার কম ছিলো।

পুলিশ লাইন নার্সারির স্বত্বাধিকারী ফারুক হোসেন বলেন, তাঁর স্টলেও ঔষধি গাছের চারার চাহিদা ছিলো বেশি। হরিতকি, বহেড়া, অশ্বগন্ধা, নাগেশ্বর, কর্পূর ও হাড়জোড়াসহ প্রায় ১৫ প্রজাতির ঔষধি গাছের চারা এবার তারা বিক্রি করেছেন।

বিসমিল্লাহ নার্সারির স্বত্বাধিকারী শামীমা নাসরিন জানান, তাদের স্টল থেকে এবার প্রায় ৫ হাজার গাছের চারা বিক্রি হয়েছে। ফলদ গাছের চারারও ভালো চাহিদা ছিলো। বিশেষ করে রামবুটান, পার্সিমন, অ্যাভোকাডো ও আঙুরের চারা বেশি বিক্রি হয়েছে।

জেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর জানান, মেলা ১৭ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা ছিলো। তবে নার্সারি মালিকদের দাবির বিষয়টি বিবেচনা করে মেলার সময় বাড়িয়ে ২০ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়