প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৮
গুগল বক্সে চিঠি

প্রিয় গুগল বক্স,
গুগল বক্সের আগে ‘প্রিয়’ শব্দটা লিখতে গিয়ে একটু থেমে গিয়েছিলাম। তবুও লিখলাম কারণ কিছু সত্য লুকিয়ে রাখা যায়, অস্বীকার করা যায় না। তাছাড়া এটা ধ্রুব সত্য যে আপনি আমার খুবই প্রিয় কেউ একজন। অনেকের মাঝে একজন নয়, ‘প্রিয়’ নামের নিভৃত রাজ্যে আপনিই একমাত্র একজন। আপনার কাছ থেকে চিঠি পাবো, এই কল্পনাটুকুও কোনোদিন সাহস করে করিনি। এতোটাই অকল্পনীয় ছিলো যে, চিঠিটা হাতে নিয়ে প্রথমেই মনে হলো, ‘আমি চিঠি পেয়ে গেলাম, অথচ এখনো পৃথিবীতে কোনো যুদ্ধ শুরু হলো না কেন?’ এমন অলৌকিক ঘটনার আগেতো সবকিছু ভেঙে পড়ার কথা, চারপাশে বিশৃঙ্খলা নামার কথা, অথচ কিছুই হলো না, শুধু আমার ভেতরটা আরেকটু বেশি অগোছালো হয়ে গেল। আচ্ছা, আমার মতো এমন এক অগোছালো, পাগল কিসিমের মেয়েকে, এইরকম একখানা চিঠি লিখে আরও বিশৃঙ্খল করে দেওয়ার কি খুব প্রয়োজন ছিল? আপনার বুঝি একটুও মায়া হলো না আমার জন্য?
নাকি আপনি জানতেন, আমি এমনিতেই এলোমেলো, শুধু একটু ছোঁয়া দিলেই ঝড় হয়ে যাবো?
গত তিনদিনে, সংখ্যা গুনতে গুনতে ক্লান্ত হয়ে গেছি,
তবুও মনে হয় ১৮৪ বারেরও বেশি পড়েছি এই চিঠি।
প্রতিটা শব্দ এখন আমার চেনা, প্রতিটা দাড়ি, কমা, কোলন, সেমিকোলন, সবই আমার মুখস্থ, তবুও আমি বারবার পড়ি, ঠিক সেই প্রথমবারের বিস্ময় নিয়ে, মুগ্ধতা নিয়ে। যতোদিনে এই লেখা ছাপা হবে, ততোদিনে হয়তো হাজারবার ছুঁয়ে ফেলা হবে এই কাগজটাকে, তবুও এর ভেতরের মুগ্ধতা একটুও ক্ষয় হবে না। এই চিঠিকে নিয়ে যদি আমি কাব্য রচনা করি, তাহলে কাব্যিক সুরে বলতে চাই,
“প্রতিটি লাইন যেন হৃদয়ের ফিসফিসানি,
প্রিয়, তুমি জানো কি?
আমি পড়তে পড়তে থমকে যাই।
একেকটা শব্দে তোমার স্পর্শ,
একেকটা বিরামে তোমার নিশ্বাস পাই।”
আমার প্রিয় বোকা বাকা চন্দ্রবিন্দু, আমি শালিক ছানা থেকে জোড়া শালিক হতে চাই তোমার সাথে। জোড়া শালিক হয়ে আমি বৃষ্টি বিলাশ করতে চাই, কদম হাতে বৃষ্টি বিলাশ। পাতার ফিসফিসানি শুনতে শুনতে আমি তোমাকে ভাবতে চাই। ঝর্ণার জলছটায় ভিজে ভিজে তোমার স্পর্শ পেতে চাই। চাঁদের আলোয় নদীর ধারে দাঁড়িয়ে তোমাকে খুঁজতে চাই। বাতাসে ভেসে আসা তোমার গন্ধে আমি নিজেকে হারাতে চাই। পাতার কোণে তোমার নাম লিখে বৃষ্টির সঙ্গে ফিসফিস করতে চাই।
রোদ্দুরের ছোঁয়ায় তোমার হাতের উষ্ণতা অনুভব করতে চাই। শীতল নদীর ঢেউয়ে ভেসে আমি তোমার সঙ্গে নিঃশব্দ আনন্দ উপভোগ করতে চাই। সন্ধ্যার বাতাসে তোমার কণ্ঠ শুনে ঘুম ভাঙাতে চাই। কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম ফুলের ঝরঝরে ছায়ায় তোমার সাথে বাকি দিনের গল্প ভাসাতে চাই। রিক্সার বেজে ওঠা ঘণ্টার শব্দে শহরের রঙিন পথে তোমাকে চিনতে চাই। মিষ্টি চা খাওয়ার কাপে তোমার হাসির প্রতিফলন দেখতে চাই। গলির মোড়ে গাছের ছায়ায় তোমার নাম ফিসফিস করতে চাই, বাতাসে ভেসে আসা তোমার কোলাহলের সঙ্গে মিলিয়ে নিজেকে হারাতে চাই। পাখির চেঁচামেচি শুনে তোমার চোখে চোখ রাখার সাহস পেতে চাই। হাত ধরে হাত, চোখে চোখ, হৃদয়ে হৃদয় মিলিয়ে আমি চিরকাল তোমার সঙ্গে থাকতে চাই।
তুমি বলার মতো দুঃসাহসিকতা দেখানোর জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। তবে আমিও জীবনানন্দেরকবিতা আপনার সুরে সুর মিলিয়ে বলতে চাই,
‘পৃথিবীর সব ঘুঘু ডাকিতেছে হিজলের বনে,
পৃথিবীর সব রূপ লেগে আছে ঘাসে।
পৃথিবীর সব প্রেম আমাদের দু’জনার মনে,
আকাশ ছড়ায়ে আছে শান্তি হয়ে আকাশে আকাশে।’
ইতি
আপনার...!
কে হই আমি আপনার?








