প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২১
সাক্ষাৎকার : অধ্যাপক ডা. মো. হারুন-অর-রশিদ
চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ আমার প্রাণের জায়গা, আবেগের জায়গা

ডা. মো. হারুন-অর-রশিদ চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ও উপাধ্যক্ষ। তিনি চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি এ মেডিকেল কলেজের সঙ্গে যুক্ত। অস্থায়ী ক্যাম্পাসের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ, শিক্ষার মানোন্নয়ন, চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং গবেষণার পরিবেশ তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। চাঁদপুর মেডিকেল কলেজকে ভবিষ্যতে বিশ্বমানের শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার স্বপ্ন দেখেন। নিজের চিকিৎসক হয়ে ওঠার গল্প, চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের পথচলা ও বর্তমান অবস্থা, নানা চ্যালেঞ্জ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং চিকিৎসা পেশার নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন : আলআমিন হোসাইন।
আপনার জন্মস্থান চাঁদপুরের মতলব উত্তরে। চিকিৎসক হয়ে ওঠার পেছনের গল্প জানতে চাই।
ডা. মো. হারুন-অর-রশিদ : আমার জন্মস্থান চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার অলিপুর গ্রামে। স্কুলজীবন থেকেই পড়াশোনার প্রতি আমার অনেক বেশি আগ্রহ ছিল। প্রতিটি ক্লাসেই আমি ছিলাম ফার্স্ট বয়। পরীক্ষায় ফলাফল ভালো হওয়ার কারণে আমার বাবা-মা, ভাই-বোন, শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আমার প্রতি বিশেষ নজর ছিল। সবারই ইচ্ছা ছিল, আমি যেন বড় হয়ে একজন ডাক্তার হয়ে দেশের মানুষকে সেবার ব্রত বেছে নিই। আমি ছিলাম একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তাই খুব কাছ থেকে আমি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখেছি। দেখেছি, কীভাবে সাধারণ মানুষ বিনা চিকিৎসায় বা অপচিকিৎসায় মারা যাচ্ছে। তখন ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছাটা নিজের মধ্যে দিন দিন প্রখর হয়ে ওঠে। তাছাড়া স্কুলজীবনে আমরা একটা রচনা শিখতাম ও লিখতাম ‘আমার জীবনের লক্ষ্য’, যেখানে প্রায় প্রতিটি বইয়েই লেখা ছিল—জীবনে ডাক্তার হতে চাওয়া বা ডাক্তার হওয়ার গল্প। ফলে আমার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন প্রায় চূড়ান্ত হয়ে যায়। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করি, মহান আল্লাহ তায়ালা যদি আমাকে সুযোগ ও সামর্থ্য দান করেন, তবে আমি একজন ডাক্তার হয়ে বাংলাদেশের মানুষের সেবায় সরাসরি নিজেকে নিয়োজিত করব। মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে আমি মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পাস করে ঢাকার নটর ডেম কলেজে ভর্তি হই। অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হই। পরম করুণাময়ের অসীম মেহেরবাণীতে আমি বুয়েট (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং), ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টপ সাবজেক্টে সুযোগ পাই। দেশের স্বনামধন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পেলেও শেষ পর্যন্ত মেডিকেল কলেজকেই আমার ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিই। যার ফলশ্রুতিতে সকলের আশীর্বাদ ও সহযোগিতায় আমি আজকের অধ্যাপক ডা. মো. হারুন-অর-রশিদ।
চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ সূচনালগ্ন থেকে আপনার তত্ত্বাবধানে এগিয়ে চলেছে। এই পুরো যাত্রার প্রাথমিক চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে জানতে চাই।
ডা. মো. হারুন-অর-রশিদ : চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল আমার বর্তমান কর্মস্থল। চাঁদপুর মেডিকেল কলেজে আসার আগে আমি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় চাকরি করেছি। চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ আমার চৌদ্দতম কর্মস্থল। এই মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আমি এর সঙ্গে জড়িত। প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ থেকে শুরু করে এই পর্যন্ত সকল অধ্যক্ষ মহোদয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আমি আমার সকল সহকর্মীকে নিয়ে মেডিকেল কলেজের অবকাঠামো ও শিক্ষার মানোন্নয়নে ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এই যাত্রাপথে আমরা যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি, তার মধ্যে অন্যতম হলো বর্তমান অস্থায়ী ক্যাম্পাসের অবকাঠামোগত অপ্রতুলতা এবং কিছু মৌলিক বিষয়ের শিক্ষকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়া। কিন্তু আমরা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে সমর্থ হয়েছি। স্থানীয় পিডব্লিউডির মাধ্যমে ছাদের ওপর ও নিচের খোলা জায়গায় নতুন কিছু স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। ডাক্তার-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খালি আবাসিক কোয়ার্টারগুলো মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে ছাত্রী হোস্টেল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নতুন বর্ধিত একাডেমিক ভবন ভাড়া নেওয়া হয়েছে এবং ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য পৃথক নতুন আবাসিক হোস্টেল ভবন ভাড়া নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের মাধ্যমে শিক্ষক সংকট অনেকটা কাটিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
মেডিকেল কলেজের নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের অগ্রগতি কতদূর? শিক্ষার্থীরা কবে নাগাদ স্থায়ী ক্যাম্পাসে পুরোপুরি ক্লাস ও কার্যক্রম শুরু করতে পারবে বলে আশা করছেন?
ডা. মো. হারুন-অর-রশিদ : গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর আমাকে ‘চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করে। এজন্য আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনাব সরদার সাখাওয়াত হোসেন এমপি ও চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক মহোদয়ের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস দ্রুত নির্মাণের জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে সব ধরনের প্রশাসনিক অনুমোদন ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করি। যার ফলশ্রুতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ভূমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমোদন লাভের পর বর্তমানে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক মহোদয়ের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় আমরা ইতিমধ্যে মেডিকেল কলেজের জন্য নির্ধারিত জায়গায় সাইনবোর্ড স্থাপনের মাধ্যমে জায়গাটি চূড়ান্ত করতে পেরেছি। স্থানীয়ভাবে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত রয়েছে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন। ভূমি অধিগ্রহণ একটি জটিলতম ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষে আমরা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নির্ধারিত জায়গার সংশ্লিষ্ট ভূমিমালিকদের প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পর উক্ত জমি বুঝে নিয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাসের মূল অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু করতে পারব, ইনশাআল্লাহ। স্থায়ী ক্যাম্পাসের অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু করার পর পরবর্তী তিন বছরের মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের একাডেমিক কার্যক্রম ও হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম নতুন ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা যাবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।
মানসম্মত চিকিৎসা শিক্ষার জন্য ল্যাবরেটরি এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামাদির ক্ষেত্রে আপনারা শিক্ষার্থীদের কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করছেন?
ডা. মো. হারুন-অর-রশিদ : চিকিৎসাবিজ্ঞানের উৎকর্ষের সঙ্গে সুসজ্জিত ল্যাবরেটরি ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামাদির সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মেডিকেল কলেজের শুরুতে স্থান সংকটের কারণে ল্যাবরেটরি সুবিধার কিছুটা ঘাটতি থাকলেও বর্তমানে অতিরিক্ত স্থাপনা সংযোজনের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহারিক ক্লাস করার জন্য ল্যাবরেটরিতে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ শেষে ছাত্রছাত্রীরা এসব ক্ষেত্রে বিশ্বমানের সুবিধাদি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুসম্পর্ক এবং সুষ্ঠু একাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখতে কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন?
ডা. মো. হারুন-অর-রশিদ : চাঁদপুর মেডিকেল শিক্ষক সমিতি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। কলেজের সার্বিক একাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য শিক্ষক সমিতি বরাবরই শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বিভিন্ন সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপ ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। শিক্ষার্থীদের মেডিকেলের কঠিন পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও সমান পারদর্শী করে গড়ে তোলার জন্য চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমি উক্ত সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবান মনে করছি। কারণ সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ভালোবাসা এবং আস্থায় থেকে আমি সকলের জন্য কাজ করতে পারছি।
চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ কতটা উপকৃত হচ্ছে? এ প্রতিষ্ঠানটি আঞ্চলিক স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে কী ধরনের ভূমিকা রাখছে?
ডা. মো. হারুন-অর-রশিদ : চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর স্থানীয় সাধারণ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হচ্ছেন। চাঁদপুর মেডিকেল কলেজে পদায়িত বিশেষজ্ঞ ও সিনিয়র চিকিৎসকগণ মেডিকেল কলেজে একাডেমিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি হাসপাতালের রোগীদেরও সেবা দিয়ে থাকেন। ফলে চাঁদপুরের সাধারণ মানুষ চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পদায়িত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পাশাপাশি মেডিকেল কলেজের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকেও বিশেষায়িত সেবা পেয়ে থাকেন। বর্তমানে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সার্বক্ষণিকভাবে ইন্টার্ন চিকিৎসকগণ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। চাঁদপুর মেডিকেল কলেজে বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল বিষয়ে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকবৃন্দ যথানিয়মে হাসপাতালে ও হাসপাতালের বাইরে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন, যা চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা লাভের কারণেই সম্ভব হয়েছে। আর বিশেষায়িত সেবার জন্য রোগীদের এখন ঢাকাসহ বিভিন্ন বড় শহরে দৌড়াতে হয় না।
চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে আপনাদের কোনো বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে কি?
ডা. মো. হারুন-অর-রশিদ : চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণার সংস্কৃতি শুরু থেকেই চলমান রয়েছে। কলেজ প্রশাসন বরাবরই যেকোনো গবেষণামূলক কার্যক্রমের বিষয়ে আন্তরিক রয়েছে। ইতিমধ্যেই চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে দুদিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা ও বৈজ্ঞানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গবেষণাকাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য চাঁদপুর মেডিকেল কলেজে একটি ‘রিসার্চ সেল’ রয়েছে। এই সেলের অধীনে বর্তমানে অনেকগুলো গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
ডা. মো. হারুন-অর-রশিদ : চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ আমার একটি প্রাণের জায়গা, আবেগের জায়গা। আমি একজন সরকারি কর্মচারী, আমি বর্তমানে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজে কর্মরত। কিন্তু চাঁদপুর মেডিকেল কলেজকে আমি শুধু সরকারি চাকরির দায়িত্ব হিসেবে দেখি না। আমি চাঁদপুরের সন্তান, তাই চাঁদপুরের মাটি ও মানুষের সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক। একটি শিশু জন্মের পর যেমন পরম মায়ায় ও যত্নে তাকে বড় করে তুলতে হয়, ঠিক তেমনি আমি আমার সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা ও ভালোবাসায় চাঁদপুর মেডিকেল কলেজকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কোনো মেডিকেল কলেজকে নতুন করে গড়ে তোলা, অবকাঠামো তৈরি করা ও যথাযথভাবে কার্যক্রম চালু করা অবশ্যই একটি গুরুদায়িত্ব। এই দায়িত্ব যেমন সম্মানের, ঠিক তেমনি চ্যালেঞ্জিং ও জটিল কাজ। তবে আমার জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হচ্ছে, সরকার আমার ওপর আস্থা রেখে আমাকে এই গুরুদায়িত্ব অর্পণের পর থেকে আমি চাঁদপুরের আপামর জনসাধারণ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মীবৃন্দ, সকল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ, আমার সহকর্মীবৃন্দ ও ছাত্রছাত্রীদের অকুণ্ঠ ভালোবাসা, সহযোগিতা ও সমর্থনে কাজ করে এগিয়ে যাচ্ছি। আমি আমার অবস্থান থেকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই। এক্ষেত্রে সামনের দিনগুলোতেও সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি। আমার আশা ও বিশ্বাস, সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা পেলে এবং সবকিছু অনুকূলে থাকলে আমি মেডিকেল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য, চাঁদপুরবাসী তথা সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি বিশ্বমানের মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল উপহার দিতে পারব, ইনশাআল্লাহ।
যারা চিকিৎসক পেশায় আসতে আগ্রহী, তাদের উদ্দেশ্যে আপনার পরামর্শ কী থাকবে?
ডা. মো. হারুন-অর-রশিদ : চিকিৎসা পেশা একটি মহান পেশা। যারা চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করতে আগ্রহী বা চিকিৎসাসেবাকে পেশা হিসেবে নিতে আগ্রহী, আমি তাদের স্বাগত জানাই। তবে যারাই চিকিৎসাবিজ্ঞানে যুক্ত হবে, তাদের ভালোভাবে ভেবেচিন্তে আসা উচিত। কারণ এই পেশাতেও রয়েছে অনেক চ্যালেঞ্জ ও জটিলতা। দেশের অন্যতম মেধাবী ছেলেমেয়েরা এই পেশায় যুক্ত হলেও পরিশেষে তাদের মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না, যা আমাদের জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য এক অশনিসংকেত।








