রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২০

ফরিদগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সিন্ডিকেটে জিম্মি সেবা

প্রতি দলিলে বাড়তি ১ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ

শামীম হাসান
প্রতি দলিলে বাড়তি ১ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ

সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে এসে বারবার সাধারণ মানুষকে কেন ঘুরতে হবে—এই প্রশ্ন এখন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ভুক্তভোগীদের মুখে মুখে। দপ্তরটিকে ঘিরে গড়ে ওঠা দলিল লেখক সমিতির প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কাছে স্বাভাবিক রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীবহুল এই উপজেলায় জমি-জমা সংক্রান্ত কাজের জন্য প্রতিদিনই সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীদের স্বজনরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আসেন। তবে সপ্তাহের প্রতিদিন দলিল রেজিস্ট্রেশন না হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবাগ্রহীতাদের একাধিকবার চক্রাকারে অফিসে ঘুরতে হচ্ছে। এতে যেমন বাড়তি সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি যাতায়াত খরচ ও অর্থব্যয় বাড়ছে কয়েক গুণ।

সরকারি বিধিমালার তোয়াক্কা না করে দলিল লেখকদের নিজস্ব সুবিধা-অসুবিধার ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারণ করা হচ্ছে—কোন্ দিন দলিল রেজিস্ট্রেশন হবে আর কোন্ দিন হবে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমিতির কয়েকজন সদস্য জানান, প্রতিদিন রেজিস্ট্রেশন চালু থাকলে নামজারি, খাজনা ও টাইটেল সংক্রান্ত কাগজপত্র সাজাতে তাদের কিছুটা হিমশিম খেতে হয়। তবে তারা নিজেরাও স্বীকার করেছেন যে, নিয়মিত সেবা চালু থাকলে সাধারণ মানুষের সুফল মিলতো এবং সাব-রেজিস্ট্রারের ওপরও বাড়তি চাপ থাকতো না। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে জনগণের স্বার্থ বড়, নাকি কোনো সংগঠনের সুবিধা?

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে অতিরিক্ত অর্থ আদায়কে কেন্দ্র করে। প্রতি দলিলে বাড়তি ১ হাজার টাকা করে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আবদুল কাদের এবং অফিসের মোহরার মামুন। তবে এই টাকা কোন্ খাতে নেওয়া হচ্ছে, নাকি কোনো বৈধ রসিদ ছাড়া অতিরিক্ত হিসেবে আদায় করা হচ্ছে—সে বিষয়ে তারা কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।

এসব অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফরিদগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার তানভীর আলমের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ও ম্যাসেজ পাঠানো হলেও তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অপরদিকে বিষয়টিতে জেলা রেজিস্ট্রার মো. আকবর আলীর বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে তাঁর অফিসিয়াল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, সরকারি বিধি মোতাবেক প্রতিদিনের সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। কোনো অসৎ সিন্ডিকেটের কাছে সরকারি দপ্তরের ভাবমূর্তি ও জনগণের ভোগান্তি আর দীর্ঘায়িত হওয়া উচিত নয়।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়