বুধবার, ০৫ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৪৭

৪৭টি বুলেটের আঘাতের পরও আহতদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি রামগঞ্জের শিহাব

৪৭টি বুলেটের আঘাতের পরও আহতদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি রামগঞ্জের শিহাব
মাসুদ রানা মনি, রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার আরাফাত হোসেন শিহাব ৪৭টি বুলেটের আঘাত পাওয়ার পরও অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি আহতদের তালিকায়। এখনো দুটি বুলেটের যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।

গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ আরাফাত হোসেন শিহাবের দেহে এখনো রয়ে গেছে দুটি বুলেট। ঘটনার পর সময় পেরিয়ে গেলেও আহতদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি তিনি। ফলে কোনো ধরনের সরকারি আর্থিক সহায়তা বা উন্নত চিকিৎসার সুযোগও পাননি। আরাফাত হোসেন শিহাব লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর ইছাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের মাহাবুব হাক্কানীর ছেলে।

শিহাব জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার শাহ আলী থানার সামনে আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁর পিঠ, ঘাড় ও কোমরে মোট ৪৭টি স্প্লিন্টার ও ছররা গুলি আঘাত করে। একই ঘটনায় তাঁর বড় ভাই, ঢাকা সায়েন্স ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী হাসানাতও পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। হাসানাত সুস্থ হয়ে উঠলেও আরাফাতের ঘাড় ও কোমরে এখনো দুটি বুলেট রয়ে গেছে।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, শরীরের সংবেদনশীল স্থানে থাকা বুলেট অপসারণের চেষ্টা করলে স্থায়ী শারীরিক জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

আরাফাত আক্ষেপ করে জানান, "আমি দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না। ঘাড়ের পেছনে প্রায়ই ঝিনঝিন অনুভূতি হয়। এ অবস্থায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।"

আরাফাতের মা মোহছেনা বেগম জানান, "ছেলেদের লেখাপড়ার জন্য গ্রাম ছেড়ে শহরে এসে বসবাস শুরু করি। স্বপ্ন ছিল ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করব। কিন্তু আন্দোলনে আহত হওয়ার পর সব আশায় গুড়ে বালি। শিহাবের এইচএসসি পরীক্ষার ফলও আশানুরূপ হয়নি। এখন তার চিকিৎসার খরচ বহন করাই আমাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আহত হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য বিভিন্ন দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলেও আজ পর্যন্ত কোনো সাড়া পাইনি। তালিকাভুক্ত হলে অন্তত ছেলের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হতো।"

তিনি আরও জানান, শিহাব বর্তমানে অনার্সে অধ্যয়নরত। তাঁর বাবা মাহাবুব হাক্কানী দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও বর্তমানে কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন। ছেলের চিকিৎসার পেছনে পরিবারের সঞ্চিত অর্থ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।

পরিবারের জোরালো দাবি, জুলাই আন্দোলনে গুরুতর আহত আরাফাতকে দ্রুত সরকারি আহতদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করা হোক।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়