মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:২৩

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫জন নিহত হবার ঘটনা

বাবা-মা-দু বোনের লাশ মর্গে রেখে একাই দেশে ফিরেছে ফাইজা

মাসুদ রানা মনি, রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) থেকে।।
বাবা-মা-দু বোনের লাশ মর্গে রেখে একাই দেশে ফিরেছে ফাইজা

"আমি তো চলে এসেছি, বাবা-মা, আপু ও ছোট বোন সুবাহকে ঈদের আগেই আসতে হবে। আমি অসুস্থ, তাই মামার সাথে চলে এসেছি। আমি আর কখনো মাইক্রোতে উঠবো না। আর কখনো বিদেশে যাবো না।"

কথাগুলো জানিয়েছেন সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মিজানুর রহমান (৪০) ও মেহের আফরোজ সুমী (৩০)-এর মেঝো কন্যা ফাইজা আক্তার (১১)।

একই দুর্ঘটনায় মারা গেছে ফাইজার বড়ো বোন মোহনা (১৩) ও দেড় বছর বয়সী ছোট বোন সুবাহসহ গাড়ি চালক মোহাম্মদ জিলানী বাবর। বাবা, মা ও দু বোনের মৃত্যুর খবর এখনো জানে না দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একমাত্র শিশু ফাইজা আক্তার। সে জানে তার মতো দুর্ঘটনার শিকার সবাই চিকিৎসা নিচ্ছে কোনো হসপিটালে। তারা ঈদের আগেই ফিরে আসবেন। মা-বাবা, বড়ো বোন ও ছোটবোনদের সাথে এক সাথে ঈদ করবে।

দুর্ঘটনার পর প্রায় ১ সপ্তাহ চিকিৎসাশেষে সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে ফাইজার মামা সৌদি প্রবাসী আজহারুল ইসলাম সুমনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মামা তানভীর আহম্মেদ ফাইজা আক্তারকে নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। গত দুদিনে ফাইজাকে দেখতে শত শত মানুষ ভিড় করছেন ফাইজার নানার বাড়িতে।

এর পূর্বে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবের হোটেল, কফি-শপ ব্যবসায়ী রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের পাঁচরুখি গ্রামের মিজানুর রহমান তার স্ত্রী ও তিন কন্যাকে পবিত্র ওমরা হজ্ব পালনের জন্যে সৌদি আরব নিয়ে যান।

রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরব সময় রাত ৩টা ও বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ওমরা পালন শেষে সৌদি আরবের আবহা নামক এলাকায় দুর্ঘটনায় মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী মেহের আফরোজ সুমী, বড় কন্যা মোহনা (১৩), দেড় বছর বয়সী কন্যা সুবাহসহ গাড়ি চালক মোহাম্মদ জিলানী বাবর ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

এ ঘটনায় মিজানুর রহমানের মেঝো কন্যা ফাইজা আক্তার মারাত্মক আহত হয়।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের পাঁচরুখি গ্রামের অসিম উদ্দিন বেপারী বাড়ির ফাইজার দাদার বাড়িতে গিয়ে কথা হয় চাচা বাহারুল আলমের সাথে। এ সময় বাহারুল আলম জানান, আমার ছোট ভাই মিজানের পরিবারের ৪জন সদস্য সৌদি আরবের একটি হসপিটালের মর্গে। তাদের লাশ দেশে আনতে হলে দরকার ১৫/১৬ লাখ টাকা। অনেকেই এসেছেন, সান্ত্বনা দিয়েছেন। কিন্তু লাশগুলো কীভাবে আনতে হবে কেউ বলে না। এতো টাকা কোথায় পাবো আমরা! লাশ আনতে না পারলে সৌদি আরবেই হয়তো তাদের লাশ দাফন করতে হবে।

পার্শ্ববর্তী ভোলাকোট ইউনিয়নের তোরাব মিজি বাড়ির কাতার ফেরত মামুন হোসেন দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা আহত ফাইজা আক্তারের মামা। তিনি জানান, আমরা চেষ্টা করছি লাশগুলো দেশে আনার জন্যে। কিন্তু অনেক টাকার দরকার। এদিকে আমার বোন জামাই মিজানের ব্যবসায়িক পার্টনারদের আচরণও আমার কাছে খুব একটা পছন্দ হচ্ছে না। তারা একেকবার একেক কথা বলছেন, কোনো ধরনের দায়িত্ববোধ দেখছি না তাদের মাঝে। আমি বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মরতদের নিকট বিনীত অনুরোধ করছি, তারা যেনো আমাদের লাশগুলো ফেরত দেয়।

একই দুর্ঘটনায় নিহত হন ভাটরা ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ির আবুল হোসেন খোকার ছেলে গাড়ি চালক হোসেন মোহাম্মদ জিলানী বাবর (৩০)।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়