প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৭
জানুয়ারিতেই ইউপি নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীদের শোডাউন
গ্রুপিং ঠেকাতে চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির কঠোর নির্দেশ

আগামী বছরের শুরুতেই সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ধাপে ধাপে দেশের ইউপিগুলোতে ভোটগ্রহণ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।
|আরো খবর
ইসি সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারির শুরুতে প্রথম ধাপের নির্বাচন শুরু করা গেলে পবিত্র রমজান মাসের আগেই অন্তত তিনটি ধাপে দেশের প্রায় দুই হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। সম্প্রতি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
নির্বাচন কমিশনের এমন সংকেতের পর থেকেই তৃণমূল রাজনীতিতে বইছে তীব্র নির্বাচনী হাওয়া। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিশেষ করে চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দলীয় সমর্থন পেতে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মোটরসাইকেল শোডাউন, গণসংযোগ ও বলয় তৈরির প্রতিযোগিতায় মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
মাঠে প্রার্থীরা, শোডাউনের ধুম :
চাঁদপুর সদর ও আশপাশের ইউনিয়নগুলোতে নিজস্ব বলয় ও জনপ্রিয়তা জানান দিতে মাঠে নেমেছেন একাধিক প্রার্থী। প্রতিটি ইউনিয়নেই বিএনপির ৩ থেকে ৬ জন, এমনকি ততোধিক হেভিওয়েট নেতা চেয়ারম্যান পদের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৯নং বালিয়া ইউনিয়নে বিশাল মোটরসাইকেল শোডাউন করেছেন বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন রুবেল। দলীয় সমর্থন পাওয়ার প্রত্যাশায় ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে নিয়ে তিনি নিজের অবস্থান জানান দেন।
একইভাবে ১০নং লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন স্থানীয় বিএনপির হাফ ডজনেরও বেশি নেতা—হাজী বেলায়েত মাঝি, ফয়েজ বেপারী, হাফেজ জাকির হোসেন মৃধা, সুমন আহমেদ ভূঁইয়া, নাসির খান ও নুরু পাটোয়ারী। পাশাপাশি যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর আলমও এই ইউনিয়ন থেকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
গ্রুপিং ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল :
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে স্থানীয় বলয়কে কেন্দ্র করে বিরোধ চাঙ্গা হচ্ছে। ১১নং ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে প্রার্থী হওয়া নিয়ে দু ভাই চান্দু ও বাদশা চৌকিদারের মধ্যকার বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের মধ্যকার এই মুখোমুখি অবস্থানের খবরে তোলপাড় চলছে স্থানীয় রাজনীতিতে।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় মাঠে অন্যান্য দলের উপস্থিতি কম হলেও বিএনপির অভ্যন্তরীণ এই লড়াই এখন তুঙ্গে।
উপজেলা বিএনপির জরুরি সভা ও কঠোর নির্দেশনা :
এমন পরিস্থিতিতে দলীয় কোন্দল রোধ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপি। চাঁদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের নির্দেশনায় উপজেলা বিএনপি সম্প্রতি সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ‘সুপার ফাইভ’ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা ডেকেছে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালীর পরিচালনায় উক্ত সভায় আগামী ইউপি নির্বাচনের রূপরেখা ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিশৃঙ্খলা এড়াতে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—"দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আগে কোনো সম্ভাব্য প্রার্থীর সাথে নির্বাচনী প্রচারণায় পদ-পদবীধারী বা নিজ নিজ কমিটির কেউ অংশ নিতে পারবেন না।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জেলা ও উপজেলা বিএনপির এই কঠোর পদক্ষেপে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল কতোটা নিয়ন্ত্রণে আসে, তা-ই এখন দেখার বিষয়। তবে নির্বাচন যতো এগোবে, চাঁদপুরের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক উত্তাপ যে আরও বাড়বে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








