শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১২

বই-খাতা হাতে নতুন স্বপ্নের বুনন

ঝরে পড়া রোধে চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের অনুকরণীয় উদ্যোগ

ঝরে পড়া রোধে চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের অনুকরণীয় উদ্যোগ
আব্দুল্লাহ আল মামুন

‘অভাব যেন মেধার বিকাশকে থমকে দিতে না পারে’—এই মানবিক চেতনাকে ধারণ করে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রশাসন। পারিবারিক অসচ্ছলতা ও নানা প্রতিকূলতায় থাকা মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন নির্বিঘ্ন করতে এক বছরের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ১৪ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে এইচএসসি পর্যায়ের প্রয়োজনীয় বই, খাতা, কলম ও পেন্সিলসহ শিক্ষাসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে এসব উপকরণ তুলে দেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।

উপকারভোগী শিক্ষার্থীদের একজন শাহেদ হোসেন। পুরান বাজার পূর্ব রঘুনাথপুর হাজী আব্দুল করিম খান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে শাহেদ বর্তমানে চাঁদপুর সরকারি কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় অধ্যয়নরত। নানা অভাব-অনটনের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছে সে।

উপজেলা প্রশাসনের এই উপহার হাতে পেয়ে শাহেদসহ অন্য শিক্ষার্থীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তারা জানায়, জেলা প্রশাসকের হাত থেকে এই সাহায্য গ্রহণ করতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। একটি বই শুধু পড়ার উপকরণ নয়, অনেক সময় তা একজন শিক্ষার্থীর পড়াশোনার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখে। ভালোভাবে পড়াশোনা শেষ করে ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়ে দেশের সেবা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তারা উপজেলা প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানায়।

অনুষ্ঠানে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম এন জামিউল হিকমা বলেন, “মেধাবী কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা যাতে অর্থাভাবে বন্ধ না হয়ে যায়, সেই চিন্তা থেকেই এই উদ্যোগ। নির্বাচিত ১৪ জন শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য প্রয়োজনীয় সব শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হয়েছে। এই সাহায্য পাওয়ার যোগ্য অন্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও যাচাই-বাছাই শেষে সারাবছর এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”

ঝরে পড়া রোধে সমাজের বিত্তবান ও বিভিন্ন সংগঠনকে অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান ইউএনও। একই সঙ্গে এই ধরনের সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগগুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তিনি।

অনুষ্ঠান-সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষাসামগ্রী বিতরণের এই পদক্ষেপ কেবল সাময়িক সাহায্য নয়; বরং ঝরে পড়া রোধ করে একটি পরিবার ও সমাজকে বদলে দেওয়ার স্থায়ী বিনিয়োগ। শাহেদদের হাতে তুলে দেওয়া এই বই-খাতা হয়তো অতি সাধারণ উপহার, কিন্তু এর মধ্য দিয়ে যে স্বপ্নের বীজ বোনা হলো, তা ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়