প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৪৩
শিক্ষার্থীদের সাইবার নিরাপত্তায় ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে দিনব্যাপী কর্মশালা

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের উদ্যোগে এবং সেন্টারের পরিচালক ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রুবাইয়াত ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
|আরো খবর
'স্মার্ট, নিরাপদ ও সুরক্ষিত : স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহারিক সাইবার নিরাপত্তা' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে 'তরুণদের জন্য সাইবার সচেতনতা (সিএসসি) ২০২৬' শীর্ষক এ কর্মশালা আয়োজিত হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিলো শিক্ষার্থীদের মাঝে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ গড়ে তোলা এবং অনলাইন ঝুঁকি মোকাবিলার বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান প্রদান করা।
কর্মসূচিতে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাহিম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রায় ৯০ জন শিক্ষার্থী ও ২০ জনের বেশি শিক্ষক অংশ নেন। দিনব্যাপী বিভিন্ন সেশন ও আলোচনার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপদ ডিজিটাল জীবনযাপন বিষয়ে সচেতন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স হলে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. ফখরে হোসেন, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. ইমরান মাহমুদ এবং সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের পরিচালক ড. রুবাইয়াত ইসলাম।
কর্মসূচির একটি বিশেষ সেশন ছিল 'সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম অ্যান্ড ডিজিটাল ক্রাইম' (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল অপরাধ)। এতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর, সাইবার অপরাধ তদন্তকারী ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অপরাধ, ডিজিটাল প্রতারণা এবং সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
এছাড়া 'ফিনটেক স্ক্যাম' (আর্থিক প্রযুক্তি প্রতারণা) শীর্ষক সেশনে এইচএসবিসি বাংলাদেশের সাইবার সিকিউরিটি প্রধান মো. সাইফুল ইসলাম রাজীব অনলাইন আর্থিক প্রতারণা ও নিরাপদ লেনদেনের উপায় তুলে ধরেন। 'অনলাইন বুলিং, হ্যারাসমেন্ট অ্যান্ড ফেক নিউজ' (অনলাইন নিপীড়ন, হয়রানি ও ভুয়া খবর) সেশনে উদ্যোক্তা এফ. এম. সারওয়ার হোসেন ভুয়া তথ্যের প্রভাব ও দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
সেশনগুলোর পাশাপাশি ক্যাম্পাস ভ্রমণ ও উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয়। বাস্তব জীবনের উদাহরণ ও ইন্টারঅ্যাকটিভ উপস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সাইবার নিরাপত্তার মৌলিক ধারণাগুলো সহজভাবে বোঝানো হয়। এছাড়া সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার কর্তৃক প্রস্তুতকৃত বিশেষ তথ্যপত্র (লিফলেট) বিতরণ করা হয়, যেখানে সাইবার নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ও পরিভাষার পরিচিতি তুলে ধরা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদপত্র এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা, অনলাইন প্রতারণা শনাক্তকরণ এবং একটি সচেতন ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।








