প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:৪৩
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বিস্তারে চাঁদপুরে বিশেষ প্রণোদনা
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ কিনবে সরকার

টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে চাঁদপুরে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ (রুফটপ সোলার) স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রাহকরা নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরকারের কাছে বিক্রি করার সুযোগ পাবেন।
|আরো খবর
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১১টায় চাঁদপুর বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সম্মেলন কক্ষে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্তি বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় চাঁদপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান ভূঞা জানান, বর্তমান বাজারদর ও বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন দরপত্রের মূল্য বিবেচনায় ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রতি ইউনিট সর্বোচ্চ ৮ টাকা ধরা হয়েছে। তবে বিশেষ প্রণোদনার আওতায় উৎপাদন ব্যয়ের ওপর ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১.২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যুক্ত করে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কোনো গ্রাহক যদি নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে কম খরচে সিস্টেম স্থাপন করতে পারেন, তবে সাশ্রয়কৃত অর্থ গ্রাহকের অতিরিক্ত লভ্যাংশ হিসেবে গণ্য হবে। হাইব্রিড সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যাটারি সুবিধা থাকায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করে নিজস্ব প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে এবং অতিরিক্ত অংশ বিদ্যুৎ বিভাগে বিক্রি করা যাবে। প্রতি ১ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য প্রায় ৬০ বর্গফুট জায়গার প্রয়োজন হবে এবং এতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দেবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।
নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, "২০৩০ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্য পূরণে সরকারি স্থাপনার পাশাপাশি ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও এই কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে। যে জেলায় ব্যবসা নিবন্ধিত, সেই জেলায় আবেদন করলে সার্ভিস প্রোভাইডাররা সর্বোচ্চ ৪০ নম্বর পাওয়ার সুযোগ পাবেন। আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৮ পর্যন্ত এতে তালিকাভুক্ত হওয়া যাবে।" আগ্রহীদের চাঁদপুর নতুন বাজারে অবস্থিত চাঁদপুর বিদ্যুৎ বিভাগ কার্যালয়ে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথি চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়লে মূল জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যম কার্যকর ভূমিকা রাখবে। একই সাথে তিনি প্রি-পেইড মিটারে অতিরিক্ত বিভিন্ন চার্জ কাটার বিষয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ পর্যালোচনার আহ্বান জানান।
সভায় চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফ, চাঁদপুর চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জিএম গোবিন্দ আগরওয়ালা, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জিএম মো. আতিকুজ্জামান চৌধুরীসহ বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
সভাশেষে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান ভূঞা চাঁদপুরের সকল বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের মালিকদের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
ডিসিকে/ এমজেডএইচ








