শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৫

‘বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করুন’— হুজুগ নয়, সেবার দ্বারে উন্মুক্ত বার্তা হাজীগঞ্জের ইউএনও’র

চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট
‘বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করুন’— হুজুগ নয়, সেবার দ্বারে উন্মুক্ত বার্তা হাজীগঞ্জের ইউএনও’র

সরকারি কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে প্রবেশ বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে কঠোর নিয়মকানুনের কড়াকড়ি আর পিয়নের অনুমতির অপেক্ষা। আমলাতান্ত্রিক এই চিরাচরিত দেয়াল ভেঙে এক ব্যতিক্রমী বার্তা দিয়ে নজির গড়েছেন হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন। নিজ দপ্তরের দরজায় তিনি স্পষ্ট অক্ষরে টাঙিয়ে দিয়েছেন— ‘বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করুন, ধাক্কা দিন’।

সরকারি সেবাপ্রাপ্তিকে সাধারণ মানুষের জন্য একদম সহজ ও সংকোচহীন করতেই তাঁর এই অভিনব উদ্যোগ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউএনও’র দরজায় টাঙানো সেই ব্যানারের ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে নেটদুনিয়ায় তিনি ব্যাপক প্রশংসায় ভাসছেন। তবে জানা গেছে, ছবিটি বুধবার ভাইরাল হলেও ব্যানারটি বেশ আগেই দরজায় শোভা পাচ্ছে।

সচরাচর সরকারি দপ্তরে গিয়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দারা প্রবেশের ক্ষেত্রে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। ভেতরের অনুমতি মেলানো বা দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকার সেই চিরাচরিত সংকোচ দূর করতেই এমন উন্মুক্ত আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এই তরুণ কর্মকর্তা। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রশাসনের দূরত্ব কমিয়ে বিশ্বাস ও স্বস্তির পরিবেশ তৈরি করছে।

উদ্যোগটির পেছনের ভাবনা জানিয়ে হাজীগঞ্জ ইউএনও মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, “গ্রামের সাধারণ ও বয়োবৃদ্ধ মানুষ অনেক সময় অফিসে এসে ঢুকতে লজ্জা বা দ্বিধা বোধ করেন। ভেতরে কেউ থাকলে বাইরে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেন। বিষয়টা লক্ষ করে আমি আগেই সবাইকে মৌখিকভাবে বলেছিলাম—ভেতরে আসতে কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই। কিন্তু তবুও মানুষের ভেতরের সংকোচ কাটছিলো না। তাই বাধ্য হয়ে সম্প্রতি দরজায় এই ব্যানারটি ঝুলিয়ে দিই, যেন সাধারণ মানুষ বিনা দ্বিধায় নিজ অধিকার নিয়ে সেবার জন্য আসতে পারেন।”

প্রচার পাওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং অর্পিত দায়িত্বের অংশ হিসেবেই বিষয়টি দেখেছেন বলে জানান তিনি। ইউএনও যোগ করেন, “জনগণের সেবা করাই একজন সরকারি কর্মচারীর প্রধান দায়িত্ব। বিষয়টিকে আমি স্বাভাবিকভাবেই দেখেছিলাম, কিন্তু এটি যে রাতারাতি এতোটা ভাইরাল হয়ে যাবে, তা ভাবতে পারিনি।”

ডিসিকে/ এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়