মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৭

বাবুরহাটে পচা মাংস বিক্রেতাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

বিশেষ প্রতিনিধি
বাবুরহাটে পচা মাংস বিক্রেতাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা
বাবুরহাট বাজারে অস্বাস্থ্যকর ও মানহীন মাংস বিক্রি এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না থাকায় মো. খলিল খান নামক মাংস ব্যবসায়ীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

চাঁদপুর শহরতলীর ব্যস্ততম বাবুরহাট বাজারে অস্বাস্থ্যকর ও মানহীন মাংস বিক্রি এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না থাকায় মো. খলিল খান নামে এক মাংস ব্যবসায়ীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) বাবুরহাট বাজারের মাছ ও মাংসের বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হুদা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

অভিযানকালে বাজারের চারটি মাংসের দোকান পরিদর্শনের জন্য গেলে তিনটি দোকান বন্ধ পাওয়া যায়। অপর একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে মাংস বিক্রির প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না থাকা এবং পচা ও মানহীন মাংস বিক্রির অনিয়ম শনাক্ত করা হয়।

এ ঘটনায় পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর ধারা ৮(১) ও ১৩-এর বিধান লঙ্ঘনের দায়ে ধারা ২৪(১) অনুযায়ী ব্যবসায়ী মো. খলিল খানকে ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। আইনের ধারা ৮(১) অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মাংস বিক্রয় স্থাপনা পরিচালনা করা নিষিদ্ধ। আর ধারা ২৪(১) অনুযায়ী আইন বা বিধির কোনো বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হুদা বলেন, মানুষের প্রাণিজ প্রোটিনের চাহিদার একটি বড় অংশ গরুর মাংস থেকে পূরণ হয়। তাই মানুষের জন্য বিক্রি করা মাংস অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ হতে হবে। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মানহীন ও পচা মাংস বিক্রি করছিলেন এবং তার মাংস বিক্রির প্রয়োজনীয় লাইসেন্সও ছিল না। এসব অনিয়মের কারণে তাকে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার জন্য তাকে সতর্ক করা হয়েছে।

পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর উদ্দেশ্যই হলো পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ এবং জনসাধারণের জন্য মানসম্মত ও নিরাপদ মাংস প্রাপ্তি নিশ্চিত করা। আইনে মাংস বিক্রয় স্থাপনা পরিচালনার ক্ষেত্রে লাইসেন্সের বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।

অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. নুরুন্নবী প্রামানিক, ভেটেরিনারি সার্জন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, চাঁদপুর সদর; বিশ্বজিৎ চন্দ্র দাস, সার্টিফিকেট সহকারী, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, চাঁদপুর এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নজরুল ইসলাম।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাবুরহাট চাঁদপুরের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক এলাকা। শহরতলীর এ এলাকায় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস এবং প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ক্রেতা বাজারটি থেকে মাছ, মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কেনেন। ফলে বাজারে নিয়মিত তদারকি এবং এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

তাদের প্রত্যাশা, শুধু মাংসের দোকান নয়, বাবুরহাটের মাছ, মাংস ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের বাজারেও নিয়মিত মান যাচাই ও স্বাস্থ্যবিধি তদারকি অব্যাহত থাকবে।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ডিসিকে/ এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়