প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০০:৪২
চাঁদপুর থেকে সিলেট ও কক্সবাজার রুটে ট্রেন চালুর উদ্যোগে আশার আলো
এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিককে চাঁদপুরবাসীর অভিনন্দন।। দ্রুত বাস্তবায়ন দাবি

চাঁদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি—চাঁদপুর থেকে রাজধানী কমলাপুর, সিলেট এবং পর্যটন নগরী কক্সবাজার রুটে সরাসরি ট্রেন চালুর উদ্যোগ নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। সম্প্রতি চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি আবেদন প্রেরণ করেছেন বলে জানা গেছে। আবেদনে চাঁদপুর থেকে কমলাপুর ও সিলেট রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর পাশাপাশি পূর্বে বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চাঁদপুর থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চলাচলের দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
|আরো খবর
এ উদ্যোগের খবর প্রকাশের পর চাঁদপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে জেলার উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করছেন।
স্থানীয়দের মতে, চাঁদপুর দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর ও ব্যবসায়িক কেন্দ্র হলেও রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে এখনও কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত। রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ সীমিত হওয়ায় প্রতিদিন হাজারো যাত্রীকে নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিশেষ করে চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও চিকিৎসাসেবা প্রত্যাশীদের জন্যে দ্রুত, নিরাপদ ও আরামদায়ক রেলসেবা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।
চাঁদপুর থেকে কমলাপুর রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু হলে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেন পুনরায় চালু হলে যাত্রীচাপও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
অন্যদিকে চাঁদপুর থেকে সিলেট রুটে সরাসরি ট্রেন চালুর দাবি বহু বছরের। বর্তমানে এ রুটে যাতায়াত করতে যাত্রীদের একাধিকবার যানবাহন পরিবর্তন করতে হয়। সরাসরি ট্রেন চালু হলে সিলেট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পারিবারিক যোগাযোগে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সবচেয়ে বেশি আগ্রহের সৃষ্টি করেছে চাঁদপুর থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চালুর সম্ভাবনা। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে প্রতিবছর লাখো মানুষ ভ্রমণ করে। কিন্তু চাঁদপুর থেকে সেখানে যেতে যাত্রীদের বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়। সরাসরি ট্রেন চালু হলে স্বল্প খরচে নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করেন, কক্সবাজারের সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ চালু হলে পর্যটনের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যরও ব্যাপক প্রসার ঘটবে। কৃষিপণ্য, মৎস্যসম্পদ ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন সহজ হবে। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
সামাজিক ও সংস্কৃতি অঙ্গনের প্রতিনিধিরাও এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে চাঁদপুরের যোগাযোগ যত উন্নত হবে, ততই জেলার অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পর্যটনের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক নাগরিক এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে তাঁর এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। একই সঙ্গে দ্রুত প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ট্রেন চালুর ব্যবস্থাগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, শুধু আবেদন প্রেরণ করাই নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্যে ধারাবাহিক তদারকি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নও জরুরি। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের আন্তরিক সহযোগিতায় এ উদ্যোগ সফল হলে চাঁদপুরবাসীর বহুদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিশ্বাস করেন, চাঁদপুর-কমলাপুর, চাঁদপুর-সিলেট এবং চাঁদপুর-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চালু হলে এটি শুধু একটি নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা হবে না; বরং চাঁদপুরের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সংযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এখন চাঁদপুরবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্তগ্রহণ করবে এবং বহু প্রতীক্ষিত এই রেলসেবা বাস্তবে রূপ দেবে। জনগণের দীর্ঘদিনের এ দাবি বাস্তবায়িত হলে চাঁদপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








