শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৬, ০৪:৪১

চাঁদপুর-কুমিল্লা রুটে ঝুঁকি নিয়ে গণপরিবহনে যাত্রীদের যাতায়াত।। দুর্ঘটনার আশঙ্কা

মো. মঈনুল ইসলাম কাজল
চাঁদপুর-কুমিল্লা রুটে ঝুঁকি নিয়ে গণপরিবহনে যাত্রীদের যাতায়াত।। দুর্ঘটনার আশঙ্কা

চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে হাজারো যাত্রী। এছাড়াও তেলের গাড়ির তুলনায় গ্যাসচালিত যাত্রীবাহী বাসে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব না থাকলেও বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের বিরুদ্ধে গ্যাসচালিত যানবাহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেন যাত্রী সাধারণ। সরজমিনে পরিদর্শনে বোগদাদ পরিবহনের গ্যাসচালিত একাধিক বাস পাওয়া গেলেও আইদি পরিবহনের কোনো বাস পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি তেলের সরবরাহে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়। বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে গেলে দেশে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়। এরপর মে মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখলেও জুনে এসে আরেক দফা বাড়ানো হয় তিন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম।

ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত রেখে লিটারে ৫ টাকা বেড়ে কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা ও অকটেন ১৪৫ টাকা করা হয়েছে। কিন্তু গ্যাসের দাম বাড়ানো না হলেও তিন ধরনের জ্বালানির দাম বাড়ানোর সুযোগ নিচ্ছে গ্যাসচালিত গাড়ি মালিক ও চালকরা।

ওই সময়ে প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা হারে ভাড়া বৃদ্ধি করে কুমিল্লা জেলা সড়ক পরিবহন মালিক। যা ২৪ এপ্রিল থেকে কার্যকর করে কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বৃদ্ধি করে ২ টাকা ২৩ পয়সা করা হয়। তারপর থেকে বোগদাদ ও আইদি পরিবহনে যাত্রীরা বর্ধিত ভাড়ায় চলাচল করছে। কিন্তু গ্যাসচালিত বাসের ভাড়া বৃদ্ধি করা না হলেও তেলচালিত গাড়ির মূল্যহারেই গ্যাসচালিত বাসে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়কের দোয়াভাঙ্গা এলাকায় গণপরিবহনের বেশ কয়েকজন চালক ও সুপারভাইজারের সাথে কথা হয়। এ সময় চালক ও সুপারভাইজারদের তথ্যমতে বোগদাদ পরিবহনের একাধিক বাস ডিজেল থেকে গ্যাসে রূপান্তরিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরজমিনে বোগদাদ পরিবহনের কুমিল্লা-ব ১১-০১৩৮ ও ১১-০০৮৭ নম্বরের দুটি বাস গ্যাসচালিত এবং ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-৮৮৩৮ ও ১৪-৮২৮৩ নম্বরের তেলচালিত দুটি বাস চলাচল করতে দেখা গেছে। একই সময়ে একাধিক আইদি পরিবহনের বাস চলাচল করলেও গ্যাসচালিত বাস পাওয়া যায়নি।

সরকারি নীতিমালার বাইরে পুরাতন গাড়িতে গুণগত মান বজায় না রেখে সিলিন্ডার স্থাপন করায় জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে হাজারো যাত্রীর। এতে করে যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা।

এদিকে সরকারি বিধি অনুযায়ী পেট্রোল বা অকটেনচালিত যানবাহনে গ্যাসে রূপান্তরের পর রেজিস্ট্রেশন সনদে জ্বালানির ধরন পরিবর্তন বাধ্যতামূলক নয়, তবে সিলিন্ডারের সঠিক সনদ ও পেপারস্ সাথে রাখতে হবে। অবশ্যই সরকারের রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি বা বিআরটিএ অনুমোদিত ওয়ার্কশপ থেকে করতে হবে।

এছাড়া গাড়িটি যদি আগে ডিজেলচালিত হয়ে থাকে, তবে অবশ্যই বিআরটিএ অফিসে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটে জ্বালানির ধরন পরিবর্তন বা সংশোধন করতে হবে। অথচ এ ধরনের কোনো কার্যক্রম যানবাহনের মালিকপক্ষ করেন, সেটা অনেকটা সন্দেহজনক। আবার করে থাকলেও তা নগণ্য বলে জানান অনেকে।

বোগদাদ পরিবহনের তেলচালিত বাসের চালক তৌহিদুল ইসলাম ও গ্যাসচালিত বাসের সুপারভাইজার শাকিল বলেন, আমাদের কয়েকটি গ্যাসচালিত বাস রয়েছে। এ সময় রাকিবসহ আইদি পরিবহনের একাধিক চালক ও সুপারভাইজার জানান, তাদের পরিবহনে গ্যাসচালিত কোনো বাস নেই।

এদিকে তেলচালিত বাসের জন্যে নির্ধারিত ভাড়া গ্যাসচালিত বাসের যাত্রীদের কাছ থেকে নিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বোগদাদ ট্রান্সপোর্টের ম্যানেজার জসিম উদ্দিন জানান, তাদের বেশ ক'টি বাস সিএনজিতে রূপান্তরিত হয়েছে। তবে নির্ধারিত সংখ্যা তার জানা নেই। তিনি জানান তাদের সার্ভিসের সব বাসের নির্ধারিত ভাড়া এক।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়