প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৪৩
বন্ধুর কবর খুঁড়তে গিয়ে কবরেই মৃত্যু অপর বন্ধুর

বন্ধুত্বের গল্প অনেক পুরানো। সিনেমাতে বন্ধুত্বের অমর গান ও কথামালা নানা কিছু দেখেই অভ্যস্ত হয়ে গেছে অনেকে। সর্বশেষ কয়েক বছর পূর্বে মুসলিম বন্ধুর জানাজার পাশে দাঁড়িয়ে নির্বাক সনাতনি বন্ধুর ছবি সামজিক যোগযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। আবার বর্তমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে অনেক বন্ধুই জুটি বেঁধে ব্লগ করছে। তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে টাকা আয় করছে। কিন্তু চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার কেরোয়া গ্রামের দুই বন্ধু আবুল হাশেম (৯০) ও বাচ্চু পাটওয়ারী (৮৫)-এর বন্ধুত্ব এবং তাদের সম্মিলিত কাজের ধরণ ভিন্ন রকম। তারা একসাথে মানুষের কবর খোঁড়ার কাজ করতেন। কোনোরূপ অর্থ গ্রহণ ছাড়াই মনের আনন্দে এবং জান্নাতের আশায় এই কাজ করতেন দীর্ধদিন ধরেই। অবশেষে দুই বন্ধুর গল্প শেষ হলো উভয়ের মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে। এক বন্ধুর মৃত্যুর পর আরেক বন্ধু তার জন্যে কবর খোঁড়ার সময়ে কবরের মধ্যে নিস্তেজ হয়ে পড়ে গিয়ে মৃত্যুকে বরণ করে নেন। একদিকে হৃদয় বিদারক অন্যদিকে দৃষ্টান্তস্থাপনকারী ঘটনাটি পৌর এলাকার ২নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ কেরোয়া গ্রামে সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) ঘটে।
|আরো খবর
জানা গেছে, আবুল হাশেম (৯০) ও বাচ্চু পাটওয়ারী (৮৫) দুই বন্ধুর সর্ম্পক দীর্ঘদিনের। একজন পূর্বে কাঠ মিস্ত্রি কাজ আরেকজন মসজিদের মুয়াজ্জিন। একসাথে বসে গল্প করতেন, আবার একসাথেই মৃত ব্যক্তিদের কবর খুঁড়তেন। দু জনের কবর খোঁড়ার সংখ্যা শত ছাড়িয়ে গেছে। রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) রাতে একসাথে বসে চা খেয়েছেন, সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) একসাথে মসজিদে ফজরের নামাজও পড়েছেন। কিন্তু সকাল বেলা দুই বন্ধুর একজন বাচ্চু পাটওয়ারী বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। সংবাদ পেয়ে দ্রুত বন্ধুর দাফনের জন্যে অপর বন্ধু আবুল হাশেম কবর খুড়ঁছিলেন। কবর খোঁড়া অবস্থায়ই কবরে নিজেই লুটিয়ে পড়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন। এমনটাই জানিয়েছেন আবুল হাশেমের প্রতিবেশী মুমিন হোসেন পাটওয়ারী, মো. রাসেল হোসেন ও ইব্রাহিম খলিলসহ স্থনীয়রা।
পৌর এলাকার ২নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ কেরোয়া ছৈয়াল বাড়ি জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন আবুল হাশেমের ছেলে জহির হোসেন বলেন, আমার বাবা ও প্রতিবেশী চাচা দুইজনই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। একসাথেই সময় কাটাতেন এবং মানুষ মারা গেলে জান্নাতের আশায় দু’জনেই বিনা পারিশ্রমিকে কবর খুঁড়ে দিতেন। আজ সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) সকালে আমার বাবার বন্ধু বাচ্চু পাটওয়ারী চাচা মারা যান। বাবা আবুল হাশেম কিছুক্ষণ কান্না করে বন্ধুর কবর খুঁড়তে কবরস্থানে চলে যান। আমার জানামতে তারা উভয়েই এই অঞ্চলের শতাধিক কবর খুঁড়েছেন। কিন্তু বন্ধুর কবর খুঁড়তে গিয়ে তিনি নিজেই কবরের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন। আমার বাবা ও তাঁর বন্ধুর জন্যে দোয়া কামনা করছি।বাচ্চু পাটওয়ারীর ভাতিজা নাজির আহমেদ হুমায়ুন পাটওয়ারী বলেন, আবুল হাশেম চাচাসহ বাচ্চু চাচার কবর খুঁড়ছিলাম। কবর খোঁড়ার শেষ পর্যায়ে হঠাৎ করেই হাশেম কাকা কবরে শুয়ে পড়েন। পরে তাড়াহুড়া করে উপরে উঠিয়ে দেখি তিনি নেই। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল হোসেন, ইব্রাহিম খলিল সাকিল, আবু তাহেরসহ অনেকেই জানান, দু বন্ধু ভিন্ন পেশার হলেও তাদের চলাফেরা ছিলো একসাথে। তাদের দু’জনের এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।








