সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৩

এমন গরিবের পেটে লাথি মারলো কে?

কামরুজ্জামান টুটুল
এমন গরিবের পেটে লাথি মারলো কে?

একেবারে চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে থাকা গায়েখাটা কাঠ মিস্ত্রী আবুল খায়ের (৩৫)। দৈনিক মজুরিতে কাজ করে পঙ্গু সন্তানসহ ৫ জনের সংসারে চাল কেনার টাকা কোনোদিন রুজি হয়, কোনোদিন রুজি হয় না। তার মধ্যে কিস্তির দেনা মাথার উপরে ভারী বোঝার মতো। এরই মাঝে দোকানের বেড়া কেটে মিস্ত্রী-কাজের সকল যন্ত্রপাতি নিয়ে যায় কে বা কারা। রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) দিনগত রাতে চুরির ঘটনাটি ঘটে হাজীগঞ্জের বাকিলা পশ্চিম বাজারের ইউনিয়ন পরিষদের পাশে। আবুল খায়ের পাশের গোগরা গ্রামের ভঙ্গা হাজী বাড়ির সেকান্দর আলীর ছেলে। তবে যন্ত্রপাতি মাদকসেবীরা নিয়েছে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন। খায়েরের দোকানের পাশের সকল ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন জনের সাথে কথা বলে জানা যায়, তার মতো নিঃস্ব দোকানী দ্বিতীয়জন আর নেই। সে নিজে অসুস্থ, তার এক সন্তান পঙ্গু, বাকি দু সন্তান ছোট। ৫ জনের সংসারে তার মিস্ত্রী-কাজ ছাড়া আয়ের দ্বিতীয় কোনো পথ নেই। তার ওপরে মাসিক ও সাপ্তাহিক কিস্তি রয়েছে। মূলত কিস্তি উঠিয়ে তিনি তার কাজের যন্ত্রপাতি কিনেছিলেন। গত রোববার দিনগত রাতে দোকানের পেছনের বেড়া কেটে সকল যন্ত্রপাতি নিয়ে যায় চোরের দল। তবে যারা যন্ত্রপাতি নিয়েছে তারা নিশ্চিত মাদবসেবী ছাড়া আর কেউ না। কারণ, এখানে মাদকসেবীর আড্ডা দিনে-রাতে সমানতালে চলে। ক্ষতিগ্রস্ত মিস্ত্রী আবুল খায়ের জানান, রাত সাড়ে ৯ টার দিকে আমার দোকানের রোটার, রানদা মেশিন, ড্রিল মেশিন, গেন্ডিং মেশিন, হাতুড়ি, করাত সব নিয়ে গেছে। কিস্তি উঠিয়ে এ যন্ত্রগুলো কিনেছিলাম। এখন যে কাজ করে চাউল কিনে বাড়িতে নেবো সেই আয়ের পথ বন্ধ। আসছে কাল মঙ্গলবার কিস্তি। এখন আমি কী করবো বলে অঝোরে কান্না শুরু করে দেন। বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিলন বলেন, আবুল খায়েরের যন্ত্রপাতি চুরির কথা আমাকে জানানো হয়েছে। তার মতো নিঃস্ব দিনমজুরের পেটে যারা লাথি মারলো তারা মানুষের মধ্যে পড়ে না।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়