মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:১৮

মতলবে শতবর্ষী মন্দিরে অবৈধ কারখানা উচ্ছেদের দাবি

​মতলব উত্তর ব্যুরো।।
মতলবে শতবর্ষী মন্দিরে অবৈধ কারখানা উচ্ছেদের দাবি

মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর বাজারের শতবর্ষী ‘শ্রী শ্রী কালাচাঁদ বিগ্রহ মন্দির’ প্রাঙ্গণে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে চলা অবৈধ মিষ্টির কারখানা উচ্ছেদ এবং মন্দিরের ধর্মীয় পরিবেশ পুনরুদ্ধারের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মন্দিরের বর্তমান সভাপতি যুধিষ্ঠি বাড়ৈ স্বাক্ষরিত এই আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ১৭২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন মন্দিরের ভেতরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেআইনিভাবে বাণিজ্যিক কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে, যা বর্তমানে মন্দির ও স্থানীয় ভক্তদের জন্যে চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে মন্দিরের সহ-সভাপতি সুধির দেবনাথ বলেন​, মন্দিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুকোমল বাড়ৈ বিগত সরকারের আমলে নিয়মবহির্ভূতভাবে গোপাল দাস ও খগেন্দ্র চক্রবর্তীর মালিকানাধীন দুটি মিষ্টির কারখানা মন্দির চত্বরে স্থাপন করেন। এই কারখানাগুলোর মাধ্যমে মন্দিরের আয় থেকে ২০ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া কারখানার ধোঁয়া ও বর্জ্যের কারণে মন্দিরের পরিবেশ ও পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে। কারখানা সচল রাখতে মন্দিরের গেট গভীর রাত পর্যন্ত খোলা রাখা হয়, যার সুযোগ নিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণ এখন মাদকসেবী ও অসামাজিক কার্যকলাপের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।

​মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক মনোরঞ্জন দেবনাথ বলেন, কারখানার শ্রমিক ও বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াতের ফলে মন্দিরের দানবাক্স ভেঙ্গে চুরির ঘটনা ঘটছে। এমনকি 'মলম পার্টি' বা 'অজ্ঞান পার্টি'র খপ্পরে পড়ে অনেক নারী ভক্ত তাদের স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ হারিয়েছেন। জায়গার অভাবে ভক্তরা ঠিকমতো পূজা-অর্চনা করতে পারছেন না এবং শব্দ দূষণের ফলে শান্তিতে প্রার্থনা করাও দুরূহ হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মন্দিরের ঐতিহ্য ও পবিত্রতা রক্ষায় দ্রুত তদন্তপূর্বক অবৈধ কারখানা উচ্ছেদ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ বিষয়ে মন্দিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুকোমল বাড়ৈকে একাধিকবার ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, মন্দিরের বর্তমান এবং সাবেক দুই কমিটিকে নিয়েই বসেছিলাম। আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলে বর্তমান কার্যকরী কমিটি যদি চায় তারা উন্নয়নমূলক কাজ করবে, তাতে কেউ বাধা দিলে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়