মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে ৩ ডাকাত গ্রেফতার। পিকআপ সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ২৩:০০

দ্বিতীয় দিন অনেক স্কুলে খাবার দেয়া হয়নি

মতলবে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মিড-ডে মিল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

মতলবে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মিড-ডে মিল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ
রেদওয়ান আহমেদ জাকির

মতলব দক্ষিণ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে চালু হওয়া স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মিড-ডে মিল-এর আওতায় সপ্তাহে ৫ দিন পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের কথা থাকলেও খাবার বিতরণে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

নির্ধারিত সাপ্তাহিক খাদ্য তালিকা অনুযায়ী সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) শিক্ষার্থীদের জন্য বান/রুটি ও দুধ (টঐঞ গরষশ) সরবরাহ করার কথা। সোমবার উপজেলার মতলব মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরনিলক্ষ্মী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দিঘলদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে শুধুমাত্র শুকনো বনরুটি বিতরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার আরও বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত খাবার তো দূরের কথা, কোনো খাবারই পায়নি। বিশেষ করে পশ্চিম আচলচিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর নওগাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মিড-ডে মিল থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে বেশ ক'টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ জানান।

পশ্চিম আচলছিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আজ আমাদের বিদ্যালয়ে কোনো খাবার দেয়নি। প্রত্যাশা এনজিওর কো-অর্ডিনেটরকে ফোন দিলে তিনি জানান, আগামীকাল দুই দিনের খাবার একসাথে দিয়ে দিবে বলে জানিয়েছে। আমি এ বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অবগত করেছি।

এছাড়া উত্তর নওগাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল বারী জানান, আমার বিদ্যালয়ে কোনো খাবার আসেনি। দু দিনের খাবার আগামীকাল একসাথে দিবে বলেছে।

চরনিলক্ষ্মী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুন নাহার বকুল জানান, বেলা ২টায় শুধু শুকনো রুটি পেয়েছি।

উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হাইয়ের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপাদী দক্ষিণ ও উপাদী উত্তর ইউনিয়নের বেশ ক'টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছে, তারা আজ কোনো খাবার পাননি।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি মতলব দক্ষিণের সভাপতি সোহরাব হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হাসান মামুন জানান, বিদ্যালয়গুলোতে খাবারে শুকনো বনরুটি বিতরণ করা হয়েছে। কোন্ বিদ্যালয় খাবার পায়নি সেটা অবগত নই।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাজমুন নাহার বলেন, সকাল থেকে বেশ ক'টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাকে বিষয়টি অবগত করলে আমি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করে খাবার পৌঁছে দেয়ার জন্যে বলেছি। পরবর্তীতে ওই বিদ্যালয়গুলোতে খাবার দিয়েছে কিনা আমি সে ব্যাপারে অবগত নই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম ইশমাম এ বিষয়ে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

জানা যায়, মতলব দক্ষিণ উপজেলায় মোট ১১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এর মাধ্যমে উপজেলার প্রায় ১৬ হাজার ৬২০ জন শিক্ষার্থীর পুষ্টিকর খাবার পাওয়ার কথা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশব্যাপী প্রায় ১৫৯টি উপজেলার ৩১ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পে ফর্টিফাইড বিস্কুটসহ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সমৃদ্ধ খাবার সরবরাহের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা হবে।

উল্লেখ্য, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বৃদ্ধি করা। তবে বাস্তবায়নে এমন অনিয়ম চলতে থাকলে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়